• ভোটই দিলেন না জাহাঙ্গির, ফলতায় শোরগোল
    বর্তমান | ২২ মে ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, ফলতা: ফলতার গ্রাম শ্রীরামপুরে ঢোকার ঠিক মুখেই ঢাউস ঢাউস পতাকা ঝুলছে বিজেপির। রয়েছে সিপিএম, এমনকি কংগ্রেসের ঝান্ডাও। তবে ঘাসফুলের পতাকা চোখে পড়েনি। এ এক বিরল দৃশ্য! যে গলির মুখে আর পাঁচটা দলের পতাকা পতপত করে উড়ছে, সেটি ফলতার স্বঘোষিত ‘পুষ্পা’ তথা তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গির খানের ডেরা হিসাবেই পরিচিত। এক দশকেরও বেশি সময় ধরে ওই গলির মুখে তৃণমূল ছাড়া আর কোনো দলের পতাকা লাগানোর ‘নিয়ম’ ছিল না। কারণ এই গলিতেই বাড়ি জাহাঙ্গিরের। 

    জাহাঙ্গিরের বাড়ি কোনদিকে, প্রশ্ন করলেই সটান দেখিয়ে দিচ্ছেন মানুষ। আগে ওই বাড়ির দিকে আঙুল তুলে দেখানোর ‘সাহস’ ছিল না কারও। পুনর্নির্বাচনের দিন সেই দাপুটে তৃণমূল নেতা কোথায়, সবার কৌতূহল ছিল সেদিকেই। শ্রীরামপুরে পশ্চিম দুর্গাপুর অবৈতনিক প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পিছনেই বিশাল অট্টালিকা। এটাই বাড়ি ফলতার ‘পুষ্পা’র। বাড়ির কাছে যেতেই দেখা গেল, ভিতর থেকে গেটে তালা লাগানো। সকাল পেরিয়ে দুপুর, বিকাল পার করে সন্ধ্যা। কিন্তু এই দাপুটে নেতার কোনো হদিশ পাওয়া যায়নি। ঘড়ির কাঁটা ৬টা বাজতেই পরিষ্কার হল পুরো ব্যাপার। পুনর্নির্বাচন থেকে তিনি নিজেকে শুধু সরিয়েই নেননি, বিরত থাকলেন ভোটদান থেকেও। যদিও তাঁর স্ত্রী রজিনা বিবি দুপুরে মাস্ক পরে ভোট দিয়ে যান বুথে। জাহাঙ্গিরের ব্যাপারে প্রশ্ন করা হলে কোনো জবাব দেননি তিনি।

    তৃণমূল নেতার বাড়ি থেকে কিছুটা দূরে রাস্তার উপরেই রয়েছে তাঁর পার্টি অফিস। ২৯ এপ্রিল সেখান থেকেই ভোট পরিচালনা করেছিলেন জাহাঙ্গির। ভোটগ্রহণের শেষলগ্নে নিজের ১৯০ নম্বর বুথে ভোটাধিকার প্রয়োগ করে ‘ভিকট্রি’ চিহ্ন দেখিয়েছিলেন তিনি। এদিন সেই পার্টি অফিস ছিল বন্ধ। গোটা ফলতায় একমাত্র তাঁর অফিসের ছাদেই উড়ছে ঘাসফুলের কয়েকটি পতাকা। তবে ৪ মে’র পর যে পরিস্থিতি বদলেছে, তা তৃণমূল নেতার পাড়া-প্রতিবেশীদের কথাতেই স্পষ্ট। ভোট দিয়ে বেরিয়ে এসে এক মহিলা বলেন, এতদিন বাদে নিজের ইচ্ছা অনুযায়ী ভোট দিলাম। বিগত নির্বাচনগুলিতে যেমন নির্দেশ দেওয়া হত, তেমনই কাজ করতাম। আজ ভীষণ ভালো লাগছে। তিনি এতটাই উচ্ছ্বসিত যে, ভোট কর্মীদের বলেছেন, তাঁর আঙুলে ভোটের কালির লম্বা দাগ দিতে। সেটা পেয়েছেনও। লাইনে দাঁড়ানো একাধিক ভোটার যেন চাপমুক্ত হয়ে ভোট দিলেন এদিন, তাঁদের শরীরী ভাষায় সেই ইঙ্গিত স্পষ্ট। আগে কীভাবে ভয়ের পরিবেশ তৈরি করে ভোটারদের শাসানি দেওয়া হত, সেই কথাও উঠে এল অনেকের মুখে। যেসব বুথে টেপ বা আতর লাগানো হয়েছিল, সেখানেও ভোটারদের থেকে পাওয়া গেল জাহাঙ্গির বাহিনীর ‘থ্রেট কালচারের’ নমুনা। ফলতা এফপি স্কুলে মা ও মেয়ে ভোট দিতে এসেছিলেন। তাঁদের কথায়, ২৯ তারিখের আগে বাড়ি গিয়ে ওরা হুমকির সুরে বলে এসেছিল, কোথায় ভোট দিতে হবে। কিন্তু এদিন পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে নির্ভয়ে ভোট দিয়ে চওড়া হাসি মা-মেয়ের।
  • Link to this news (বর্তমান)