• কুড়মিদের জাতিসত্ত্বার আন্দোলনে মিথ্যা মামলা? পুরুলিয়ার এসপির কাছে রিপোর্ট তলব মুখ্যমন্ত্রীর
    প্রতিদিন | ২২ মে ২০২৬
  • যে কারণে জঙ্গলমহলে আদিবাসী কুড়মি সমাজের ‘নো ভোট টু টিএমসি’-র আহ্বান! সেই বিষয়েই অর্থাৎ জাতিসত্ত্বার আন্দোলনে আদিবাসী কুড়মি সমাজের রেল অবরোধকে ঘিরে নেতা, কর্মী-সমর্থকদের নামে মিথ্যা মামলা দিয়ে জঙ্গলমহল পুরুলিয়ায় সত্যিই পুলিশি অত্যাচার হয়েছে কিনা তা পুলিশ সুপারের কাছে রিপোর্ট তলব করলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বৃহস্পতিবার দুর্গাপুরের সিটি সেন্টারে সৃজনী প্রেক্ষাগৃহে পশ্চিমাঞ্চলের ৫ জেলাকে নিয়ে প্রশাসনিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী পুলিশ সুপার বৈভব তেওয়ারির কাছে এই রিপোর্ট চান। এরপরই আদিবাসী কুড়মি সমাজে খুশির হাওয়া। খানিকটা যেন স্বস্তির নিঃশ্বাস।

    তবে ওই রেল অবরোধকে কলকাতা হাই কোর্ট ‘অসাংবিধানিক’ ও ‘বেআইনি’ বলেছিল। তার প্রেক্ষিতেই পুরুলিয়া জেলা পুলিশ পদক্ষেপ করে। দুর্গাপুজোর আগে ২০২৫ সালের ২০ সেপ্টেম্বর ওই রেল অবরোধ ছিল। হাইকোর্টের ওই নির্দেশের পরেও কুড়মি নেতা, কর্মী-সমর্থকরা অবরোধ করার চেষ্টা করলে পদক্ষেপ নেয় পুলিশ। পুলিশের উপর হামলা হয়। রেল ও রাজ্য পুলিশের তিনটি মামলায় গ্রেপ্তার হন মোট ৫১ জন। পুরুলিয়া জেলা পুলিশ গ্রেপ্তার করে ২৯ জনকে। আরপিএফ গ্রেফতার করে ২২ জনকে। জেলা পুলিশ এবং আরপিএফ উভয়ই ৫১ জনের নামে মামলা রুজু করে। অতীতেও কুড়মিদের এই রেল অবরোধকে ঘিরে আরপিএফ মামলা করে। এবং স্টেশনে ক্ষয়ক্ষতি হয়। বৃহবৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী জানান, জাতিসত্তার আন্দোলনে মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়েছে কিনা পুরুলিয়ার এসপি তার রিপোর্ট দেবেন।

    ওই সময় ২০২৫ সালের ৮ ই অক্টোবর পুরুলিয়ার নতুন প্রস্তাবিত বাসস্ট্যান্ডে পুলিশ সন্ত্রাস বিরোধী জনসভা করে আদিবাসী কুড়মি সমাজ। মূল মানতা অজিতপ্রসাদ মাহাতো ওই সভা থেকে ‘নো ভোট টু টিএমসি’-র ডাক দেন। তারপর ওই সংগঠনে ভাঙন ধরে। বৃহস্পতিবার রাতে মূল মানতা বলেন, ” জাতিসত্তার আন্দোলনে হাইকোর্টের অছিলায় আমাদের উপর অত্যাচার করা হয়েছিল। মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়েছিল। পুলিশ এরকম অত্যাচার চালিয়ে গেলেও তৃণমূল কোন প্রতিবাদ করেনি। হাইকোর্টের আদেশনামায় একটি পয়েন্টে ছিল কোনো রকম ক্ষতি না করে শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করা যাবে। কিন্তু রেল অবরোধের দু’দিন আগে থেকে গ্রামে গ্রামে কেন অত্যাচার করা হয়েছিল? মুখ্যমন্ত্রী এই বিষয়ে পদক্ষেপ নিয়েছেন। ফলে আমাদের আন্দোলন যে যথার্থ সেটা প্রমাণ হল। “

    ওই ঘটনার পর থেকেই পুলিশ ও তৃণমূলের বিরুদ্ধে একেবারে বেঁকে বসে আদিবাসী কুড়মি সমাজ। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসের প্রথম সপ্তাহে কোটশিলার মুরগুমার কেনকেচে পাহাড়ে একটি কর্মসূচি থেকে আদিবাসী কুড়মি সমাজ চূড়ান্তভাবে সিদ্ধান্ত নেয় তৃণমূলকে একটিও ভোট না দেওয়ার। এদিনের বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী কুড়মালি ও রাজবংশী ভাষাকে অষ্টম তফশিলে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য পদক্ষেপ নেবে বলে জানান। এদিকে অযোধ্যা পাহাড়তলি এলাকায় বেআইনি পোস্ত চাষ ব্যাপকভাবে হচ্ছে বলে অভিযোগ। এই বিষয়ে পুরুলিয়ার এসপিকে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন মুখ্যমন্ত্রী।
  • Link to this news (প্রতিদিন)