• ভোট পরবর্তী হিংসা  বিজেপি নেতার পেট্রল পাম্প ও বাড়ি ভাঙচুরের ঘটনা প্রাক্তন বিধায়কের বিরুদ্ধে এফআইআর
    বর্তমান | ২২ মে ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, সিউড়ি: ২০২১সালের বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর অশান্তির ঘটনায় বীরভূমের তিন প্রভাবশালীর বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা রুজু করল মহম্মদবাজার থানার পুলিশ। থানায় দায়ের হওয়া এই অভিযোগে নাম রয়েছে ব্লক সভাপতি তাপস সিনহা, পাথর ব্যবসায়ী টুলু মণ্ডল এবং তৃণমূলের প্রাক্তন বিধায়কের। ওইবছর ৪মে মহম্মদবাজার এলাকার একটি পেট্রল পাম্পে সংগঠিত হামলা, অগ্নিসংযোগের চেষ্টা এবং খুনের চেষ্টার অভিযোগে এই মামলা শুরু হয়েছে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে খুনের চেষ্টা, বোমাবাজি এবং বিস্ফোরক আইন সহ একাধিক জামিন অযোগ্য ধারায় মামলা শুরু করেছে পুলিশ।

    বিজেপির তত্কালীন জেলা কমিটির সদস্য তথা ওই পেট্রল পাম্পের মালিক দেবরঞ্জন রায় এই অভিযোগ দায়ের করেছেন। তাঁর স্ত্রী মণিকা রায়ও বিজেপির মহিলা মোর্চার জেলা সম্পাদিকা। দেবরঞ্জনবাবুর অভিযোগ, ভোটের সময় তিনি লাভপুর বিধানসভার নির্বাচনের দায়িত্বে ছিলেন। সেকারণেই তাঁকে ‘টার্গেট’ করা হয়। ফলাফল ঘোষণার দিন তিনি বোলপুরের গণনাকেন্দ্রে উপস্থিত ছিলেন। সেখান থেকেই তিনি জানতে পারেন, তাঁর পাম্প এবং বাড়িতে হামলার ছক কষা হয়েছে। তড়িঘড়ি বাড়িতে ফিরে তিনি দেখেন, তাঁর বাসভবন লক্ষ্য করে সমানে ইটবৃষ্টি এবং বোমাবাজি করা হচ্ছে। অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, বাড়ির পরেই মহম্মদবাজার-সাঁইথিয়া রোডের উপর থাকা তাঁর পেট্রল পাম্পে হামলা চালায় একদল সশস্ত্র দুষ্কৃতী। লোহার রড, লাঠি এবং ধারালো অস্ত্র নিয়ে পাম্পের অফিসে ব্যাপক ভাঙচুর চালানো হয়। গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র নষ্ট করার পাশাপাশি সেখানে আগুন দেওয়ারও চেষ্টা করা হয়েছিল বলে অভিযোগকারীর দাবি। দেবরঞ্জনবাবুর বক্তব্য অনুযায়ী, তাঁর পাম্পের অদূরে পাথর ব্যবসায়ী টুলু মণ্ডলের ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান থেকেই এই হামলা চালানো হয়েছিল। তিনি ফোন করে ব্যবসায়ীর সাহায্য চেয়েছিলেন। কিন্তু টুলু মণ্ডল তাঁকে স্পষ্ট জানিয়েছিলেন, ‘অর্ডার’ মেনেই এই ভাঙচুর চালানো হচ্ছে। অভিযোগকারীর দাবি, গোটা ঘটনাটি ছিল অত্যন্ত পরিকল্পিত। প্রাক্তন বিধায়ক এবং ব্লক সভাপতির কথাতেই এই আক্রমণ।

    তৎকালীন প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও অভিযোগ তুলেছেন বিজেপি নেতা দেবরঞ্জনবাবু। তাঁর দাবি, একুশের সেই অশান্তির সময় তিনি বারবার মহম্মদবাজার থানায় যোগাযোগ করলেও পুলিশের কোনো সহযোগিতা পাননি। উলটে এক পুলিশ আধিকারিক তাঁকে বলেছিলেন, বাড়িতে বিজেপির পার্টি অফিস করার কারণেই এই পরিণতির সম্মুখীন হতে হচ্ছে তাঁকে। দেবরঞ্জনবাবুর দাবি, পুলিশের এই চরম অসহযোগিতা এবং তৎকালীন শাসকদলের ভয়ে তিনি এতদিন আইনি পদক্ষেপ করতে পারেননি। রাজ্যে রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর নতুন সরকার কড়া বার্তা দেওয়ায় তিনি অভিযোগ জানানোর সাহস পেয়েছেন।

    এইসমস্ত অভিযোগকে ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে উড়িয়ে দিয়েছেন অভিযুক্তরা। প্রাক্তন বিধায়ক বলেন, ‘মহম্মদবাজারের ঘটনার সঙ্গে আমার কোনো সম্পর্ক নেই। রাজনৈতিক চক্রান্ত করে এই মামলায় আমাকে জড়ানো হচ্ছে।’ তাপসবাবুর ফোন বন্ধ থাকায় তাঁর প্রতিক্রিয়া মেলেনি। পাথর ব্যবসায়ীর সঙ্গে যোগাযোগ করা যায়নি। তৃণমূলের জেলা সহ সভাপতি মলয় মুখোপাধ্যায়ের প্রশ্ন, পাঁচ বছর পর কেন এই অভিযোগ করা হচ্ছে? তাঁর মতে, সেইসময় পুলিশ অসহযোগিতা করলে আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার সুযোগ ছিল। কিন্তু, অভিযোগকারী তা করেননি। তাই অভিযোগের সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠবেই। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে।
  • Link to this news (বর্তমান)