• সোনা পাপ্পু, শান্তনুরা কেন ED-র নজরে? কী কী কীর্তি করেছে এরা? বিস্তারিত
    আজ তক | ২২ মে ২০২৬
  • ভোররাত। সূর্য উঠতে তখনও দেরি। শুক্রবার ভোররাত থেকেই পশ্চিমবঙ্গে একযোগে তল্লাশি অভিযানে নামে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED)। বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর থেকেই রাজ্যে তথাকথিত সিন্ডিকেট, তোলাবাজি এবং বেআইনি নির্মাণ চক্রের বিরুদ্ধে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাগুলির অভিযান ক্রমশ আক্রমণাত্মক হয়েছে। আর সেই তদন্তের কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে কলকাতা পুলিশের এক প্রাক্তন ডেপুটি কমিশনার এবং তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা দেবাশিস কুমারের ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত ব্যবসায়ী সোনা পাপ্পু। 

    স্ক্যানারে সোনা পাপ্পু ও শান্তনু সিনহা বিশ্বাস

    ইডির অভিযোগ, কলকাতা পুলিশের প্রাক্তন ডিসিপি শান্তনু সিনহা বিশ্বাস এবং ‘সোনা পাপ্পু’ নামে পরিচিত ব্যবসায়ী বিশ্বজিৎ পোদ্দার ওরফে সোনা পাপ্পু একটি বড় চক্রের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ছিলেন। এই চক্রের বিরুদ্ধে জমি দখল, তোলাবাজি, বেআইনি নির্মাণ, হাওয়ালা লেনদেন-সহ একাধিক গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। গত সপ্তাহেই শান্তনু বিশ্বাস এবং দীর্ঘদিন পলাতক থাকা সোনা পাপ্পুকে গ্রেফতার করেছে ইডি। আর তারপর থেকেই রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে তীব্র চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে।

    শুক্রবার কলকাতা এবং মুর্শিদাবাদের মোট ৯টি জায়গায় অভিযান চালায় ইডি। তদন্তকারীদের একটি দল পৌঁছে যায় মুর্শিদাবাদের কান্দিতে শান্তনু বিশ্বাসের বিলাসবহুল পৈতৃক বাড়িতে। কিন্তু বাড়ির গেট তখন তালাবন্ধ। পরে ইডি আধিকারিকরা গেট ভেঙে ভিতরে প্রবেশ করেন। স্থানীয় মানুষ কার্যত স্তব্ধ হয়ে সেই দৃশ্য দেখেন। উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, একসময় সন্দেশখালিতে তৃণমূল নেতা শেখ শাহজাহানের বাড়িতে অভিযানের সময় ইডি আধিকারিকদের উপর হামলার অভিযোগ উঠেছিল। কিন্তু এবার পরিস্থিতি সম্পূর্ণ আলাদা ছিল।

    শান্তনু বিশ্বাসের বিরুদ্ধে আলাদা করে বালি পাচার চক্রের তদন্ত

    তদন্তে উঠে এসেছে, শান্তনু বিশ্বাসের সঙ্গে সোনা পাপ্পুর আর্থিক যোগসূত্রের একাধিক তথ্য। ইডির দাবি, সান এন্টারপ্রাইজের ম্যানেজিং ডিরেক্টর জয় কামদারের কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট এবং ডিজিটাল তথ্য ঘেঁটে প্রায় আড়াই কোটি টাকার সন্দেহজনক লেনদেনের প্রমাণ মিলেছে। এমনকী শান্তনু বিশ্বাসের বিরুদ্ধে আলাদা করে বালি পাচার চক্রের তদন্তও চলছে।

    শান্তনু বিশ্বাসের নাম ঘিরে বিতর্ক আরও বেড়েছে কারণ তিনি একসময় কলকাতার কালীঘাট এলাকার দায়িত্বে ছিলেন, যেখানে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ি রয়েছে। নির্বাচনের ফল ঘোষণার পরদিনই তাঁর বিরুদ্ধে লুকআউট নোটিস জারি হয়েছিল। তদন্তকারীদের আশঙ্কা ছিল, তিনি দেশ ছাড়ার চেষ্টা করতে পারেন।

    সোনা পাপ্পু বড় গুন্ডা

    অন্যদিকে, সোনা পাপ্পুর গ্রেফতারিকে রাজ্যের অন্যতম বড় ‘ক্র্যাকডাউন’ বলেই দেখা হচ্ছে। তাঁর বিরুদ্ধে খুনের চেষ্টা, তোলাবাজি এবং অস্ত্র আইনে মোট ১৫টি মামলা রয়েছে। অতীতে তৃণমূলের একাধিক নেতার সঙ্গে তাঁর ছবি প্রকাশ্যে এসেছিল। বিজেপির অভিযোগ, তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বের ঘনিষ্ঠ বলেই দীর্ঘদিন তিনি কার্যত ধরাছোঁয়ার বাইরে ছিলেন।

    ইডির দাবি, ভয় দেখিয়ে কম দামে বহু মূল্যবান সম্পত্তি কিনে নেওয়া হত। তদন্তে এমন একটি সম্পত্তির তথ্য উঠে এসেছে, যার বাজারমূল্য ছিল প্রায় ৫ কোটি টাকা, অথচ সেটি মাত্র ১ কোটি টাকায় বিক্রি করতে বাধ্য করা হয়েছিল মালিককে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক হাওয়ালা লেনদেনের সূত্রও সামনে এসেছে। ফলে তদন্ত এখন শুধু পশ্চিমবঙ্গেই সীমাবদ্ধ নেই বলেই মনে করছে কেন্দ্রীয় সংস্থা।
  • Link to this news (আজ তক)