এই সময়, ঘাটাল: বিভিন্ন জনসভা, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে তৃণমূলের নেতা–মন্ত্রীদের সঙ্গে নানা ঘটনায় অভিযুক্তদের ছবি নিয়ে বার বার বিতর্ক বেধেছে। যা নিয়ে বিজেপি থেকে অন্য রাজনৈতিক দলগুলিকে সরব হতে দেখা গিয়েছে। তারা অভিযোগ করেছে, তৃণমূলের নেতা থেকে মন্ত্রীদের সঙ্গে পুলিশের খাতায় অভিযুক্ত ওই সব লোকের ছবি দলের সঙ্গে তাঁদের ওতপ্রোত যোগাযোগই প্রমাণ করে। এ সব ক্ষেত্রে জনমনেও বিরূপ প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা থাকে। যদিও তৃণমূলের তরফে যুক্তি ছিল, তাদের নেতা–মন্ত্রীরা কাজের তাগিদেই নানা জায়গায় যান, জনসংযোগ করেন। অনেকে তাঁদের সঙ্গে ছবিও তোলেন। জনসংযোগের কারণেই নেতা–মন্ত্রীরা সকলের সঙ্গে ছবি তোলেন। সে ক্ষেত্রে তাঁদের পক্ষে জানা সম্ভব নয়, কে কোন ঘটনায় অভিযুক্ত, কে নয়!
তৃণমূলকে হারিয়ে রাজ্যে ক্ষমতায় এসেছে বিজেপি। এ বার তাদের নেতা–মন্ত্রীরাও কি তৃণমূলের ওই ঘটনা নিয়ে সতর্ক?
সম্প্রতি ঘাটাল মহকুমার তিনটি বিধানসভা কেন্দ্র চন্দ্রকোণা, ঘাটাল ও দাসপুরের নবনির্বাচিত বিধায়কেরা সামাজিক মাধ্যমে এই নিয়ে সর্তক করে পোস্ট করেছেন। ভোটে জেতার পরে সকলের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় ও ছবি তোলা প্রসঙ্গে তিনজনই একই ধরনের বার্তা দিয়েছেন। পোস্টে লেখার সঙ্গে নিজেদের ছবিও দেওয়া রয়েছে বিধায়কদের। বিজেপি বিধায়কদের হঠাৎ এমন পোস্ট ঘিরে শুরু হয়েছে গুঞ্জন। নেটিজেনদের অনেকে প্রশংসা করেছেন। পাশাপাশি দলীয় বিধায়কের এই পোস্টকে নিজেদের পেজে শেয়ার করছেন বিজেপির নেতা–কর্মীরাও। এ বিষয়ে চন্দ্রকোণার বিধায়ক সুকান্ত দোলই বলেন, ‘বিজেপি সুশৃঙ্খল দল। এখানে দুর্নীতি, তোলাবাজি, মাফিয়ারাজের জায়গা নেই। বাম জমানা হোক বা তৃণমূল,মানুষ দেখেছে কী ভাবে এ সব হয়েছে। আমি বলছি না সবাই এমন, কিন্তু এখন বহু মানুষ সাক্ষাৎ করতে আসছেন, ছবিও তুলছেন। আমার দলের নেতা–কর্মীদের আমি চিনি বা অনেক সংগঠন আছে তাদেরও চিনি। কিন্তু ব্যক্তিগত ভাবে যাঁরা আসছেন, তাঁদের অনেককে আমি জানি না, চিনি না। এখন দেখছি সবাই বিজেপি। তাই আমার সঙ্গে ছবি তুলে, আমার নাম ভাঙিয়ে যাতে কেউ অসৎ কাজ করতে না পারে তাই জনগণের কাছে নিজের বক্তব্য স্পষ্ট করলাম।’
ঘাটালের বিধায়ক শীতল কপাটের গলাতেও একই সুর। তিনি বলেন, ‘আমি জেতার পরে অনেক মানুষের সাথে ছবি তোলা হচ্ছে। সবাই আমার চেনা নয়। এ সব ব্যক্তিরা যে আমার সঙ্গে তোলা ছবির অপব্যবহার করবে না তার গ্যারান্টি নেই। সে জন্য আমার তরফে আগাম স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে।’ দাসপুরের বিধায়ক তপন দত্ত বলেন, ‘প্রত্যেক মানুষই আমার সঙ্গে দেখা করতে আসতে পারেন। কিন্তু আমার তো সবাই চেনা পরিচিত নয়। আমার সঙ্গে তোলা ছবি নিয়ে কেউ ব্ল্যাকমেলও করতে পারে। তাই বাকি বিধায়কদের সঙ্গে আমারও এক মত।’