• জনরোষ ও এনকাউন্টারের ভয়, থানায় গিয়ে আত্মসমর্পণের আর্জি অপরাধীদের
    বর্তমান | ২২ মে ২০২৬
  • শুভ্র চট্টোপাধ্যায়, কলকাতা: যে অপরাধীরা তৃণমূল জমানায় পুলিশকে চমকাত, তারাই এখন জনরোষের হাত থেকে বাঁচতে থানায় গিয়ে আত্মসমর্পণের জন্য আকুতি করছে। অফিসারদের কাছে একটাই আর্জি, অন্তত ছ’মাসের জন্য জেলে পাঠিয়ে দেওয়া হোক। প্রয়োজনে জুড়ে দেওয়া হোক আর্মস কেস। কিন্তু বাইরে থাকব না। যোগীরাজ্যে এই চিত্র  দস্তুর। কিন্তু পালাবদলের পর পশ্চিমবঙ্গে  সেই দৃশ্য এবার উঠে আসছে। 

    তৃণমূল আমলে জেলায় জেলায় অপরাধীদের দৌরাত্ম্য ছিল চরমে। এলাকা দখল থেকে সিন্ডিকট চালানো সবকিছুই তারা নিয়ন্ত্রণ করত। বিভিন্ন জায়গায় দুষ্কৃতী গোষ্ঠী নিজেদের মধ্যে লড়াইতে জড়িয়েছে দখল নিজেদের হাতে রাখতে। পুলিশের নাকের ডগায় আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে অনায়াসে ঘুরে বেড়িয়েছে। তারপরেও তাদের ধরা তো দূর, সেফ প্যাসেজ করে দিয়েছে পুলিশের একাংশ। গ্যাংয়ের সদস্য ধরে আনায় থানায় ঢুকে তাণ্ডব চালিয়েও পার পেয়ে যাওয়ার ঘটনাও বিস্তর ঘটেছে। তৃণমূলের মদত থাকায় ওসি বা আইসির চেম্বারে ঢুকে তাঁদের রীতিমতো হুমকি দিয়ে গিয়েছে। আলিপুর থানায় চড়াও হওয়া দুষ্কৃতীদের হাত থেকে বাঁচতে পুলিশের লুকিয়ে পড়ার ছবি আজও চর্চিত। সে ঘটনায় জড়িতরাও ছিল ধরা ছোঁয়ার বাইরে। হাওড়া সিটি পুলিশের গোলাবাড়ি থানায় ঢুকে ওসির গায়ে হাত দিয়েও পার পেয়ে গিয়েছে কুখ্যাত দুষ্কৃতী আকাশ সিং ও তার দলবল। জঙ্গিপুরে হাঙ্গামার সময় ঘরে ঢুকিয়ে পুলিশকে পেটানোর ছবি এখনও সমাজমাধ্যমে ভাইরাল। বীরভূম, মুর্শিদাবাদ, পূর্ব ও পশ্চিম বর্ধমান সহ বিভিন্ন জেলার কয়লা, বালি,মাটি মাফিয়াদের ধরে এনেও তৃণমূলের মেজো-সেজো নেতার ফোনে তাদের ছেড়ে দিতে হয়েছে পুলিশকে। যা নিয়ে বেজায় ক্ষুব্ধ ছিল পুলিশের একটা বড় অংশ।

    বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, কোনো তোলাবাজি চলবে না। অপরাধীদের গ্রেপ্তার করতে হবে। আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধারে জোর দেবে সমস্ত জেলা।  তারপরই জেলায় জেলায় সিন্ডিকেটের মাথা, গ্যাংস্টাররা গ্রেপ্তার হচ্ছে। ধরা পড়ছে আর্মস। জনরোষের ভয়ে অনেক দুষ্কৃতীই এলাকাছাড়া। এই অবস্থায় দুষ্কৃতীদের সিংহভাগই থানায় এসে ওসিদের কাছে দরবার করছে, স্যার বাইরে থাকতে চাই না। বাইরে থাকলে তাদের পিটিয়ে মেরে ফেলবে আমজনতা। অনেকে আবার এনকাউন্টারের আশঙ্কাও করছে। তাই তাদের আর্জি যে কোনও মামলায় গ্রেপ্তার করে জেলে পাঠিয়ে দেওয়া হোক। যাতে নিরাপদে থাকতে পারে। নীচুতলার পুলিশ মহল বলতে শুরু করেছে, বাংলায় এবার দুষ্টের দমন, শিষ্টের পালন শুরু হয়েছে।
  • Link to this news (বর্তমান)