সব মাদ্রাসায় 'বন্দে মাতরম' গাওয়া বাধ্যতামূলক করেছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। আর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সরকারের এই সিদ্ধান্তকে 'অসাংবিধানিক' বলে দাবি করলেন সিপিআইএম নেতা তথা আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য। পাশাপাশি এই নির্দেশের বিরুদ্ধে উপযুক্ত সময়ে তিনি হাই কোর্টে যাবেন বলেও হুঁশিয়ারি দিলেন।
সংবাদ সংস্থা এএমআই-কে বিকাশ বলেন, 'পশ্চিমবঙ্গ সরকারের মাদ্রাসা ও অন্যান্য স্কুলে বন্দে মাতরম গাওয়া বাধ্যতামূলক করার চেষ্টা অসাংবিধানিক।'
এখানেই শেষ না করে তিনি জানান, এই সংক্রান্ত ইতিমধ্যেই একটি পিটিশন হাই কোর্টে বিচারাধীন অবস্থায় রয়েছে। তিনি ইতিমধ্যেই কেন্দ্রের 'বন্দে মাতরম' ৬ স্তবক গাওয়া বাধ্যতামূলক করার সিদ্ধান্ত নিয়ে মামলা দায়ের করেছেন। আর এমন পরিস্থিতিতে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের নেওয়া এই সিদ্ধান্ত অসাংবিধানিক বলে মনে করেন বিকাশরঞ্জন।
তাঁর কথায়, 'পশ্চিমবঙ্গ সরকার আবার নতুন নির্দেশ দিয়েছে। এটা অসাংবিধানিক। উপযুক্ত সময়ে এই সিদ্ধান্তগুলিকে হাই কোর্টে চ্যালেঞ্জ করা হবে।'
মাথায় রাখতে হবে, ১৯ মে একটি নির্দেশ জারি করেছে মাদ্রাসা শিক্ষার ডিরেক্টরেট। সেখানে বলা হয়েছে, এখন থেকে পশ্চিমবঙ্গের সব মাদ্রাসায় 'বন্দে মাতরম' গাওয়া বাধ্যতামূলক। এই নির্দেশে বলা হয়, সংখ্যালঘু এবং মাদ্রাসা শিক্ষা দফতরের অধীনস্ত সমস্ত মাদ্রাসায় এই নিয়ম লাগু করা হচ্ছে। এর আগে যেই সমস্ত প্রথা ও নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল, সেই সব বাতিল করেই এই সিদ্ধান্ত জারি করা হল। এই নির্দেশ অবিলম্বে কার্যকর করতে হবে।
তবে শুধু মাদ্রাসা নয়, বর্তমানে বাংলার সমস্ত সরকারি এবং সরকারি পোষিত স্কুলেও 'বন্দে মাতরম' গাওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। ১৩ মে পশ্চিমবঙ্গের স্কুল শিক্ষা বিভাগ এই মর্মে একটি নির্দেশিকা জারি করে। সেখানে বলা হয়, এখন থেকে সব সরকারি এবং সরকার পোষিত স্কুলে 'বন্দে মাতরম' বাধ্যতামূলক। আর সেই সিদ্ধান্তের পরই মাদ্রাসাগুলিকেও একই নির্দেশ দেয় শুভেন্দু অধিকারী পরিচালিত রাজ্য সরকার।
এই সিদ্ধান্ত নিয়ে মুখ খুলেছেন সংখ্যালঘু বিষয়ক ও মাদ্রাসা শিক্ষা দফতরের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী ক্ষুদিরাম টুডু। তাঁর প্রশ্ন, ‘যখন রাজ্যের অন্যান্য সরকারি স্কুলে বন্দে মাতরম গাওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে, তখন মাদ্রাসাকে আলাদা রাখা হবে কেন?’
যদিও এই নির্দেশ জারির পর থেকেই বিতর্ক তুঙ্গে উঠেছে। বিরোধীদের দাবি, সরকার ইচ্ছেকৃতভাবে এই 'অনৈতিক কাজ' করছে। ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের উপর এভাবে নির্দেশ চাপিয়ে দেওয়া উচিত কি না, তা নিয়ে আলোচনা হওয়া দরকার। আর এবার এই বিষয়টা নিয়েই সরব হলেন বিকাশ।