• দুধেশ্বর চাল থেকে মিষ্টি দই, জিআই স্বীকৃতির দৌড়ে বাঙালির বিভিন্ন খাবার
    বর্তমান | ২২ মে ২০২৬
  • বাপ্পাদিত্য রায়চৌধুরী, কলকাতা: খাওয়াদাওয়া নিয়ে বাঙালির খুঁতখুঁতুনি আবহমানকালের। যে জাতির খেয়ে আর খাইয়েই সুখ, তারা সেরার সেরা মেনু দিয়েই যে পাত সাজাবে, এতে আর সন্দেহ কী? সরু বা সুগন্ধি চালের ভাত থেকে যে সিলেবাসের শুরু, তার শেষলগ্নে দই-মিষ্টি যে মাস্ট, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। খাবারের প্রায় সবকটি উপাদানও বাঙালির নিজস্ব সম্পদ। সেখানে ভারতের অন্য প্রদেশের উপস্থিতি বড়ো ফ্যাকাশে। সেইসব উপকরণের একটা বড়ো অংশকেই এবার ‘জিআই’ প্যারেডে দাঁড় করাচ্ছে রাজ্য। দুধেশ্বর চাল থেকে শুরু করে মিষ্টি দই হয়ে কৃষ্ণনগরের সরপুরিয়া—জিয়োগ্রাফিক্যাল ইন্ডিকেশন (জিআই) স্বীকৃতির জন্য সম্প্রতি আবেদন করা হয়েছিল পেটেন্ট অফিসে। সেই আবেদন গৃহীত হয়েছে। সংশ্লিষ্ট মহলের দাবি, এরপর বাংলার নিজস্ব খাদ্য সম্পদগুলির আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি এখন শুধু সময়ের অপেক্ষা।

    অতিসম্প্রতি জিআই রেজিস্ট্রিতে যে আবেদনগুলি জমা পড়েছে, তার মধ্যে রয়েছে দুই ধরনের চাল। রাধাতিলক এবং দুধেশ্বর। এর আগে পশ্চিমবঙ্গ থেকে গোবিন্দভোগ হয়ে কালোলুনিয়া পর্যন্ত হরেক চাল জিআই স্বীকৃতি আদায় করে নিয়েছে। সেই দৌড়ে এবার নয়া সংযোজন এই দুই চাল। রাধাতিলক চালে শুধু যে প্রোটিন, ভিটামিন, খনিজ উপাদনে মাখামাখি, তাইই নয়। ছোট আকারের এই সুগন্ধি চাল স্বাদেও অদ্বিতীয়। আবার খিচুড়ি, পোলাও, পায়েসের জন্যই যে শুধু দুধেশ্বরের কদর, তা নয়—বাঙালির প্রিয় ফ্যান-ভাতেও তার জুড়ি মেলা ভার!

    মিষ্টির ক্ষেত্রে একযোগে জিআইয়ের জন্য নাম লিখিয়েছে রসমালাই, মিষ্টি দই, কৃষ্ণনগরের সরপুরিয়া ও সরভাজা। রসগোল্লা যে বাংলার একান্ত সম্পদ, তা ইতিমধ্যেই প্রমাণিত এবং আইনিভাবেও স্বীকৃত। সেই রসগোল্লার মতো সরেস মিষ্টিকে দুধে চুবিয়ে যে স্বর্গীয় স্বাদ আনা যায়, তার কেরামতি দেখিয়েছে বাঙালি। কৃষ্ণচন্দ্র দাশের হাতের জাদুতে যে মিষ্টি বাঙালির হৃদয়কে নুইয়ে দিয়েছিল, শতবর্ষের প্রায় দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে তার কদর করতে ভোলেন না অবাঙালিরাও। আবার ভূভারতে যে টোকো দই খেতে খেতে মুখ মরে গিয়েছে অ-বাংলাভাষীদের, স্বাদ বদলে তাঁরাও খোঁজ করেন বাঙালির মিষ্টি দইয়ের। মাটির ভাঁড়ে রাখা লালচে হিমশীতল দইয়ের মাথা যিনি খেয়েছেন, তিনি জানেন, এস্বাদের ভাগ হয় না। তার জিআই স্বীকৃতির দৌড়ের সঙ্গেই ফের হাজির সরপুরিয়া ও সরভাজা। কয়েকবছর আগে কৃষ্ণনগরের এই দুই মিষ্টি জিআই স্বীকৃতির লড়াইয়ে ছিল। কিন্তু নির্দিষ্ট প্রমাণ ও গবেষণার অভাবে সাফল্য আসেনি। এবার অন্যান্য মিষ্টির সঙ্গেই তাকে নিয়ে লড়াইয়ে নেমেছে মিষ্টান্ন বিক্রেতাদের সংগঠন ‘মিষ্টি উদ্যোগ’। জিআই প্রাপ্তির লড়াইয়ে এ-যাত্রা‌য় শোস্টপার হিসেবে রয়েছে রডোডেনড্রন ফুলের পাপড়ির নির্যাস থেকে তৈরি ওয়াইন ‘গুরাস’। পাহাড়ি এই নির্যাসেরও স্বীকৃতি চায় বাংলা। সব মিলিয়ে খানাপিনার আয়োজনে আন্তর্জাতিক মহল থেকেই বাঙালিয়ানার স্বকৃতি চায় বাংলা।
  • Link to this news (বর্তমান)