• হাওড়া ও বালিতে পুরভোটে সবুজ সংকেত মুখ্যমন্ত্রীর, ডিসেম্বরেই নির্বাচিত বোর্ডের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর
    বর্তমান | ২২ মে ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: দীর্ঘ আট বছর ধরে নির্বাচিত বোর্ড নেই হাওড়া ও বালি পুরসভায়। এই দুই শহরের নাগরিকদের একটাই প্রশ্ন, পুরভোট কবে হবে? একের পর এক বিধানসভা, লোকসভা, রাজ্যের বিভিন্ন পুরসভার ভোট হলেও হাওড়া ও বালির পুরভোট নিয়ে অনিশ্চয়তা কাটছিল না। বোর্ডবিহীন প্রশাসনের জেরে একদিকে ভেঙে পড়া পুর পরিষেবা, অন্যদিকে লাগামছাড়া দুর্নীতির অভিযোগে ক্রমশ ক্ষোভ বাড়ছিল নাগরিক মহলে। অবশেষে রাজ্যে পালাবদলের পর সেই জট কাটার ইঙ্গিত মিলল। বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর হাওড়া পুরভোট নিয়ে ইতিবাচক বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বৃহস্পতিবার হাওড়ায় তাঁর প্রথম প্রশাসনিক বৈঠকে পুরভোটের প্রসঙ্গে সবুজ সংকেত দেন তিনি।

    এদিন দুপুর সাড়ে ১২টা নাগাদ হাওড়ার নিউ কালেক্টরেট ভবনে উচ্চপর্যায়ের প্রশাসনিক বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী। বৈঠকের আগে ভবন চত্বরে হাওড়া সিটি পুলিশের পক্ষ থেকে তাঁকে গার্ড অব অনার দেওয়া হয়। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন হাওড়ার জেলাশাসক, পুলিশ কমিশনার, সদরের চার জয়ী বিধায়ক, হাওড়া ও বালি পুরসভার প্রশাসক এবং কেএমডিএ ও এইচআইটির কর্তারা। বৈঠক শেষে মুখ্যমন্ত্রী জানান, হাওড়া শহরের প্রাথমিক নাগরিক পরিষেবা উন্নত করার পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদে শহরটিকে আরও ‘বিকশিত নগরী’ হিসাবে গড়ে তোলাই তাঁর সরকারের লক্ষ্য। তিনি বলেন, ‘ওয়ার্ড বিন্যাসের কাজ সম্পূর্ণ করে এই বছরের মধ্যেই নির্বাচিত পুরসভার হাতে দায়িত্বভার হস্তান্তরের সিদ্ধান্ত আমরা নিয়েছি। হাওড়া সদরের চারজন বিধায়ক কর্পোরেশন, পুলিশ, জেলাশাসককে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেবেন।’ তাঁর কথায়, ইতিমধ্যেই আসন পুনর্বিন্যাসের কাজ শুরুর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, ‘পুরসভা বা কর্পোরেশনে জনগণের অংশগ্রহণের মাধ্যমে নির্বাচন ছাড়া প্রকৃত পরিষেবার স্বাদ মানুষ পেতে পারে না। সব ঠিকঠাক থাকলে ডিসেম্বরের মধ্যে গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে নির্বাচিত পুরবোর্ডের হাতে হাওড়া পুরসভা এবং বালির দায়িত্ব তুলে দেওয়া সম্ভব হবে বলে আমরা আশাবাদী।’

    হাওড়া ও বালি পুরসভার সংযুক্তিকরণ এবং পরবর্তীকালে পৃথকীকরণকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরেই আইনি জট তৈরি হয়েছিল। ২০১৩ সালে শেষবার হাওড়া পুরসভায় নির্বাচন হয়। পরে ২০১৫ সালে বালি পুরসভার মেয়াদ শেষ হলে সেটিকে হাওড়ার সঙ্গে যুক্ত করা হয়। বালির ৩৫টি ওয়ার্ড ভেঙে ১৬টি ওয়ার্ড তৈরি করে হাওড়ার সঙ্গে সংযুক্ত করা হয়েছিল। কিন্তু ২০২১ সালে নতুন সংশোধনী বিল এনে বালি ও হাওড়াকে ফের আলাদা করার সিদ্ধান্ত নেয় তৎকালীন রাজ্য সরকার। ফলে হাওড়া পুরসভার ওয়ার্ড সংখ্যা ৬৬ থেকে কমে ৫০ হওয়ার কথা ছিল। সেই বিল বিধানসভায় পাশ হয়ে রাজভবনে গেলেও তৎকালীন রাজ্যপাল জগদীপ ধনকর বালির আর্থিক ব্যয়ের হিসাব নিয়ে প্রশ্ন তুলে তাতে সই করেননি। পরে ২০২২ সালে রাজ্য নির্বাচন কমিশন ফের ৫০টি ওয়ার্ডকে ভেঙে ৬৬টি ওয়ার্ডে পুনর্বিন্যাস করে। অবশেষে ২০২৫ সালে রাজ্যপাল সি ভি আনন্দ বোস সেই বিলে অনুমোদন দেন। কিন্তু বালি পৃথক হলেও নতুন ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাস নিয়ে জট কাটেনি। নতুন ১৬টি ওয়ার্ডকে ঘিরে সেই জটিলতাই এতদিন ভোটের পথে প্রধান বাধা হয়েছিল। এদিন মুখ্যমন্ত্রীর আশ্বাসের পর নাগরিক মহলে নতুন করে আশার সঞ্চার হয়েছে। পাড়ায় পাড়ায় শুরু হয়েছে নতুন মুখ্যমন্ত্রীর ‘কথা দিয়ে কথা রাখার’ বিষয়ে আলোচনা। বিধায়ক রুদ্রনীল ঘোষ ও উমেশ রাই বলেন, ‘বিগত সরকারের হাত থেকে মুক্তি পেতেই মানুষ বিজেপিকে বেছে নিয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী মানুষের ন্যায্য দাবি পূরণে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। হাওড়া আবার তার হৃতগৌরব ফিরে পাবে।’
  • Link to this news (বর্তমান)