প্রাক্তন মিস পুণে তিশা শর্মার মৃত্যুতে এবার সিবিআই তদন্তের সুপারিশ করল মধ্যপ্রদেশ সরকার। ভোপালে শ্বশুরবাড়িতে মৃত অবস্থায় উদ্ধার হয় তিশার দেহ। সেই ঘটনা ঘিরে শোরগোল পড়ে গিয়েছে গোটা দেশে। বিয়ের পর শ্বশুরবাড়িতে মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন তিশা, এমন অভিযোগ উঠেছে। এতদিন পর্যন্ত ঘটনার তদন্তে ছিল ভোপাল পুলিশ। এবার কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার হাতে তদন্তভার তুলে দেওয়ার পথে হাঁটছে মধ্যপ্রদেশ সরকার।
বিয়ের মাত্র ৫ মাসের মধ্যেই ভোপালে শ্বশুরবাড়িতে তিশার ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়। প্রথম বিবিএ, পরে এমবিএ করার পর মুম্বই এবং দিল্লির দু’টি সংস্থায় চাকরি করতেন তিশা। এর মধ্যেই সুন্দরী প্রতিযোগিতায় সাফল্য আসে। ‘মিস পুণে’ খেতাব পান তিনি। একটি তেলুগু ছবিতে অভিনয় করেন। ২০২৪ সালে একটি ডেটিং অ্যাপ সূত্রে তাঁর আলাপ হয় পেশায় আইনজীবী সম্রাট সিংয়ের সঙ্গে। ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসে তাঁরা বিয়ে করেন। কিছুদিনের মধ্যেই বদলে যায় পরিস্থিতি।
মাসখানেক আগেই তিশা মায়ের কাছে কাতর অনুরোধ করেন, ভোপালের শ্বশুরবাড়ি ছেড়ে নয়ডার নিজের বাড়িতে ফিরতে চান। তাঁর একাধিক মেসেজে ইঙ্গিত ছিল, মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। এমনকী ঘরে ফেরার টিকিটও কেটে ফেলেছিলেন তিশা। শেষ পর্যন্ত মায়ের কাছে আর ফেরা হয়নি তাঁর। ভোপালের পুলিশ কমিশনার সঞ্জয় কুমার বুধবার জানান, তিশা আত্মহত্যা করেছেন। ময়নাতদন্তের রিপোর্টে স্পষ্ট যে, গলায় ফাঁস দেওয়ার কারণেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে। যদিও তিশার মা-বাবা দাবি করেছিলেন, মেয়ে শ্বশুরবাড়িতে মানসিক যন্ত্রণার মধ্যে ছিলেন। তাঁর সঙ্গে অন্যায় কিছু ঘটে থাকতে পারে। পণ চেয়ে অত্যাচারের অভিযোগও রয়েছে তিশার শ্বশুরবাড়ির বিরুদ্ধে।
এহেন পরিস্থিতিতে গোটা ঘটনার তদন্তভার সিবিআইয়ের হাতে তুলে দিতে চাইছে মধ্যপ্রদেশ সরকার। শুক্রবার স্বরাষ্ট্র দপ্তরের জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘ মধ্যপ্রদেশ সরকার এই ঘটনার তদন্তভার সিবিআইয়ের হাতে তুলে দিতে ইচ্ছুক। সমস্ত দপ্তরের আধিকারিকদের বলা হয়েছে তাঁরা যেন ফাইল হস্তান্তরের প্রক্রিয়া শুরু করেন।’ সিবিআই তদন্তে কি বিচার পাবেন তিশা?