• এফআইআর খারিজের আরজি নাকচ, কোর্টের রক্ষাকবচ অভিষেককে
    বর্তমান | ২২ মে ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: নির্বাচনী প্রচারে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সম্পর্কে বিরূপ মন্তব্য ও উসকানি দেওয়ার অভিযোগে এফআইআর দায়ের হয়েছিল অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে। ওই এফআইআর খারিজের দাবিতে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক। কিন্তু বৃহস্পতিবার সেই আবেদন খারিজ করে দিয়েছে হাইকোর্ট। সেইসঙ্গে বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য অভিষেকের ওইসব মন্তব্য ‘দায়িত্বজ্ঞানহীন’ বলে উল্লেখ করে এদিন একাধিক প্রশ্ন তুলেছেন। দলের শীর্ষ পদে থেকেও তিনি এমন মন্তব্য কেন করবেন, তা জানতে চান বিচারপতি। তবে হাইকোর্ট জানিয়েছে, আগামী ৩১ জুলাই পর্যন্ত অভিষেকের বিরুদ্ধে কোনও কড়া পদক্ষেপ করতে পারবে না পুলিশ। তদন্ত চলবে। তদন্তে সব রকম সহযোগিতা করতে হবে অভিষেককে। তদন্তে সহযোগিতা না করলে, আদালতে আবেদন জানাতে পারবে পুলিশ। 

    একই সঙ্গে অভিষেকের ভার্চুয়াল হাজিরার আবেদন নাকচ করে বিচারপতি জানিয়েছেন, নোটিস পেলে তাঁকে সশরীরে হাজিরা দিতে হবে। তবে তাঁকে তলব করতে হলে ৪৮ ঘণ্টা আগে নোটিস দিতে হবে পুলিশকে। আদালতের অনুমতি ছাড়া আপাতত অভিষেক দেশ ছাড়তে পারবেন না বলেও নির্দেশে উল্লেখ করেছেন বিচারপতি ভট্টাচার্য। আগামী ২০ জুলাই এই মামলার পরবর্তী শুনানি। এদিন অভিষেকের আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে উদ্দেশ্য করে বিচারপতি ভট্টাচার্য বলেন, ‘আপনি বলছেন আপনার মক্কেল সর্বভারতীয় তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক। তিন বারের সাংসদ। তিনি কেন এমন দায়িত্বজ্ঞানহীন মন্তব্য করবেন? নির্বাচনের আগে কেন এমন করা হবে? যে রাজ্যে ভোট-পরবর্তী হিংসার মতো কালো ইতিহাস রয়েছে।’ 

    কল্যাণ তাঁর সওয়ালে বলেন, ‘কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহও উসকানিমূলক মন্তব্য করেছেন।’ কিন্তু এই যুক্তিতে সন্তুষ্ট হননি বিচারপতি। তিনি বলেন, সর্বভারতীয় দলের সাধারণ সম্পাদক এমন মন্তব্য করবেন কেন? তাঁর কাছ থেকে কি এমন উসকানিমূলক মন্তব্য আশা করা যায়?’ যদিও রাজ্যের তরফে অতিরিক্ত অ্যাডভোকেট জেনারেল রাজদীপ মজুমদার জানান, এই মুহূর্তে ওই মামলায় হেফাজতে নেওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়নি। এরপরই অভিষেককে রক্ষাকবচের নির্দেশ দেয় আদালত।
  • Link to this news (বর্তমান)