এই সময়, শিলিগুড়ি: শহরে প্ল্যান ছাড়া অবৈধ নির্মাণ চিহ্নিত করতে রাজ্য প্রশাসনের নির্দেশে বিশেষ টিম গঠন করল শিলিগুড়ি পুরসভা। পুরসভার ১৩ জন ইঞ্জিনিয়ারকে নিয়ে এই বিশেষ দল গঠন করা হয়েছে। ১৫ দিনের মধ্যে এ ব্যাপারে রিপোর্ট জমা দিতে বলা হয়েছে। অবৈধ নির্মাণ নিয়ে রাজ্যজুড়ে হইচই শুরু হয়েছে। রাজ্যের একাধিক জায়গায় অবৈধ নির্মাণ ভাঙা শুরু হয়েছে। বুধবার শিলিগুড়ি এসে শহরের অবৈধ নির্মাণের বিষয়টি পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পালকে দেখতে বলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
যদিও এই বিষয়ে মেয়র গৌতম দেব বলেন, 'যেমন তথ্য জানতে চাওয়া হয়েছে তেমনভাবেই সব তথ্য ও রিপোর্ট জানা গিয়েছে, শিলিগুড়ি পুরসভার ১-৫, ১৮, ২৮, ৩১-৪৪8 নম্বর ওয়ার্ডগুলিতে সব থেকে বেশি অবৈধ নির্মাণ রয়েছে। কারণ এই ওয়ার্ডগুলিতে বহু বাসিন্দার জমির সঠিক নথি নেই। এখানকার বাসিন্দাদের একটি বড় অংশ রেল, সেচ ও সরকারের বিভিন্ন খাস জমির উপর বাড়ি করে রয়েছেন। এর বাইরেও অন্য ওয়ার্ডগুলিতেও কিছু সংখ্যক অবৈধ বিল্ডিং রয়েছে বলে অভিযোগ। বর্তমান রাজ্য সরকার অবৈধ নির্মাণ প্রসঙ্গে 'বুলডোজার' নীতি নেওয়ায় চিন্তা বেড়েছে পুরকর্তাদের। পুরসভার এক আধিকারিক বলেন, 'নির্দেশিকায় বলা হয়েছে বর্তমানে শহরে যতগুলো বিল্ডিং তৈরির কাজ চলছে, তার মধ্যে যেগুলির প্ল্যান পাস করানো নেই, সেগুলো খুঁজে বের করে রিপোর্ট পাঠাতে হবে।' পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, এই বিশেষ দলে থাকা ১৩ জন ইঞ্জিনিয়ারকে বিভিন্ন ওয়ার্ডের দায়িত্ব ভাগ করে দেওয়া হয়েছে।
রাজ্য সরকার অবৈধ নির্মাণ রুখতে বেশ কিছু নিয়ম জারি করেছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, বিল্ডিংয়ে কোনও ভাবেই অবৈজ্ঞানিক ভাবে ছাদবাগান করা যাবে না। এখানেই প্রশ্ন উঠছে, যাঁরা ইতিমধ্যেই ছাদবাগান করে রেখেছেন তাঁদের কী হবে? পুরসভার এক আধিকারিকের ব্যাখ্যা, 'বিল্ডিং সংক্রান্ত নিয়ম বিগত কয়েক দশকে বহুবার পরিবর্তিত হয়েছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী এসব করা যাবে না। কিন্তু আগে যাঁরা করেছেন সেই বিষয়ে পদক্ষেপ করার মতো কোনও নির্দেশিকা আসেনি।' উত্তরবঙ্গের বেশ কিছু এলাকায় বালি এবং পাথরের মান খুব উচ্চমানের নয়। ছাদবাগান অথবা বাড়তি নির্মাণ করলে জল জমে বিল্ডিং তার শক্তি হারাতে পারে। নতুন নিয়মে সেই সমস্যা কমবে বলে মনে করছেন অনেকে।