• বিকাশের সওয়ালে হাই কোর্টে স্বস্তি অদিতি-দেবরাজের, আপাতত গ্রেপ্তার নয়!
    প্রতিদিন | ২২ মে ২০২৬
  • আপাতত স্বস্তি রাজারহাট-গোপালপুরের প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক অদিতি মুন্সি ও তাঁর স্বামী দেবরাজ চক্রবর্তীর। কলকাতা হাই কোর্টে আগাম জামিন চেয়ে আবেদন করেছিলেন অদিতি ও দেবরাজ। সেই শুনানিতেই হাই কোর্ট মৌখিক নির্দেশ দিয়েছে, আগামী ১৯ জুন পর্যন্ত তাঁদের গ্রেপ্তার করা যাবে না। ওই দিনই ফের এই মামলার শুনানি রয়েছে। রাজ্যের তরফে এদিন আদালতে এই বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল। তারপরই বিচারপতি এই নির্দেশ দিয়েছেন।

    তবে রাজারহাট গোপালপুরের তৃণমূল নেতা দেবরাজ চক্রবর্তী ও প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক অদিতি মুন্সির সম্পত্তি নিয়ে তদন্তের অগ্রগতির রিপোর্ট তলব করেছে হাইকোর্ট। উল্লেখযোগ্য, এদিন অদিতি ও দেবরাজের হয়ে হাই কোর্টে সওয়াল করেছেন সিপিএম নেতা আইনজীবী বিকাশ ভট্টাচার্য। সেই নিয়েও রাজনৈতিক মহলে ছড়িয়েছে জোর গুঞ্জন। সিপিএম নেতৃত্ব তৃণমূলের নেতা-মন্ত্রীদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ করেন। সেখানে বিকাশ ভট্টাচার্য কীভাবে অদিতি ও দেবরাজের হয়ে সওয়াল করলেন? সিপিএম নেতৃত্বের ভূমিকা কি? সেই প্রশ্ন উঠেছে। 

    রাজ্যের তরফে অতিরিক্ত অ্যাডভোকেট জেনারেল রাজদীপ মজুমদার এদিন আদালতে সওয়াল করেন। এছাড়াও বিজেপি বিধায়ক আইনজীবী কুমারজ্যোতি তিওয়ারিও রাজ্যের হয়ে সওয়াল করেছেন। রাজ্যের তরফে অভিযোগ করা হয়েছে, বিধানসভা নির্বাচনের আগে অদিতি ও দেবরাজ অন্তত ১০০ কোটি টাকা সম্পত্তি বেনামে ও আত্মীয়স্বজন, পরিচিতদের মধ্যে হস্তান্তরিত করেছেন। আইনজীবী বিকাশ ভট্টাচার্য তাঁদের হয়ে সওয়ালে বলেন, সম্পত্তি হস্তান্তর কোনও অবৈধ কাজ নয়। কেউ কোনও অভিযোগ করেনি, এর জেরে তাঁকে বঞ্চিত করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, প্রয়োজনে বিষয়টি আয়কর দপ্তর দেখুক। সেই কথাও এদিন আদালতে বিকাশ জানিয়েছেন। 

    রাজ্যের আইনজীবী অতিরিক্ত অ্যাডভোকেট জেনারেল রাজদীপ মজুমদার সওয়ালে প্রশ্ন তুলেছেন, হঠাৎ এত সম্পত্তি কীভাবে হল? তাঁদের আয়ের উৎস কী জানতে হবে। নির্বাচনী হলফনামায় সম্পত্তির পরিমাণ কম দেখানোর জন্যই এই হস্তান্তরিত হয়েছে বলে রাজ্যের তরফে জানানো হয়েছে। প্রাক্তন বিধায়ক অদিতি মুন্সির ৪০ লক্ষ ও দেবরাজের ৬৬ লক্ষ ৯৭ হাজার ০৪০ টাকা পাঁচ বছরে আয়। অথচ, মোট তিনটি গাড়ি কেনা হয়েছে। সেই গাড়ির মোট দাম ৭১ লক্ষ টাকা। এদিকে তাঁদের সম্পত্তি ১০০ কোটি টাকার! কীভাবে এমন হতে পারে? সেই প্রশ্ন এদিন আদালতে তোলা হয়েছে। শুধু তাই নয়, ওই এলাকার দুই কাউন্সিলর ইতিমধ্যেই গ্রেপ্তার হয়েছেন। 

    সেক্ষেত্রে রাজদীপ মজুমদারের দাবি, ওই সম্পত্তি হস্তান্তর হয়েছে মাত্র একদিনে। কীভাবে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে এত সম্পত্তি হস্তান্তর হতে পারে? সম্পত্তির এত টাকা কীভাবে জোগাড় হল? সেই প্রশ্ন উঠেছে। কোনও বেআইনি হস্তান্তর হতে পারে, সেই আশঙ্কাও করা হয়েছে। এগুলি অর্গানাইজ ক্রাইম দাবিও রাজ্যের তরফে দাবি উঠেছে। এই বিষয়ে বিকাশ ভট্টাচার্য বলেন, “সম্পত্তি নিয়ে হলফনামায় মিথ্যে কথা বলা হলে সেটি ইলেকট্রোরাল অপরাধ হতে পারে। ক্রিমিনাল অপরাধ নয়।” বিচারপতি জয় সেনগুপ্ত বলেন, “শেখ শাজাহানের কথা মনে আছে? কেউ ভয়ে হয়তো অভিযোগ করতে পারেনি, এঁরা বিধায়ক ছিলেন বলে।

    বিচারপতি এদিন দু’জনের সম্পত্তি নিয়ে রিপোর্ট তলব করেছেন। কেউ অত্যাচারিত হয়েছেন বলে অভিযোগ নেই। তাই আপাতত অর্গানাইজ ক্রাইম বলা যাবে না। মন্তব্য আদালতের। আগামী ১৯ তারিখ এই মামলার শুনানি রয়েছে। ওই দিন পর্যন্ত অদিতি ও দেবরাজের বিরুদ্ধে কোনও পদক্ষেপ করা যাবে না। সেই নির্দেশ জানিয়েছে কলকাতা হাই কোর্ট।

     
  • Link to this news (প্রতিদিন)