শেষের মুখে জলবণ্টন চুক্তি, 'জল মাপতে' ফারাক্কায় হাজির দুই দেশের প্রতিনিধি দল
News18 বাংলা | ২২ মে ২০২৬
ভারত-বাংলাদেশ গঙ্গা জলবণ্টন চুক্তির মেয়াদ ফুরোতে চলেছে আগামী ডিসেম্বরে। ফরাক্কায় গঙ্গার জলপ্রবাহ খতিয়ে দেখলেন দুই দেশের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরা। এদিন গঙ্গার ডাউন স্ট্রিম ফরাক্কার বেনিয়াগ্রাম ঘাটপাড়া মেলার মাঠ সংলগ্ন অফিস থেকে গঙ্গার জলপ্রবাহ পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি ভাগীরথী ও পদ্মা নদীর জল বিভাজন স্থল পর্যন্ত জলপ্রবাহের পরিমাণ খতিয়ে দেখেন তাঁরা।
গঙ্গা পরিদর্শন শেষে ফরাক্কা ব্যারেজ সংলগ্ন ফিডার ক্যানেলের স্টেশনেও যৌথ পর্যবেক্ষণ চালান প্রতিনিধি দলের সদস্যরা। দিল্লি থেকে আসা প্রতিনিধিরা মৌখিকভাবে দাবি করেন, এটি একটি রুটিন পর্যবেক্ষণ ছাড়া আর কিছুই নয়। তবে ১৯৯৬ সালে স্বাক্ষরিত ভারত-বাংলাদেশ গঙ্গা জলবণ্টন চুক্তির ৩০ বছরের মেয়াদ ২০২৬ সালের এই ডিসেম্বরেই শেষ হতে চলেছে। বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের নতুন সরকার ভারতের সঙ্গে আগের চুক্তির কেবল নবীকরণ বা ‘রিনিউয়াল’ চাইছে না।
বরং বাংলাদেশের নিজস্ব স্বার্থ ও চাহিদা বিবেচনায় রেখে একটি সম্পূর্ণ নতুন এবং দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি সম্পাদনের জন্য আলোচনা শুরুর ওপর জোর দিচ্ছে তারা। এদিনের পরিদর্শনে বাংলাদেশের ৮ জন প্রতিনিধি, দিল্লির কেন্দ্রীয় জলশক্তি মন্ত্রকের ৪ জন প্রতিনিধি ও সেন্ট্রাল ওয়াটার কমিশনের (CWC) ৫ জন প্রতিনিধি এবং ফরাক্কা ব্যারেজ প্রকল্পের জেনারেল ম্যানেজার ও আধিকারিকরা উপস্থিত ছিলেন। গঙ্গার পাশাপাশি যেখান থেকে জল কলকাতা বন্দরের উদ্দেশ্যে যায়, সেই পয়েন্টটিও খতিয়ে দেখে এই প্রতিনিধি দল।
সূত্র মারফত জানা গিয়েছে, ফরাক্কায় জলপ্রবাহ স্বচক্ষে পরিদর্শনের পর শুক্রবার সকালে ট্রেনযোগে কলকাতার উদ্দেশ্যে রওনা দেবেন বাংলাদেশের ৮ সদস্যের প্রতিনিধি দল। কলকাতায় ভারত-বাংলাদেশ জয়েন্ট কমিটির ৯০তম বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে চলেছে। রাজ্য, কেন্দ্র এবং বাংলাদেশের প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে হতে চলা এই হাইপ্রোফাইল বৈঠকে আগামী দিনে গঙ্গার জলবণ্টনের ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা হবে বলেই বিশেষজ্ঞ মহলের ধারণা।