নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা ও চুঁচুড়া: চলতি মরশুমে আরও একটি নতুন রেকর্ডের সাক্ষী থাকল মাউন্ট এভারেস্ট। বুধবার নেপালের দিক থেকে ২৭০ জন পর্বতারোহী ও গাইড বিশ্বের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ জয় করেন। এর আগে একদিনে এতজন এভারেস্টের চূড়ায় ওঠেননি। সব মিলিয়ে চলতি মরশুমে সফল পর্বতারোহেনের সংখ্যা ৫০০ অতিক্রম করল। পাশাপাশি এভারেস্ট জয় করে স্বপ্ন পূরণের আরও কাছাকাছি পৌঁছলেন হুগলির শুভম চট্টোপাধ্যায়।
পর্যটন বিভাগের আধিকারিক খিমলাল গৌতম বলেন, ‘ভোর ৩টে থেকে দপুর ২টো। টানা ১১ ঘণ্টা ধরে পর্বতারোহণ জারি ছিল। ২০১৯ সালের ২২ মে নেপাল থেকে ২২৩ জন পর্বতারোহী এভারেস্টে উঠেছিলেন। এতদিন পর্যন্ত সেটাই ছিল বিশ্বরেকর্ড। বুধবার সেই রেকর্ড ভেঙে গেল। এটা সত্যিই ঐতিহাসিক।’ মরশুমের শুরুতে খারাপ আবহাওয়ার কারণে একাধিক অভিযান পিছিয়ে যায়। বুধবার পরিস্থিতি অনুকূল থাকায় এভারেস্টের কাছে ভিড় জমান পর্বতারোহীরা। অনেকে হাড় কাঁপানো ঠান্ডায় ‘ডেথ জোন’-এ দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকেন। সংশ্লিষ্ট অঞ্চলটির উচ্চতা সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৮ হাজার মিটারের বেশি। অক্সিজেন কম থাকায় প্রাণহানির ঝুঁকি অনেকটা বেশি থাকে। এহেন অবস্থায় একদিনে বিপুল সংখ্যক পর্বতারোহীর এভারেস্টে ওঠা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বিশেষজ্ঞ মহল।
এভারেস্টজয়ীদের দলে ছিলেন হিন্দমোটরের শুভম চট্টোপাধ্যায়। তাঁর এভারেস্ট শৃঙ্গ জয়কে কেন্দ্র করে হইচই শুরু হয়েছে হুগলিজুড়ে। শুভেচ্ছা জানিয়েছেন আরেক এভারেস্ট বিজয়ী পিয়ালি বসাক। শুভম ঘরে ফিরলে তাঁর জন্যে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজনের পরিকল্পনা করে রেখেছে উত্তরপাড়া পুরসভাও। কার্যত বিরল এক নজির ছোঁয়ার চেষ্টা করছেন শুভম। যা নিয়ে ইতিমধ্যেই উত্তরপাড়া তো বটেই জেলাজুড়ে চর্চা শুরু হয়েছে। প্রসঙ্গত, হিন্দমোটরের শুভম এপ্রিলে এভারেস্ট জয়ের লক্ষ্যে রওনা হয়েছিলেন। বুধবার তিনি এভারেস্টের শৃঙ্গ ছুঁয়েছেন। তাঁর স্বপ্ন সবচেয়ে কম বয়সে এবং কম সময়ে পৃথিবীর সাতটি মহাদেশের সাতটি উচ্চতম শৃঙ্গ ও সাতটি আগ্নেয় পর্বতের শিখর ছুঁয়ে ফেলা। তা তাঁকে গোটা পৃথিবীতে বিরল রেকর্ডের অধিকারী করবে। বুধবার এভারেস্ট চূড়া ছুঁয়ে শুভম বলেন, এবার যেন স্বপ্নটাকে ছুঁয়ে দেখতে পারছি। আর দু’টো ধাপ পেরিয়ে যাওয়া বাকি। উত্তরপাড়া পুরসভার চেয়ারম্যান দিলীপ যাদব বলেন, ছেলেটা একের পর এক কাণ্ড করে যাচ্ছেন। আমরা উত্তরপাড়ার মানুষ হিসাবে গর্বিত। হিন্দমোটরের স্টার্টআপ সংস্থার মালিক শুভম ২০২৪ সালে নিজের স্বপ্ন পূরণের প্রথম ধাপে পা রেখেছিলেন। সেই বছর ফেব্রুয়ারিতে আফ্রিকার সর্বোচ্চ শৃঙ্গ মাউন্ট কিলিমানজারো জয় করেন। এভারেস্টের পরে রইল বাকি দুই, আমেরিকার ডেনলি আর এশিয়ার দামাবন্দ। এদিকে, পাঁচদিনের কম সময়ে এভারেস্ট, লোতসে ও নুপ্তসে জয় করে নজির সৃষ্টি করলেন তেনজিং ডেভিড শেরপা। পর্বতারোহীদের ভাষায় এই অভিযানকে ‘ট্রিপল ক্রাউন’ বলা হয়। ১৭ মে নুপ্তসে জয় করেন ডেভিড। ২০-২১ মে এভারেস্ট ও লোতসের চূড়া স্পর্শ করেন তিনি।