• ‘দিদি, আমি বাঁচতে চাই’, ফোনে ভেসে এল কান্না! সাত মিনিট পরেই মৃত্যু গৃহবধূর
    প্রতিদিন | ২২ মে ২০২৬
  • ”দিদি আমায় বাঁচাও।” ফোনে আসা বোনের কান্না মেশানো স্বর ভেসে আসার পরই কলটা কেটে যায়। এর ঠিক সাত মিনিট পরেই মৃত্যু হল ২৮ বছরের বীণা কুমারীর। শোকের ধাক্কায় শিহরিত তাঁর পরিবার। বিশ্বাস হচ্ছে না এখনও। এমনই মর্মান্তিক ঘটনার সাক্ষী হল দিল্লি। বীণার দিদি ভুলতে পারছেন না বোনের ওই আর্তি। বীণার স্বামী রাজু সিংয়ের দাবি, ছাদ থেকে পড়ে গিয়েছেন তাঁর স্ত্রী। যদিও মৃতার পরিবারের দাবি এর নেপথ্যে রয়েছে পণের জন্য চাপ ও নির্যাতন।

    ঠিক কী ঘটেছিল? গত ১৮ মে রাত ৯টা ৫৫ মিনিট নাগাদ বীণা কুমারীর ফোন আসে দিদি রীণার কাছে। দাবি, তিনি নাকি কাঁদতে কাঁদতে বলছিলেন, ”দিদি, আমাকে বাঁচাও। এরা আমাকে খুব মারছে। আমি বাঁচব না… আমাকে প্রাণে মেরে ফেলবে।” সেই সঙ্গেই তাঁর কিছু হলে দিদি যেন তাঁর ছ’মাসের ছোট্ট মেয়েটার দায়িত্ব নেন এই আর্জিও জানাতে থাকেন। এরপরই কল কেটে যায়। রীণা বারবার ফোন করতে থাকেন বোনকে। ফোন করেন বীণার শ্বশুরবাড়িতেও। সাত মিনিট পরে বীণার দেওরের ফোন আসে, ”বউদি ছাদ থেকে পড়ে গিয়েছে।”

    তিন বছর আগে রাজু ও বীণার বিয়ে হয়। তাঁরা উত্তরপ্রদেশের সম্ভল থেকে দিল্লি চলে আসেন ২০২৩ সালের মাঝামাঝি নাগাদ। অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই নিত্য গোলমাল লেগেই থাকত দু’জনের। রীণার দাবি, রাজু প্রায়ই বলতেন, ”তোর থেকে ভালো বউ পেয়ে যাব।” এবং তাঁর ভাই যে শ্বশুরবাড়ি থেকে ৪৬ ইঞ্চির টিভি পেয়েছেন, এবং তাঁকে দেওয়া হয়েছে ৩২ ইঞ্চির টিভি, একথা বলেও খোঁচা দিতেন। সেই সঙ্গে চলত মারধর। পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। বীণার দেহ ময়নাতদন্তের পর তাঁর পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। রাজু ও তাঁর ভাই রাজকুমারকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
  • Link to this news (প্রতিদিন)