• মুখ্যমন্ত্রীর দপ্তরের নামে অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র বেচে চম্পট! গ্রেপ্তার দুই যুবক
    এই সময় | ২২ মে ২০২৬
  • এই সময়, আলিপুরদুয়ার: এ ভাবেও বেচা যায়?

    মুখ্যমন্ত্রীর দপ্তর থেকে আসছি বলে গত দু'দিন ধরে বেশ কয়েকজন ব্যবসায়ীর সঙ্গে প্রতারণা করে কয়েক হাজার টাকা হাতিয়েছিলেন দুই যুবক। কিন্তু শেষরক্ষা হলো না। বৃহস্পতিবার ধরা পড়ে গেলেন তারা।

    ঠিক কী ঘটেছে? গত মঙ্গলবার আলিপুরদুয়ার জংশনের ডিআরএম চৌপথি, লিচুতলা-সহ বেশ কয়েকটি এলাকায় বিভিন্ন দোকানে ঢুকে নিজেদের 'মুখ্যমন্ত্রীর দপ্তর থেকে আসছি বলে' পরিচয় দেন ওই দুই যুবক। তাঁদের সঙ্গে ছিল বেশ কয়েকটি অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র। ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, অভিযুক্তরা তাঁদের বলেন, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নাকি নির্দেশ দিয়েছেন, ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র না-থাকলে আইনি জটিলতায় পড়তে হবে। গ্রেপ্তারও করা হতে পারে। এই বলে বারবার ভয় দেখিয়ে অভিযুক্তদের কাছে থাকা অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র কিনতে বলেন।

    ব্যবসায়ীরাও ওই দুই যুবকের কথায় রীতিমতো ভয় পেয়ে পাঁচ-সাড়ে পাঁচ হাজার টাকার এক-একটি যন্ত্র ১০ হাজার ২০০ টাকায় কিনে নেন। পরে তাঁরা খতিয়ে দেখেন, যন্ত্রগুলি নকল নয়। কিন্তু কয়েকজন ব্যবসায়ীর মনে সন্দেহ থেকেই যায়। এ ভাবে কলকাতা থেকে এসে মুখ্যমন্ত্রীর দপ্তরের কর্মী পরিচয় দিয়ে কেউ অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র বিক্রি করতে পারে কি? জানা যায়, বুধবারও একই ভাবে অন্য এলাকায় ব্যবসায়ীদের ঠকিয়ে যন্ত্র বিক্রি করেছেন ওই দুই যুবক। বৃহস্পতিবারও একই কায়দায় অন্য এলাকায় অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র বিক্রি করতে বেরিয়েছিলেন তাঁরা। ব্যবসায়ীরাও ততক্ষণে নিজেদের মধ্যে অভিযুক্তদের তথ্য আদানপ্রদান করে ফেলেন। আর তাতেই কাজ হয়। হাতেনাতে ধরা পড়ে যান দুই যুবক।

    এ দিন বিকেলে ওই দু'জনকে নিয়ে আলিপুরদুয়ার থানায় এসে পুলিশের হাতে তুলে দেন ব্যবসায়ীরা। পুলিশ তাঁদের গ্রেপ্তার করেছে। যে ব্যবসায়ীরা তাঁদের থেকে যন্ত্র কিনেছিলেন, খবর পেয়ে তাঁরাও চলে আসেন থানায়। পুলিশ সূত্রে খবর, অভিযুক্তরা ব্যবসায়ীদের টাকা ফেরত দিয়ে দেন। মামলায় জড়াতে না-চাওয়ায় কেউ লিখিত অভিযোগ দায়ের করেননি। তবে এই চক্রের শিকড় কতদূর পর্যন্ত বিস্তৃত, তা জানতে স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। শুক্রবার ধৃতদের আদালতে পেশ করা হবে।

  • Link to this news (এই সময়)