বাংলায় ভোটের প্রচারে এসে তাঁর দোকানে ঝালমুড়ি খেয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সেই ঝালমুড়ি বিক্রেতা বিক্রম সাউকে খুনের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠল। অভিযোগ, অজ্ঞাত একটি নম্বর থেকে তাঁকে হোয়াটসঅ্যাপে হুমকি-বার্তা পাঠানো হয়েছে। ফোন এবং ভিডিয়ো কল করেও তাঁকে বোমা মেরে উড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ।
বিক্রম ইতিমধ্যেই ঝাড়গ্রাম থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। তার প্রেক্ষিতে ঝাড়গ্রামের পুলিশ সুপার মানব সিংলা বলেন, ‘ঝালমুড়ি বিক্রেতাকে অজ্ঞাত ফোন নম্বর থেকে হোয়াটসঅ্যাপে টেক্সট মেসেজ করে হুমকি দেওয়া হয়েছে। উনি অভিযোগ দায়ের করেছেন। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।’
বিক্রমের অভিযোগ, শুধু মেসেজই নয়, তাঁকে অজ্ঞাত নম্বর থেকে ফোনও করা হয়েছিল। সেই ফোন এসেছিল বাংলাদেশ বা পাকিস্তান থেকে। বিক্রমের কথায়, ‘বাংলাদেশ এবং পাকিস্তান থেকে ফোন এসেছিল। শুভেচ্ছা বাক্য দিয়ে কথা শুরু করে। আমি কোনও উত্তর না দেওয়ায় আমাকে বলা হলো, বোমা মেরে উড়িয়ে দেওয়া হবে। এই ঘটনার কথা থানায় জানানোর পরে আইসি এবং অন্য পুলিশকর্মীরা এসেছিলেন। হোয়াটসঅ্যাপের টেক্সট মেসেজ লেখা হয়েছে, তুমি আমাদের টার্গেটে রয়েছো। তোমাকে বোম দিয়ে উড়িয়ে দেওয়া হবে।’
বিক্রম আদতে বিহারের গয়ার বাসিন্দা। দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে সপরিবার ঝাড়গ্রাম শহরের স্টেশন পাড়ায় রয়েছেন। সেখানে বাড়িও তৈরি করেছেন। বিক্রমের বাড়িতে বয়স্ক মা-বাবা, স্ত্রী এবং এক পুত্রসন্তান রয়েছে। এই ঘটনায় বিক্রমের গোটা পরিবার আতঙ্কিত। পুলিশ সূত্রে খবর, পরিবারের সকলকে আশ্বস্ত করা হয়েছে।
গত ১৯ এপ্রিল ঝাড়গ্রামে জনসভা করে ফেরার পথে বিক্রমের দোকান থেকে ঝালমুড়ি কিনে খেয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী। তা নিয়ে রাজ্য-রাজনীতি তো বটেই, আলোড়িত হয়েছিল জাতীয় রাজনীতিও। মুহূর্তে সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছিল মোদীর ঝালমুড়ি খাওয়ার সেই দৃশ্য। বিক্রমও রাতারাতি কার্যত সেলিব্রিটি হয়ে যান! মোদী ফিরে যাওয়ার পর থেকেই তাঁর দোকানে সাধারণ মানুষের ভিড় বাড়তে থাকে। বাংলায় বিধানসভা ভোটের ফল প্রকাশের দিন পর্যন্ত বিক্রমের দোকান ঘিরে সেই উন্মাদনা ছিল। এ বার বাংলায় ক্ষমতার পালাবদল হয়েছে। সরকার গড়েছে বিজেপি। ভোট মেটার পর বিক্রমের জীবনও স্বাভাবিক ছন্দে ফিরতে শুরু করেছিল। সেই ছন্দই নষ্ট হলো হুমকি বার্তায়!