• কর্মী-মিডিয়া সম্পর্ক নিয়ে রাজ্যের নয়া বিতর্কিত নির্দেশিকা প্রত্যাহারের দাবি কর্মী সংগঠনগুলির
    বর্তমান | ২২ মে ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: রাজ্য সরকারের আধিকারিক, কর্মী প্রভৃতির সঙ্গে মিডিয়া বা সংবাদ মাধ্যমের সম্পর্ক নিয়ে একগুচ্ছ বিধিনিষেধ জারি করেছে নতুন সরকার। স্বভাবতই এই নির্দেশিকা নিয়ে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। কর্মীদের বাক্‌স্বাধীনতা বজায় রাখার দাবি঩তে ওই নির্দেশিকা অবিলম্বে প্রত্যাহার করার দাবি ইতিমধ্যেই জানিয়েছে কয়েকটি কর্মী সংগঠন। এই পরিস্থিতিতে বুধবার রাজ্যের কর্মিবর্গ ও প্রশাসনিক সংস্কার দপ্তর নতুন এক বিজ্ঞপ্তি মারফত বিষয়টির ব্যাখা দিয়েছে। তাতে বলা হয়েছে, ওই নির্দেশিকাটি শুধুমাত্র সরকারি দপ্তর, সরকারি সংস্থা, বোর্ড, কর্পোরেশন, কোম্পানি প্রভৃতির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। এর আগে মুখ্যসচিব মনোজ আগরওয়াল যে বিজ্ঞপ্তিটি জারি করেন, তাতে সরকারি আর্থিক সাহায্যে চলা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, স্বয়ংশাসিত সংস্থাগুলিও এর আওতায় পড়বে বলে উল্লেখ করা হয়েছিল। এনিয়ে তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ‘এক্স’ হ্যান্ডলে লেখেন, ‘বিজেপি নেতৃত্বাধীন রিমোট কন্ট্রোল সরকারে মুখ বন্ধ রাখাটা এখন প্রশাসনিক শর্ত হয়ে উঠেছে। এই নির্দেশিকার নেপথ্যে শৃঙ্খলার কোনো যোগ নেই। উলটে মতপ্রকাশের স্বাধীনতাকেই খর্ব করেছে।

    এদিকে সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে, আগামী ৩০ মে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বিভিন্ন সরকারি কর্মী সংগঠনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকে বসতে পারেন। সরকারি কর্মীদের ডিএ মামলায় যুক্ত সংগঠনগুলিকেই এই বৈঠকে ডাকা হচ্ছে। প্রসঙ্গত, সরকারি কর্মীদের বর্ধিত হারে ডিএ দেওয়ার ব্যাপারে নতুন সরকার কোনো সিদ্ধান্ত এখনো নেয়নি। পূর্বতন তৃণমূল সরকার রাজ্য বাজেটে গত এপ্রিল থেকে ৪ শতাংশ হারে ডিএ দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছিল। কিন্তু সেই ব্যাপারে কোনো বিজ্ঞপ্তি এখনো  জারি হয়নি। রাজ্যের নতুন মন্ত্রিসভার গত বৈঠকে শুধুমাত্র সপ্তম বেতন কমিশন গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী পঞ্চম বেতন কমিশনের বকেয়া ডিএ মেটানো নিয়ে নতুন কোনো সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেনি এই সরকার। এসব বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে কর্মী সংগঠনগুলির বিস্তারিত আলোচনার পর কিছু ইতিবাচক ঘোষণা হবে বলে আশা করছে কর্মী মহল।

    মুখ্যসচিব যে বিজ্ঞপ্তি জারি করেন, সার্ভিস রুল অনুযায়ী সংবাদ মাধ্যমের সঙ্গে সরকারি কর্মী, আধিকারিকদের সম্পর্কের ব্যাপারে বেশকিছু বিধিনিষেধ তাতে আরোপ করার কথা বলা হয়। কোনো অনুমতি ছাড়া মিডিয়া আয়োজিত অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ, এমনকি লেখালিখিও করা যাবে না বলে জানিয়ে দেওয়া হয়। রাজ্য বা কেন্দ্রীয় সরকারের কোনো সিদ্ধান্ত ও নীতির ব্যাপারে মিডিয়ায় কোনোভাবেই আপত্তি ও প্রতিবাদ করা যাবে না। অনুমোদন ছাড়া মিডিয়াকে কোনো সরকারি তথ্য, নির্দেশ প্রভৃতি শেয়ার করার ক্ষেত্রেও বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়। মিডিয়া মারফত এমন কোনো কাজ করা যাবে না যাতে দুটি রাজ্য কিংবা অন্য দেশের সঙ্গে সম্পর্ক নষ্ট হয়। 

    কনফেডারেশন অব স্টেট গভর্নমেন্ট এমপ্লয়িজ, কো-অর্ডিনেশন কমিটি, পশ্চিমবঙ্গ সরকারি কর্মচারী ইউনিয়ন প্রভৃতি কর্মী সংগঠন মনে করছে, যেসব বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে, তার জেরে কোনো সরকারি কর্মী জনস্বার্থেও সেই বিষয়ে মুখ খুলতে পারবেন না! তাদের বক্তব্য, এটা গণতান্ত্রিক রীতিনীতির বিরোধী। এই নিয়ম অবিলম্বে প্রত্যাহারের দাবি তুলেছে তারা। কর্মীদের অধিকার রক্ষা নিশ্চিত করতে সংবিধানের ৩০৯ ধারা অনুযায়ী উপযুক্ত আইন প্রণয়ণেরও দাবি জানিয়েছে কর্মচারী ইউনিয়ন।
  • Link to this news (বর্তমান)