চাকরির নামে ২০ লক্ষ টাকার আর্থিক প্রতারণা! অভিযুক্ত পাণ্ডবেশ্বরের প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক
প্রতিদিন | ২২ মে ২০২৬
চাকরি পাইয়ে দেওয়ার নামে আর্থিক প্রতারণা! এলাকার যুবকদের থেকে ২০ লক্ষ টাকা নিয়ে চাকরি না দেওয়ার অভিযোগ পাণ্ডবেশ্বরের প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে। পাণ্ডবেশ্বর থানার লিখিত অভিযোগ খগেন্দ্রনাথ মণ্ডল নামে এক ব্যক্তির। তদন্ত করে টাকা ফেরত দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তিনি। এ দিকে সোশাল মিডিয়ায় একটি বিবৃতিতে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন পাণ্ডবেশ্বরের প্রাক্তন বিধায়ক। তাঁর দাবি, “আমাকে ফাঁসানোর চেষ্টা হচ্ছে।”
খগেন্দ্রনাথ মণ্ডল পাণ্ডবেশ্বর থানার জোয়ালভাঙা গ্রামের বাসিন্দা। তিনি জানিয়েছেন, জমি সংক্রান্ত একটি বিষয়ে প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তীর সঙ্গে তাঁর পরিচয়। খগেন্দ্রনাথের দাবি, পরিচয়ের পর অর্থের বিনিময়ে এলাকার ১৫ জন যুবকে চাকরি দেওয়ার কথা বলেন বিধায়ক। প্রত্যেকের থেকে ২ লক্ষ অর্থাৎ মোট ৩০ লক্ষ তুলতে বলেন তিনি। সেই মতো যুবকদের পরিবার ধাপে ধাপে ২০ লক্ষ টাকা জোগাড় করে। খগেন্দ্রনাথ সেই টাকা তুলে দেন বিধায়কের হাতে। কিন্তু চাকরি হয়নি। টাকা ফেরত চাইতে গেলে তা ফেরত পাওয়া যায়নি বলে দাবি করেছেন তিনি।
খগেন্দ্রনাথের অভিযোগ, “এলাকার ছেলেদের ভবিষ্যতের কথা ভেবে আমরা টাকা জোগাড় করি। অনেকেই ধার দেনা করে টাকা দিয়েছে। দীর্ঘদিন কেটে গেলেও চাকরি হয়নি। পরে টাকা ফেরতের কথা বললেও নানা অজুহাত দেওয়া হয়। শেষ পর্যন্ত বাধ্য হয়েই থানায় অভিযোগ দায়ের করেছি। চাকরি না হওয়ার পাশাপাশি টাকা ফেরত না পাওয়ায় যুবক ও তাঁদের পরিবার চরম আর্থিক সঙ্কটের মধ্যে পড়েছে।” তবে তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী। তাঁর দাবি, “আমাকে নানাভাবে ফাঁসানোর চেষ্টা হচ্ছে। আমার সামর্থ্য মতো মানুষের কাজ করেছি। আমার কাছে যারা এসেছে কেউ খালি হাতে ফিরে যায়নি। রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নিয়েই আমার বিরুদ্ধে এই অভিযোগ আনা হয়েছে।”
অন্যদিকে, দুর্গাপুরের ফরিদপুরে লাউদোহায় সন্ত্রাস ও প্রতারণার অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছেন তৃণমূল শ্রমিক সংগঠনের ব্লক সভাপতি শেখ ওয়াসুল। চাকরির দেওয়ার নামে আর্থিক প্রতারণা, এলাকায় সন্ত্রাস তৈরির অভিযোগ ছিল। ছাব্বিশের নির্বাচনে ভোটারদের উপর চাপ তৈরির অভিযোগও ওঠে। অবশেষে বৃহস্পতিবার গভীর রাতে অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। শুক্রবার সকালে ধৃতকে দুর্গাপুর মহকুমা আদালতে তোলা হয়। শেখ ওয়াসুলের দাবি, “আমি দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে রাজনীতি করছি। কারও সঙ্গে দুর্ব্যবহার করিনি।”