৩ শর্তে অন্তর্বর্তীকালীন জামিন, দিল্লি দাঙ্গায় অবশেষে জেলমুক্তি উমর খালিদের
প্রতিদিন | ২২ মে ২০২৬
দিল্লি হাই কোর্টে বড় স্বস্তি দিল্লি দাঙ্গায় জেলবন্দি উমর খালিদের। শুক্রবার ৩ দিনের জন্য তাঁর অন্তর্বর্তীকালীন জামিন মঞ্জুর করা হয়েছে। মায়ের অসুস্থতার কারণে আদালতে ১৫ দিনের জন্য জামিনের আর্জি জানিয়েছিলেন উমর। তবে শেষ পর্যন্ত শর্তসাপেক্ষে ৩ দিনের জন্য তাঁকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। যার জেরে আগামী ১ জুন থেকে ৩ জুন পর্যন্ত জেলের বাইরে থাকবেন উমর খালিদ।
আদালতে উমরের আবেদন ছিল ২২ মে থেকে ৫ জুন পর্যন্ত জামিন দেওয়া হোক তাঁকে। সম্প্রতি তাঁর এক নিকটাত্মীয় কাকার মৃত্যু হয়েছে। কাকার মৃত্যু-পরবর্তী আচার-অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার কথাও তাঁর আবেদনে ছিল। উমরের মায়ের বয়স ৬২ বছর। তাঁর শরীরও ভালো নয়। চিকিৎসকদের নির্দেশে অস্ত্রোপচারের দিন ঠিক করেছে আগামী ২ জুন। তাঁকে দেখভাল করার জন্য বাড়িতে তেমন কেউ নেই। তাই তাঁর জামিনের প্রয়োজন। কিন্তু নিম্ন আদালত সেই আবেদন খারিজ করে দেয়। আদালতের বক্তব্য ছিল, “এই মর্মে কোনওভাবেই জামিন দেওয়া যায় না।” তাছাড়া, মায়ের দেখাশোনার জন্য উমরের বাবা ছাড়া আরও লোকজন রয়েছেন বলে জানিয়েছিল আদালত। এই ঘটনায় নিম্ন আদালতকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে উমর দিল্লি হাই কোর্টের দ্বারস্থ হন।
আদালতকে জানান, তিনি বাবা মায়ের একমাত্র সন্তান। এই খারাপ সময়ে তাঁদের পাশে থাকাটা একান্ত কর্তব্য। পাশাপাশি আরও জানানো হয়, ২০২২, ২০২৪ এবং ২০২৫ সালে পারিবারিক কারণে আদালত তাঁকে অন্তর্বর্তী জামিন দিয়েছিল। প্রতি ক্ষেত্রেই তিনি সমস্ত নিয়ম মেনেছেন। এবং যথা সময়ে আত্মসমর্পণ করেছেন। উমরের বক্তব্য শোনার পর তাঁর আর্জি মঞ্জুর করে দিল্লি হাই কোর্ট। তিনটি শর্তে তাঁর জামিন মঞ্জুর করা হয়। তা হল, এক লক্ষ টাকার ব্যক্তিগত মুচলেকায় এই জামিন। জেলমুক্তির সময়কালে উমরকে এনসিআর-এর মধ্যে নিজের বাড়িতে থাকতে হবে। এবং সেখান থেকে শুধুমাত্র হাসপাতালে যেতে পারবেন তিনি।
উল্লেখ্য, ২০২০ সালের দিল্লি দাঙ্গার ঘটনায় UAPA মামলায় অভিযুক্ত উমর খালিদ, শার্জিল ইমাম-সহ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করে দিল্লি পুলিশ। তার পর থেকে একাধিকবার জামিনের আবেদন জানিয়েছিলেন জেএনইউ-এর এই প্রাক্তন ছাত্রনেতা। প্রতিবারই তা খারিজ হয়ে যায়। মাঝে বার কয়েক প্যারোল দিলেও স্থায়ী জামিন পাননি উমর খালিদ। চলতি বছরের ৫ জানুয়ারি দিল্লি গোষ্ঠীহিংসার ঘটনায় ইউএপিএ মামলায় অভিযুক্ত উমর এবং শারজিলের জামিন আবেদন খারিজ করে দিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট। তাৎপর্যপূর্ণভাবে সোমবার নিজেরাই সেই রায়ের সমালোচনা করেছে শীর্ষ আদালত। সুপ্রিম কোর্ট জানায়, এই ধরনের মামলায় জামিন পাওয়াই দস্তুর। কিন্তু তারপরও পুরোপুরি জামিন এখনও পাননি উমর।
রাজধানীর মাটিতে সিএএ এবং এনআরসি বিরোধী আন্দোলন চলাকালীন ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারিতে দক্ষিণ-পূর্ব দিল্লির হিংসায় মৃত্যু হয় ৫৩ জনের। এই ঘটনায় মূল ষড়যন্ত্রকারী হিসাবে উঠে আসে উমরের নাম। উস্কানিমূলক বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগে ওই বছরের সেপ্টেম্বর মাসে তাঁকে গ্রেপ্তার করে দিল্লি পুলিশ। তার বিরুদ্ধে দায়ের হয় রাষ্ট্রদ্রোহের মামলা। যদিও উমর খালিদের গ্রেপ্তারির বিষয়টি নিয়ে পুলিশের ভূমিকায় প্রশ্ন উঠেছিল। অভিযোগ ওঠে, সিএএ-এনআরসি বিরোধী স্বর দমনেই উমরকে জেলবন্দি করা হয়েছে।