• রেলের সঙ্গে সমন্বয় রেখেই হাওড়ায় উন্নয়ন হবে, বার্তা মুখ্যমন্ত্রীর
    বর্তমান | ২২ মে ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর বৃহস্পতিবার হাওড়ায় প্রথম প্রশাসনিক বৈঠকে জেলার উন্নয়নে রেলের অপরিহার্য ভূমিকার কথা জোর দিয়ে তুলে ধরলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর স্পষ্ট বক্তব্য, ‘রেলকে বাদ দিয়ে হাওড়া হয় না।’ বিগত তৃণমূল সরকারের আমলে রেল ও রাজ্য প্রশাসনের মধ্যে যে দূরত্ব তৈরি হয়েছিল, তা দূর করে সমন্বয়ের ভিত্তিতে হাওড়ার উন্নয়নের রূপরেখা তৈরি করা হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি, গত সরকারের আমলে শহরে হওয়া বিভিন্ন দুর্নীতির অভিযোগ খতিয়ে দেখতে ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং টিমকে কাজে লাগানোর কথাও উল্লেখ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী।

    প্রশাসনিক বৈঠকের পর মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘হাওড়ায় জনগণের পরিষেবা ভীষণভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে। বিদায়ী সরকারের দৃষ্টিভঙ্গি ছিল, তাদের কাছে রেল ছিল শত্রু। অথচ রেলকে বাদ দিয়ে হাওড়া হয় না।’ তাঁর বক্তব্য, হাওড়ার উন্নয়নে রেল ও রাজ্য প্রশাসনকে একযোগে কাজ করতে হবে। সেই লক্ষ্যে রেলের কোন কোন কাজ এবং রাজ্য প্রশাসনের কোন কোন কাজ, তার পৃথক তালিকা তৈরি করা হবে বলেও জানান তিনি। পাশাপাশি রেলের জেনারেল ম্যানেজারদেরও এই সমন্বয় প্রক্রিয়ায় যুক্ত করা হয়েছে বলে মুখ্যমন্ত্রী জানান। একইসঙ্গে বিগত সরকারের আমলে হওয়া বিভিন্ন দুর্নীতি নিয়েও কড়া অবস্থান নেন শুভেন্দু অধিকারী। তিনি বলেন, ‘অবৈধ যে সমস্ত বিল্ডিং তৈরি হয়েছে, যত জলাশয় বুজিয়ে দেওয়া হয়েছে, সব বিষয়ে ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং টিম তদন্ত করবে।’ নীতি বিরোধী ও দুর্নীতিমূলক নির্মাণকাজে জড়িত কিছু বিল্ডার্সের ভূমিকাও খতিয়ে দেখা হবে বলে তিনি জানান।

    হাওড়া পুরসভার অস্থায়ী কর্মীদের একাংশকে নিয়েও বিস্ফোরক অভিযোগ করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, পুরসভায় প্রায় ১৭০০ জন অস্থায়ী কর্মী থাকলেও তাঁদের মধ্যে প্রায় ৫০০ জন বেতন নিলেও পরিষেবা দেন না। ওই কর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আট ঘণ্টা তো অনেক দূরের কথা, আট মিনিটও পরিষেবা দেন না। কারণ, তাঁরা রাজনৈতিক প্রভাবশালীদের আশীর্বাদপুষ্ট। আমরা তাঁদের ক্ষেত্রে বলেছি, কোন দল করেন, সেটা বড়ো কথা নয়। টাকাটা পুরসভা থেকে পান। আপনাদের কাজটা করতে হবে, পরিষেবা দিতে হবে। মানসিকতা বদলান। নাহলে এই সরকার এসব ক্ষেত্রে জ়িরো টলারেন্স নীতিতে চলবে।’ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়েছে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী। রাজনৈতিক হিংসা ও মহিলাদের উপর অত্যাচারের ঘটনায় দ্রুত পদক্ষেপ করতে পুলিশকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান। একইসঙ্গে হাওড়ার বর্তমান পুলিশ কমিশনারের প্রশংসা করে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, নির্বাচন কমিশন তাঁকে নিয়োগ করেছে এবং তিনি দক্ষ ও উপযুক্ত। প্রয়োজনীয় ম্যান পাওয়ার ও লজিস্টিক সাপোর্ট দেওয়ার আশ্বাসও দেন তিনি।

    অন্যদিকে, পুরভোট না হওয়া পর্যন্ত নাগরিক পরিষেবা সচল রাখতে চারটি বিষয়কে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী। সেগুলি হল পরিস্রুত পানীয় জল, সাফাই ব্যবস্থা, নিকাশি ব্যবস্থা এবং পার্ক, স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও পুর পরিচালিত স্কুলের সংস্কার। এই কাজগুলির জন্য জেলাশাসকের নেতৃত্বে একটি কো-অর্ডিনেশন কমিটি গঠন করা হয়েছে। গোটা বিষয়টি মনিটরিং করবেন রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন দপ্তরের সেক্রেটারি খলিল আহমেদ।
  • Link to this news (বর্তমান)