• শান্তনু-ঘনিষ্ঠ সাব ইন্সপেক্টরের বাড়িতে হানা ED-র, কলকাতার তিনটি এলাকায় একযোগে চলছে তল্লাশি অভিযান
    এই সময় | ২২ মে ২০২৬
  • সাতসকালে ফের তেড়েফুঁড়ে নামল ইডি। সোনা পাপ্পু-র মামলায় একযোগে কলকাতার তিন জায়গায় তল্লাশি চালাচ্ছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। কলকাতা পুলিশের ডিসিপি শান্তনু সিনহা বিশ্বাসকে আগেই গ্রেপ্তার করেছিল ইডি। শুক্রবার তাঁর ঘনিষ্ঠ এক সাব ইন্সপেক্টরের বড়িতে তল্লাশি শুরু হলো। ইডি সূত্রে খবর, সোনা পাপ্পুকে জেরা করে বেআইনি লেনদেন নিয়ে একাধিক তথ্য মিলেছে। সেই সূত্রেই চলছে তল্লাশি।

    ইডি সূত্রে খবর,কলকাতার পার্ক স্ট্রিট, চক্রবেড়িয়ায় এবং কসবা-সহ একাধিক এলাকায় হানা দিয়েছেন তদন্তকারীরা। তাঁদের সঙ্গে রয়েছে কেন্দ্রীয় বাহিনীও। পার্ক স্ট্রিটের একটি একটি ক্যাফেটেরিয়া কাম হোটেলে চলছে তল্লাশি। নথিপত্র দেখা হচ্ছে। সোনা পাপ্পু মামলায় বেআইনি লেনদেনের কোনও যোগ রয়েছে কি না, তাই খুঁটিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।

    চক্রবেড়িয়ার একটি আবাসনেও পৌঁছে গিয়েছে ইডি-র টিম। সূত্রের খবর, সেখানে এক ব্যবসায়ীর সঙ্গে সোনা পাপ্পুর ঘনিষ্ঠ যোগাযোগের তথ্য মিলেছে। সেই সূত্রেই তাঁর বাড়িতে হানা দিয়েছেন তদন্তকারীরা। কসবায় কলকাতা পুলিশের এক সাব ইন্সপেক্টরের বাড়িতেও পৌঁছে গিয়েছে ইডি-র টিম। তদন্তকারীদের সূত্রে খবর, তিনি কলকাতা পুলিশের ডিসিপি শান্তনু সিনহা বিশ্বাসের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ। দু’জনে একাধিক থানায় একসঙ্গে কাজ করেছেন।

    পাশাপাশি শান্তনুর ফার্ন রোডের বাড়ির ঠিক উপরের ফ্ল্যাটেও হানা দিয়েছে ইডি। জানা গিয়েছে, সেখানে এক সরকারি আধিকারিক থাকেন। তিনি শান্তনুর আত্মীয়ও। তাঁর সঙ্গে শান্তনুর যোগসূত্র খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এখনও পর্যন্ত তিনটি জায়গাতেই জোরকদমে তল্লাশি চলছে বলে জানা গিয়েছে। তবে কাউকে গ্রেপ্তার বা নথিপত্র বাজেয়াপ্ত করার খবর মেলেনি।

    বেহালার রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়ী জয় কামদার এবং কলকাতা পুলিশের ডিসি পদমর্যাদার প্রাক্তন অফিসার শান্তনু সিনহা বিশ্বাসের হয়ে জমি সিন্ডিকেট চালানোর অভিযোগে দক্ষিণ কলকাতার ব্যবসায়ী বিশ্বজিৎ পোদ্দার ওরফে সোনা পাপ্পুকে গ্রেপ্তার করেছে ইডি। তাঁর বিরুদ্ধে ভয় দেখিয়ে কম দামে জমি কেনার অভিযোগ রয়েছে। শুধু তাই নয়, জাল নথির মাধ্যমে জমি দখল এবং অবৈধ নির্মাণের অভিযোগও রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।

    গ্রেপ্তারের পরে গত মঙ্গলবার কলকাতার বিশেষ ইডি আদালতে হাজির করানো হয় সোনা পাপ্পুকে। শান্তনু, সোনা পাপ্পু এবং জয়, এই তিন জন মিলে একটা নেক্সাস বা চক্র গড়ে তুলেছিলেন বলে আদালতে দাবি করেছে ইডি। আপাতত ২৮ মে পর্যন্ত তাঁকে ইডি হেফাজতে রাখার নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক। তাঁকে জেরা করে বিভিন্ন তথ্য পাচ্ছেন তদন্তকারীরা। তার ভিত্তিতেই চলছে তল্লাশি অভিযান।

  • Link to this news (এই সময়)