• শিল্পায়ন নীতি-নির্ধারণে সময় চান মুখ্যমন্ত্রী
    বর্তমান | ২২ মে ২০২৬
  • সুমন তেওয়ারি, দুর্গাপুর:  রাজ্যে শিল্পায়ন নিয়ে হঠকারি কোনো সিদ্ধান্ত নিতে নারাজ নতুন সরকার। বরং রাজ্যবাসীর কাছে দুই থেকে তিন মাস সময় চেয়ে নিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বৃহস্পতিবার শিল্পাঞ্চল দুর্গাপুরে দক্ষিণবঙ্গের পাঁচ জেলা  পূর্ব ও পশ্চিম বর্ধমান,বীরভূম, বাঁকুড়া এবং পুরুলিয়ার পুলিশ-প্রশাসন, বিধায়ক ও মন্ত্রিসভার সদস্যদের নিয়ে বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী। স্বাভাবিকভবেই এই বৈঠক থেকে শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থান নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী কি বার্তা দেন, সে দিকে নজর ছিল সবার। কিন্তু কোনো চমকের পথে হাঁটেননি শুভেন্দু। নতুন শিল্প কিংবা শিল্পের পুনর্জীবন নিয়ে সরকারের পরিকল্পনা কি হতে পারে, তার জন্য কিছুটা সময় চেয়েছেন তিনি। পাশাপাশি স্পষ্ট করে দিয়েছেন, শিল্পায়ন প্রসঙ্গে ভাঁওতা আশ্বাস দিয়ে হাততালি কুড়ানোর পাত্র নন বাংলার নতুন মুখ্যমন্ত্রী। শিল্পাঞ্চলে অবস্থিত বিভিন্ন কেন্দ্রীয় সরকারি সংস্থার সঙ্গে হাত ধরাধরি করে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনাতেই নীতি নির্ধারণ করবে তাঁর সরকার। শুভেন্দুর কথায়, ‘আমাদের দু-তিন মাস আপনারা সময় দিন। জেলার ন’জন বিজেপি বিধায়ক শিল্পের প্রসঙ্গ তুলেছিলেন। আসানসোল, চিত্তরঞ্জন, অন্ডাল থেকে দুর্গাপুর পর্যন্ত এলাকাটিকে পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে। এখানে সেইল ও অন্যান্য সরকারি সংস্থা রয়েছে। কেন্দ্র ও রাজ্য যৌথ উদ্যোগে এখানে কীভাবে শিল্পের জোয়ার আনা যায়, সেটা দেখছি। কীভাবে বিকল্প কর্মসংস্থানের সুযোগ দিতে পারি, সেটাও আমাদের পরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে। তবে, আমরা হাততালি কুড়ানোর জন্য দেউচা পাচামির মতো মিথ্যা কথা বলি না, বলবও না। আমরা অবস্থান হল কথা কম, কাজ বেশি। যা বলব, ভেবে বলব। আর যেটা বলব, সেটা করে দেখাব।’

    শিল্পাঞ্চলে এসে অবৈধ কয়লা, বালি পাচার প্রসঙ্গেও মুখ খুলেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘অন্যায়, পকেটমারি, সিন্ডিকেট, তোলাবাজি, কাটমানি বন্ধ হল কিনা, তার খোঁজও নেওয়া হচ্ছে নিয়মিত। সরকারের ঘরে রাজস্ব আসছে, নাকি লিকেজ হয়ে যাচ্ছে, সেটাও দেখা হচ্ছে। তবে এই কয়েকদিনে একটা জিনিস আমরা লক্ষ্য করছি, বীরভূমের পাথর খাদান থেকে প্রতিদিন ৩০ লক্ষ টাকা রাজস্ব আসত। এখন সেটা ২ কোটি ৩০ লক্ষ হয়ে  গিয়েছে। ওখানে  রেভিনিউ লিকেজ ছিল দিনে ৫ কোটি। তার মানে মাসে ১৫০ কোটি, বছরে ১৮০০ কোটি। কতটা বিপুল পরিমাণ রাজস্ব লিকেজ হয়েছে, তা এই তথ্যে স্পষ্ট। এটা একটা উদাহরণ মাত্র। এমন অবস্থা সব জায়গায়। পশ্চিম বর্ধমান, পূর্ব বর্ধমানে বালিতেও ভয়ঙ্কর অবস্থা।’

    এদিন বালির দাম নিয়ন্ত্রণ নিয়েও প্রশাসনিক বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা বলে দিয়েছি, প্রয়োজন হলে বালির দাম বেঁধে দিন। যাতে এই অবৈধ ঘাট বন্ধের সুযোগ নিয়ে ৮ হাজারের বালি ১৬ হাজার টাকায় বিক্রি না হয়। সাধারণ গরিব মানুষের কাছে বিজেপি সরকারের ভাবমূর্তি খারাপ করতে একটা চক্র কাজ করতে পারে। প্রশাসনকে বিষয়টি অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে দেখতে বলা হয়েছে। আধিকারিকরা যাতে দ্রুত মেসেজ পেয়ে যায়, তাই তড়িঘড়ি এই মিটিং। এমন মিটিং আরও কয়েকটা হবে।’

    এদিন দুপুর সাড়ে তিনটে থেকে প্রায় সাড়ে পাঁচটা পর্যন্ত বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী। বৈঠক শেষ হওয়ার পর কিছু ব্যবসায়িক সংগঠনের সঙ্গেও তিনি দেখা করেন। বৈঠকস্থল থেকে বেরিয়ে পুরনো দিনের বিজেপি নেতাকর্মীদের সঙ্গে করমর্দন করেন শুভেন্দু। দুপুরে প্রবীণ বিজেপি নেতা পবন সিংকে দেখে জড়িয়ে ধরে বলেন, ‘উনি এই এলাকায় প্রথম বিজেপি করতেন।’ বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বাঁকুড়ার জেলার বিধায়ক তথা রাজ্যের অনগ্রসর শ্রেণিকল্যাণ মন্ত্রী ক্ষুদিরাম টুডুও।  দুর্গাপুরে প্রশাসনিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী।-নিজস্ব চিত্র
  • Link to this news (বর্তমান)