• হাওড়া স্টেশনে নাশকতার ছক! সিসিটিভিতে যা দেখা গেল...
    আজকাল | ২২ মে ২০২৬
  • আজকাল ওয়েবডেস্ক: ১৯মে, হাওড়া স্টেশনের ৭ নম্বর প্ল্যাটফর্মে আচমকাই তৈরি হয় যুদ্ধকালীন পরিস্থিতি। আপ মিথিলা এক্সপ্রেস ছাড়ার ঠিক আগের মুহূর্তে ট্রেনের দুটি কামরার সংযোগস্থল থেকে গলগল করে কালো ধোঁয়া বের হতে দেখে ছড়িয়ে পড়ে তীব্র আগুন-আতঙ্ক। চোখের পলকে ধোঁয়ায় অন্ধকারের গ্রাসে চলে যায় চারপাশ। 

    মঙ্গলবার ১৯ মে দুপুর ২:৩৫ থেকে ২:৪০ মিনিট নাগাদ মিথিলা এক্সপ্রেসের কোচে হঠাৎ আগুন জ্বলে ওঠে। মুহূর্তের মধ্যে স্টেশন চত্বরে ছড়িয়ে পড়ে আগুনের আতঙ্ক। চিৎকার, দৌড়াদৌড়ি—যেন এক দুঃস্বপ্ন। তবে রেল কর্তৃপক্ষ ও আরপিএফের তৎপরতায় আগুন দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আসে।কিন্তু যা ঘটেছে, তা কোনও সাধারণ দুর্ঘটনা নয়—এমনই ইঙ্গিত মিলছে তদন্তে। ঘটনার তদন্ত শুরু করতেই প্রকাশ্যে আসে যে ছবি, তা ভয়াবহ। সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখতেই ধরা পড়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য। 




    উল্লেখযোগ্য বিষয়, আগুন লাগার ঠিক আগে হাওড়া স্টেশন সংলগ্ন ক্যাব রোড এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ দেখে চমকে উঠেছেন তদন্তকারীরা। এক সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে দেখা গিয়েছে ইচ্ছাকৃতভাবে একটি হাতে করে ব্যাগ ছুঁড়ে ফেলতে। আর তার পরপরই সেখান থেকে ভয়ঙ্কর আগুন ও ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ে। 

    আইডিইউ সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ফুটেজ পোস্ট করে ঘটনা প্রসঙ্গে লিখেছে, 'হাওড়া স্টেশনের সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গিয়েছে, যাত্রীদের ব্যস্ততম সময়ে এক সন্দেহভাজন ব্যক্তি ক্যাব রোড এলাকার কাছে আগুন ও ধোঁয়া ছড়িয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করছে। এই ঘটনার পর নিরাপত্তা সংস্থা এবং আরপিএফ একটি বড় তদন্ত শুরু করেছে। মিথিলা এক্সপ্রেসের কোচে আগুন লাগার ঘটনার কিছুক্ষণ আগে এই ঘটনাটি ঘটে এবং এটিকে আতঙ্ক সৃষ্টি ও রেল চলাচল ব্যাহত করার উদ্দেশ্যে একটি অন্তর্ঘাতমূলক প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে। কর্তৃপক্ষ এখন সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে শনাক্ত করতে এবং এই ঘটনার নেপথ্যে থাকা বৃহত্তর চক্রকে তদন্ত করতে কাজ করছে, একইসঙ্গে দেশব্যাপী প্রধান রেল টার্মিনালগুলিতে উচ্চ সতর্কতা প্রোটোকল সক্রিয় করা হয়েছে।' সঙ্গেই লেখা হয়েছে, 'সময়টা ছিল স্টেশনে যাত্রীদের সবচেয়ে বেশি ভিড়ের। উদ্দেশ্য স্পষ্ট—শুধু ট্রেনে আগুন লাগানো নয়, হাজার হাজার যাত্রীর মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পদপিষ্টের মতো পরিস্থিতি তৈরি করা। ' 

    একের পর এক আগুনের ঘটনায় উদ্বিগ্ন রেল মন্ত্রক। মিথিলা এক্সপ্রেসের এই ঘটনা নতুন নয়। গত কয়েকদিন ধরে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে রেলে আগুন লাগার একাধিক ঘটনা ঘটেছে। এমনকী একাধিকবার ঘটেছে পশ্চিমবঙ্গেও। যা জাতীয় সম্পদের ক্ষতির পাশাপাশি যাত্রী সুরক্ষা নিয়ে একটা বড় প্রশ্ন উঠেছে। হাওড়ার মতো দেশের অন্যতম ব্যস্ত স্টেশনে এমন ঘটনা রেল কর্তৃপক্ষের কাছে বড় মাথা ব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। 

    ঘটনার পরপরই তদন্ত শুরু করেছে ভারতীয় রেল ও রেলের (RPF)পুলিশ প্রশাসন। সন্দেহভাজন ব্যক্তির পরিচয় শনাক্ত করতে কাজ চলছে জোরকদমে। আর এর পিছনে যে বৃহত্তর চক্রান্ত চলছে এবং কে বা কারা এই নাশকতার ছক কষছে তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। 

    তথ্য, ২১মে দিল্লিতে রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব ও ভারতীয় রেলের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের উপস্থিতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক পর্যন্ত হয়। যার মূল উদ্দেশ্য ছিল, কীভাবে এই ধরনের নাশকতার ছককে নিয়ন্ত্রণে আনা যায় এবং এর পিছনে কোন চক্রান্ত ও বড় মাথা যুক্ত রয়েছে তার নিষ্পত্তি করা। মূলত রেলকে কীভাবে আরও সুরক্ষিত রাখা যায় সেই বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক হয় দিল্লিতে।

     
  • Link to this news (আজকাল)