• JU ক্যাম্পাসে কুকুর-বেড়াল নিষিদ্ধ, বেনজির সিদ্ধান্তে বিতর্ক
    আজ তক | ২২ মে ২০২৬
  • যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে একাধিক কুকুরের কামড়ের ঘটনার পর এবার কড়া পদক্ষেপের পথে হাঁটল বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী, নির্দিষ্ট কিছু জায়গা ছাড়া ক্যাম্পাসের অন্য কোথাও পথকুকুর বা বিড়ালকে খাবার দেওয়া যাবে না। পাশাপাশি স্টাফ কোয়ার্টারে পোষ্য প্রাণী রাখা নিয়েও নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।

    সোমবার বিশ্ববিদ্যালয়ের পশু কল্যাণ কমিটির বৈঠকে এই প্রস্তাবগুলি গৃহীত হয়। কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, মূল ক্যাম্পাস, ন্যাশনাল ইনস্ট্রুমেন্টস লিমিটেড ক্যাম্পাস এবং সল্টলেক ক্যাম্পাসের ভিড়পূর্ণ এলাকা, যেমন ক্যান্টিন, ছাত্রাবাস, অ্যাকাডেমিক ও প্রশাসনিক ভবনের আশপাশে, কুকুর বা বিড়ালকে খাওয়ানো যাবে না।

    বিশ্ববিদ্যালয়ের গেটের সামনে, প্রবেশ ও বাহির হওয়ার পথ এবং প্রধান সড়কের ধারের এলাকাগুলিকেও ‘নো-ফিডিং জোন’ হিসেবে চিহ্নিত করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

    আট সদস্যের কমিটির পর্যবেক্ষণ, কিছু আবাসিক কোয়ার্টারকে নিয়মবহির্ভূতভাবে পথকুকুরদের আশ্রয় দেওয়ার জন্য ব্যবহার করা হচ্ছিল। সেই কারণেই শিক্ষক ও অশিক্ষক কর্মচারীদের কোয়ার্টার শুধুমাত্র পোষ্য বা অন্যান্য প্রাণী রাখার উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা যাবে না বলে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

    কমিটির বক্তব্য, কোনও আবাসিক কোয়ার্টারকে কুকুরশালা বা প্রাণীদের স্থায়ী আশ্রয়স্থল হিসেবে ব্যবহার করার অধিকার কারও নেই। এমনকি এক অধ্যাপকের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে, তাঁকে বরাদ্দ করা কোয়ার্টারটি তিনি নিজে ব্যবহার না করে শুধুমাত্র কুকুর রাখার কাজে ব্যবহার করছিলেন। বিশ্ববিদ্যালয় জানিয়েছে, ওই কোয়ার্টার পুনরুদ্ধার করে প্রয়োজনীয় আবাসনহীন শিক্ষকের হাতে তুলে দেওয়া হবে।

    জানা গেছে, একাধিক কুকুরের কামড়ের ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতেই বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ওই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বাইরের কুকুরও ক্যাম্পাসে ঢুকে পড়ছে। কমিটি ক্যাম্পাসের গেটে জাল লাগিয়ে বাইরের কুকুরের প্রবেশ রোধ করারও সুপারিশ করেছে। পাশাপাশি ক্যাম্পাসের সব কুকুরকে ধরে টিকাকরণ ও বন্ধ্যাকরণের ব্যবস্থা করার কথাও বলা হয়েছে।

    বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন প্রান্তে সতর্কতামূলক ব্যানার টাঙানোরও প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। সেখানে লেখা থাকবে, 'এই এলাকায় পশুদের খাওয়ানো কঠোরভাবে নিষিদ্ধ' এবং 'নিরাপত্তার স্বার্থে ক্যাম্পাসকে পথকুকুরমুক্ত রাখতে হবে।'

    উল্লেখ্য, সম্প্রতি ভারতের সুপ্রিম কোর্টও দেশজুড়ে কুকুরের কামড় ও জলাতঙ্কের বাড়বাড়ন্ত নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এবং বিপজ্জনক বা জলাতঙ্কে আক্রান্ত কুকুরদের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। 

     
  • Link to this news (আজ তক)