ত্বিষা শর্মার মৃত্যু তদন্তে বড় মোড়। মৃত মডেল-অভিনেত্রীর পরিবারের আবেদন মেনে দ্বিতীয় বার ময়নাতদন্তের অনুমতি দিল মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্ট। দিল্লির AIIMS-এর বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দলকে দিয়ে এই ময়নাতদন্ত করানো অনুমতি দিয়েছে আদালত। ত্বিষার পরিবারের দীর্ঘ আইনি লড়াই, প্রথম পোস্টমর্টেম নিয়ে প্রশ্ন এবং তদন্তে প্রভাব খাটানোর অভিযোগের পরেই এই গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ দিল আদালত। এ দিনই এই কেসের তদন্তভার CBI-এর হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে।
এদিকে, শুক্রবার আদালতে ত্বিষার পলাতক স্বামী ও অভিযুক্ত সমর্থ সিংয়ের পক্ষের আইনজীবী জানান, সমর্থ ট্রায়াল কোর্টে আত্মসমর্পণ করতে চান এবং তাঁর আগাম জামিনের আবেদনও প্রত্যাহার করতে প্রস্তুত। গত ১০ দিন ধরে পলাতক ছিলেন তিনি।
তবে এই প্রস্তাবের বিরোধিতা করেন সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা। আদালতে তিনি সওয়াল করেন, মামলার গুরুত্ব এবং অভিযুক্তের দীর্ঘ সময় পলাতক থাকার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ফলে শুধুমাত্র আত্মসমর্পণের ইচ্ছা প্রকাশ করলেই তাঁকে আইনি সুবিধা দেওয়া উচিত নয়। এদিকে ত্বিষার পরিবারও প্রশ্ন তুলেছে, ‘যদি তিনি নির্দোষ হন, তাহলে এতদিন আত্মগোপন করে ছিলেন কেন?’ ত্বিষার ভাই প্রকাশ্যে বলেন, গত ১০ দিন ধরে সমর্থ সিং কোথায় ছিলেন, সেই প্রশ্নের উত্তর এখনও মেলেনি।
৩৩ বছরের মডেল-অভিনেত্রী ত্বিষা শর্মার ঝুলন্ত দেহ গত ১২ মে ভোপালের কাটারা হিলস এলাকায় তাঁর শ্বশুরবাড়ি থেকে উদ্ধার হয়। মাত্র কয়েক মাস আগে আইনজীবী সমর্থ সিংয়ের সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়েছিল। পরিবারের অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই তাঁকে পণ নিয়ে মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন করা হতো। এই মামলায় ত্বিষার স্বামী সমর্থ সিং এবং শাশুড়ি গিরিবালা সিংয়ের বিরুদ্ধে পণের দাবি, নির্যাতন, আত্মহত্যায় প্ররোচনা এবং প্রমাণ নষ্ট করার অভিযোগ দায়ের হয়েছে। গিরিবালা সিং একজন অবসরপ্রাপ্ত বিচারক। মামলাটি সামনে আসার পর থেকেই সমর্থ সিং গা-ঢাকা দেন।
অন্যদিকে, ত্বিষার পোস্টমর্টেম রিপোর্ট নিয়ে শুরু থেকেই প্রশ্ন তুলেছিল তাঁর পরিবার। তাঁদের দাবি, AIIMS ভোপালে হওয়া ময়নাতদন্তে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দিক উপেক্ষা করা হয়েছে। পরিবারের আইনজীবী অঙ্কুর পাণ্ডের অভিযোগ, ঝুলন্ত অবস্থায় ব্যবহৃত বলে দাবি করা বেল্ট বা ‘লিগেচার ম্যাটেরিয়াল’ প্রথম পোস্টমর্টেমের সময়ে চিকিৎসকদের দেখানোই হয়নি। এ ছাড়া দেহে একাধিক আঘাতের চিহ্ন থাকা সত্ত্বেও তা যথাযথভাবে বিশ্লেষণ করা হয়নি বলে অভিযোগ।
তরুণীর বাবা নবনিধি শর্মা অভিযোগ করেন, তদন্তকে দুর্বল করার চেষ্টা হয়েছে এবং প্রভাবশালী মহলের চাপ ছিল। অভিযুক্তদের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা তদন্ত প্রক্রিয়ায় প্রভাব ফেলতে পারেন বলেই তারা দিল্লির AIIMS-এ নতুন করে ময়নাতদন্তের দাবি জানায়। এর আগে ভোপালের নিম্ন আদালত দ্বিতীয় পোস্টমর্টেমের আবেদন খারিজ করেছিল। আদালত বলেছিল, ‘ছোটখাটো প্রক্রিয়াগত ত্রুটি’ থাকলেই দ্বিতীয় ময়নাতদন্তের নির্দেশ দেওয়া যায় না। একই সঙ্গে আদালত জানায়, ভোপালে দীর্ঘ সময় ধরে দেহ সংরক্ষণের মতো পর্যাপ্ত পরিকাঠামো নেই।
মধ্যপ্রদেশ সরকার ইতিমধ্যেই এই মামলার সিবিআই তদন্তের সুপারিশ করেছে। তদন্তকারীরা এখন ডিজিটাল প্রমাণ, CCTV ফুটেজ, ফোন রেকর্ড এবং ফরেনসিক তথ্য খতিয়ে দেখছেন।