• শান্তনু সিনহা বিশ্বাসের কান্দির ‘রাজপ্রাসাদে’ হানা ইডি-র, তালা ভেঙে শুরু চিরুনি তল্লাশি
    এই সময় | ২২ মে ২০২৬
  • বাড়ি তো নয়, যেন রাজপ্রাসাদ। পাঁচিল দিয়ে ঘেরা বিশাল এলাকা। তার ভিতরে প্রাসাদোপম বাড়ি। কলকাতা পুলিশের ডিসিপি শান্তনু সিনহা বিশ্বাসের গ্রেপ্তারির পরে তাঁর মুর্শিদাবাদের কান্দির এই বাড়ি নিয়ে চর্চা চলছিল গোটা রাজ্য জুড়েই। শুক্রবার সকালে সেখানে পৌঁছে গেল ইডি।

    ইডি সূত্রে খবর, কান্দি পুরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের শান্তনুর বাড়িটি এক ঝলকে দেখলে রাজপ্রাসাদ বলে ভুল হতে পারে। তবে বাড়িটির কাজ চলছে। তার আগেই উঁচু পাঁচিল দিয়ে ঘিরে ফেলা হয়েছে পুরো জমি। গত এক সপ্তাহ ধরে বাড়িটি বন্ধ। এ দিন যখন ইডি-র তদন্তকারীরা সেখানে পৌঁছন তখনও সিংহদুয়ারে তালা ঝুলছে।

    জানা গিয়েছে, কান্দির জীবন্তী এলাকায় পৌঁছেই গোটা বাড়ি ঘিরে ফেলেন কেন্দ্রীয় বাহিনী। কিন্তু গেটে তাল ঝুলছে দেখে বেশ কিছুক্ষণ অপেক্ষা করেন তাঁরা। তার পরে তালা ভেঙে ভিতরে ঢোকেন। পুরো বাড়ি এবং এলাকায় শুরু হয় তল্লাশি। স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গেও কথা বলেন তদন্তকারীরা। বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য তাঁদের হাতে এসেছে বলে জানা গিয়েছে। পাশেই জীবন্তী এলাকায় শান্তনুর বোন গৌরী সিনহা বিশ্বাসের বাড়ি। তিনি কান্দি পুরসভার উপ-পুরপ্রধান। তবে তিনিও বর্তমানে বাড়িতে নেই বলেই জানা গিয়েছে।

    সোনা পাপ্পুর সঙ্গে তোলাবাজি এবং প্রতারণা, এনআরআই কোটায় মেডিক্যাল অ্যাডমিশন এবং বালি পাচার, এই তিন মামলায় ভোটের আগে থেকেই শান্তনু সিনহা বিশ্বাসকে তলব করছিল ইডি। শেষে ভোট শেষ হওযার পরে ১৪ মে কলকাতার সিজিও কমপ্লেক্সে হাজিরা দিতে যান তিনি। সেখানেই ম্যারাথন জেরার পরে তাঁকে গ্রেপ্তার করেন তদন্তকারীরা। ইডি-র দাবি, কলকাতা পুলিশের ডিসি একাধিক প্রশ্নের উত্তর এড়িয়ে গিয়েছেন শুধু নয়, তথ্য গোপন করেছেন, এমনকী বিভ্রান্ত করার চেষ্টাও করেছেন।

    এ দিন কলকাতার কসবায় শান্তনু ঘনিষ্ঠ কলকাতা পুলিশের এক সাব-ইন্সপেক্টরের বাড়িতেও হানা দিয়েছে ইডি। একই সঙ্গে চক্রবেড়িয়া এবং পার্ক স্ট্রিটের একটি ক্যাফেটেরিয়া কাম হোটেলেও চলছে তল্লাশি। তার মধ্যেই মুর্শিদাবাদে শান্তনুর গ্রামের বাড়িতেও পৌঁছে গেল ইডি-র টিম। সাধারণ পুলিশ কর্মীর বেতন বা আয়ের সঙ্গে এই বিলাসবহুল প্রাসাদ তৈরির খরচের হিসাব মিলছে না বলেই মনে করছেন তাঁরা।

  • Link to this news (এই সময়)