শিল্পায়নের লক্ষ্যে জমি নীতিতে বদল, চা বাগানের জন্য বিশেষ আর্থিক প্যাকেজ চাইতে পারেন শমীক-শুভেন্দু
বর্তমান | ২২ মে ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: রাজ্যে ক্ষমতায় আসার পর থেকেই শিল্পায়ন নিয়ে একের পর এক ইতিবাচক পদক্ষেপের কথা জানিয়েছে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন বিজেপি সরকার। এর মধ্যে যেমন রয়েছে সিঙ্গুরে ইমিটেশন গয়নার হাব তৈরির পরিকল্পনা, তেমনই রয়েছে রাজ্যের জমি নীতিতে আমূল পরিবর্তন করে বাংলায় শিল্পে বিনিয়োগের পথ প্রশস্ত করা। এক্ষেত্রে প্রয়োজনে জমি অধিগ্রহণ সংক্রান্ত জটিলতা হ্রাসেরও ইঙ্গিত দিয়েছে রাজ্য। এবার এই তালিকায় যুক্ত হচ্ছে বাংলার চা বাগানগুলিও। উত্তরবঙ্গে চা শিল্পের ব্যাপক প্রসারের লক্ষ্যে এখন থেকেই পদক্ষেপ করতে চাইছে রাজ্য। জানা যাচ্ছে, রাজ্যের চা বাগানের উন্নয়নের লক্ষ্যে মোদি সরকারের কাছে বিশেষ আর্থিক প্যাকেজের দাবি জানাতে চলেছে বাংলা।
বৃহস্পতিবার দিল্লিতে বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য বলেছেন, ‘বাংলার একজন চা শ্রমিকও অভুক্ত থাকবেন না। প্রত্যেক চা শ্রমিক যথাযথ চিকিৎসা পরিষেবা পাবেন। প্রত্যেক চা শ্রমিকের ছেলেমেয়েরা ঠিকমতো পড়াশোনা করতে পারবে। তাদের শিক্ষার সুযোগ মিলবে। তৃণমূল আমলে যেসব ন্যূনতম পরিষেবা চা বাগানের শ্রমিকরা পাননি, তার প্রতিটিরই ব্যবস্থা করবে রাজ্য সরকার।’ তা মাথায় রেখেই কেন্দ্রীয় মন্ত্রীদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করা হবে। শমীকবাবুর ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য, ‘রাজ্যের বিজেপি সরকার কোনোমতেই ঘোষণা সর্বস্ব হবে না। যা বলবে, তা করেও দেখাবে।’ ঘটনাচক্রে বৃহস্পতিবার রাতেই দিল্লিতে এসেছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর এটিই তাঁর প্রথম সফর। রাতেই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে দেখা করেন তিনি। শাহের সরকারি বাসভবনে দু’পক্ষের প্রায় এক ঘণ্টা কথা হয়েছে। শুভেন্দু কোনো প্রতিক্রিয়া না দিলেও দলীয় সূত্রে দাবি করা হয়েছে, রাজ্যের মন্ত্রিসভা গঠন নিয়ে দু’জনের কথা হয়েছে। ২৭ মে’র মধ্যে পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রিসভা গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আজ, শুক্রবার বিকেলে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন শুভেন্দু। সেখানে রাজ্যের জন্য বিশেষ প্যাকেজ চাইতে পারেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী। আর সকালে প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং এবং বিজেপি সভাপতি নীতিন নবীনের সঙ্গে তাঁর সাক্ষাৎ হবে। রাষ্ট্রপতি, উপ রাষ্ট্রপতির সঙ্গেও দেখা করবেন শুভেন্দু। এছাড়া কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামনের সঙ্গেও শুভেন্দুবাবুর একটি বৈঠক হতে পারে বলেও শোনা যাচ্ছে।
অন্যদিকে, রাজ্যের মাদ্রাসায় বন্দেমাতরম গাওয়ার নির্দেশিকা নিয়ে এদিন শমীকবাবু বলেন, ‘এদেশে থাকতে হলে বন্দেমাতরমও গাইতে হবে।’ তিনি আরও জানান, রাজ্যে ডিটেনশন সেন্টারের প্রয়োজন নেই। অনুপ্রবেশকারীদের ধরো, তারপর সোজা যেখানে পাঠানোর পাঠিয়ে দাও। শুধু শুধু বসিয়ে তাদের খাওয়ানো কেন হবে? এদিন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদবের সঙ্গে বৈঠক হয়েছে শমীক ভট্টাচার্যের। ওই বৈঠকে ভূপেন্দ্র যাদব তাঁকে স্পষ্ট জানিয়েছেন, রাজ্যের মানুষের জনসমর্থন পুরোপুরি বিজেপির পক্ষে। তা মাথায় রেখে দলের সাংগঠনিক পরিস্থিতি আরও জোরদার করতে হবে। সাংগঠনিক রাশ কোনোমতেই আলগা হতে দেওয়া যাবে না।