রাজ্যে মহিলাদের জন্য সরকারি বাসে বিনামূল্যে যাতায়াত পরিষেবা চালুর প্রস্তুতি চলছে। প্রাথমিকভাবে ১ জুন থেকে এই সুবিধা চালু হতে পারে বলে পরিবহন দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে। একই সঙ্গে সরকারি বাস পরিষেবা আরও সম্প্রসারণ ও শক্তিশালী করার দিকেও জোর দেওয়া হচ্ছে।
পরিবহন দফতরের ময়দান তাঁবুতে উচ্চপর্যায়ের এক বৈঠকে এই প্রকল্প বাস্তবায়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বৈঠকে পরিবহন নিগমের শীর্ষ আধিকারিক ও দফতরের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সূত্রের খবর, প্রথম ধাপে সিদ্ধান্ত হয়েছে যে শুধুমাত্র পশ্চিমবঙ্গের বাসিন্দা মহিলারাই এই বিনামূল্যের বাস পরিষেবার সুবিধা পাবেন। তবে সেই যাত্রীদের পরিচয় যাচাই কীভাবে হবে, তা নিয়েও নির্দিষ্ট রূপরেখা তৈরি করা হচ্ছে।
কীভাবে যাচাই হবে পরিচয়?
পরিকল্পনা অনুযায়ী, যাত্রীদের কাছে কেন্দ্রীয় সরকারের স্বীকৃত ১১টি পরিচয়পত্রের মধ্যে যেকোনও একটি রাখতে হবে। বাসে ওঠার সময় কন্ডাক্টর সেই পরিচয়পত্র যাচাই করবেন। এরপর টিকিট পাঞ্চিং মেশিনের মাধ্যমে শূন্য ভাড়ার কুপন বা টিকিট ইস্যু করা হবে। এই ব্যবস্থায় প্রতিটি যাত্রীর যাতায়াতের হিসেব সরকার পর্যায়ক্রমে পরিবহন নিগমকে ভর্তুকি হিসেবে শোধ করবে।
তবে বাস্তবে এই পদ্ধতি নিয়ে কিছু চ্যালেঞ্জও সামনে এসেছে। বিশেষ করে ভিড়ের মধ্যে পরিচয়পত্র যাচাই ও জাল নথি শনাক্ত করা কন্ডাক্টরের পক্ষে কঠিন হতে পারে বলে মনে করছেন আধিকারিকরা।
আসছে স্মার্ট ‘পিঙ্ক কার্ড’
এই সমস্যা কাটাতে ভবিষ্যতে আরও আধুনিক ও ডিজিটাল ব্যবস্থার দিকে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের মহিলাদের জন্য বিশেষ QR কোডযুক্ত ‘পিঙ্ক কার্ড’ বা স্মার্ট কার্ড চালুর কথা ভাবা হচ্ছে। এই কার্ড চালু হলে বাসে ওঠার সময় শুধু কার্ড স্ক্যান করলেই হবে, আলাদা পরিচয়পত্র দেখাতে হবে না।
কী কী লাগবে আবেদন করতে?
স্মার্ট কার্ডের জন্য আবেদন করতে সাধারণত যেসব নথি লাগতে পারে-
আধার কার্ড, ভোটার কার্ড, ড্রাইভিং লাইসেন্স, প্যান কার্ড, পাসপোর্ট, জব কার্ড, সরকারি পরিচয়পত্র, শিক্ষাগত প্রতিষ্ঠানের আইডি বা পেনশন নথি এবং সাম্প্রতিক ছবি।
কোথায় আবেদন করা যাবে?
প্রস্তাব অনুযায়ী, ব্লক স্তরে বিডিও অফিস বা মহকুমা স্তরে এসডিও অফিসের মাধ্যমে এই স্মার্ট কার্ডের জন্য আবেদন করা যাবে। যাচাই শেষে QR কোডযুক্ত কার্ড ইস্যু করা হবে।
বাস্তবায়ন ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
পরিবহন দফতর জানিয়েছে, প্রাথমিক পর্যায়ে এই প্রকল্প ধাপে ধাপে চালু করা হবে। একই সঙ্গে সরকারি বাসের সংখ্যা বাড়ানো, পুরনো বাস মেরামত এবং নতুন বাস কেনার বিষয়েও পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে।