এই সময়, আলিপুরদুয়ার: দুয়ারে কড়া নাড়ছে বর্ষা। সঙ্গে আলিপুরদুয়ার জেলাজুড়ে বাড়ছে ডেঙ্গি ও ম্যালেরিয়ার প্রকোপ। এই পরিস্থিতিতে জেলার দু'টি পুরসভায় ব্যস্ততা তুঙ্গে পৌঁছনোর কথা ছিল। কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে উল্টো ছবি। কার্যত অভিভাবকহীন হয়ে পড়েছে আলিপুরদুয়ার ও ফালাকাটা পুরসভা। অফিসে দেখা মিলছে না কাউন্সিলারদের। ফলে নাগরিক পরিষেবা লাটে উঠেছে। রাজ্যে পালাবদলই এর মূল কারণ বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
আলিপুরদুয়ার পুরসভায় ২০টির মধ্যে ১৯টি আসনই তৃণমূলের দখলে। অন্যদিকে ফালাকাটা পুরসভায় ১৮টি আসনই দখলে রাজ্যের পূর্বতন শাসকদলের। এই অবস্থায় রাজ্যে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ায় কার্যত মুষড়ে পড়ে নিষ্ক্রিয় হয়ে গিয়েছেন তৃণমূলের কাউন্সিলাররা। যার সরাসরি প্রভাব পড়েছে পুর পরিষেবায়। দুই শহরে রাস্তার মোড়ে স্তূপাকারে জমছে আবর্জনা। যা থেকে দূষণ ছড়াচ্ছে। অন্যদিকে দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না-হওয়ায় দু'টি শহরের নালাগুলি প্রায় বুজে যাওয়ার মতো অবস্থা। জলনিকাশি ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় ওই নালাগুলিতে বংশবৃদ্ধি করে চলেছে মশারা।
এই মুহূর্তে জেলায় ডেঙ্গি এবং ম্যালেরিয়া আক্রান্তের সংখ্যা যথাক্রমে ৬ এবং ৬১। তাঁদের মধ্যে কেউই এই দুই পুরসভার বাসিন্দা নন। তবে এতে স্বস্তির বদলে উদ্বেগই প্রকাশ করেছেন জেলা স্বাস্থ্য দপ্তরের আধিকারিকরা। তাঁদের মতে, দ্রুত দুই শহরের আবর্জনা সরিয়ে জলনিকাশির ব্যবস্থার হাল ফেরানো না-যায়, তা হলে 'বিপর্যয়' নেমে আসতে বেশি সময় লাগবে না। ফি বছর পুরসভাগুলির উদ্যোগে বর্ষার আগে গাপ্পি মাছ ছাড়া হতো। এ বছর নির্বাচনের জন্য সেই কাজ বন্ধ। ভোটের ফল প্রকাশের পরেও উদ্যোগের চিহ্নমাত্র নেই। জেলা স্বাস্থ্য দপ্তরের ডেপুটি সিএমওএইচ সুপ্রিয় চৌধুরী বলেন, 'বর্ষার সময়ে মশাবাহিত রোগ মোকাবিলায় আমাদের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে এতদিন মাঠে নামত পঞ্চায়েত ও পুরসভা। এ বছর কিছুই চোখে পড়ছে না। বিপদের আশঙ্কা করছি।'
আলিপুরদুয়ার পুরসভার চেয়ারম্যান প্রসেনজিৎ কর ফোন ধরেননি। ফালাকাটা পুরসভায় ভোটের ফল বেরোনোর পরে তিন বার বোর্ড অফ কাউন্সিলার্স-এর মিটিং ডাকা হয়েছিল। কিন্তু কেউ না-আসায় তিন বারই মিটিং ভেস্তে যায়। এ নিয়ে তৃণমূলের কোনও কাউন্সিলার মুখ খুলতে চাননি। বিজেপির জেলা সভাপতি মিঠু দাস বলেন, 'কোনও নির্বাচিত বোর্ড ভাঙা হবে না। বরং সরকারের সঙ্গে সমন্বয় রেখে কাজ করার কথা বলা হয়েছে। তার পরেও কেন দুই পুরসভা নিষ্ক্রিয়, বুঝতে পারছি না।'