চৈত্র-বৈশাখেও হাঁটু জলে ডুবছে হাজার হাজার একরের ফসল! অবিশ্বাস্য হলেও এমনই ঘটনার সাক্ষী স্বরূপনগরের শস্যভাণ্ডার
News18 বাংলা | ২২ মে ২০২৬
: স্বরূপনগরের শস্যভাণ্ডার বিলবল্লিতে জলযন্ত্রণা, হাঁটু জলে ডুবছে ফসল। উত্তর ২৪ পরগনা জেলার বসিরহাট মহকুমার স্বরূপনগর ব্লকের অন্যতম বৃহৎ কৃষি অঞ্চল বিলবল্লি আজ চরম সংকটের মুখে। প্রায় ৫২ হাজার একর বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে গড়ে ওঠা এই বিলবল্লিকে ঘিরেই বালতি, কৈজুড়ি, বাংলানি, সাড়াপুল, গোবিন্দপুর ও বিথারী-সহ একাধিক গ্রাম পঞ্চায়েতের মানুষের জীবন-জীবিকা নির্ভরশীল। প্রাকৃতিক ভারসাম্য বজায় রেখে দীর্ঘদিন ধরে এই অঞ্চল কৃষি ও মৎস্যচাষে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে এলেও বর্তমানে জলাবদ্ধতার জেরে দুশ্চিন্তায় কৃষক ও মৎস্যচাষিরা।
বিলবল্লির মোট ৫২ হাজার একর জমির মধ্যে প্রায় ১০ হাজার একর জলাশয় রয়েছে। এই জলাশয়কে কেন্দ্র করে মিষ্টি জলের বিভিন্ন প্রজাতির মাছ চাষ করেন স্থানীয় মৎস্যজীবীরা। পাশাপাশি বাকি প্রায় ৪২ হাজার একর জমিতে ধান, পাট, তিল-সহ বিভিন্ন ধরনের শাকসবজি চাষ করে জীবিকা নির্বাহ করেন হাজার হাজার কৃষক। বছরের অধিকাংশ সময় এই অঞ্চল কৃষি উৎপাদনে সমৃদ্ধ থাকলেও বর্তমানে পরিস্থিতি একেবারেই ভিন্ন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বিলবল্লির বুক চিরে প্রবাহিত সোনাই নদীর গতিপথই এখন বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই নদী একদিকে তেতুলিয়া হয়ে বসিরহাটের ইছামতী নদীতে মিশেছে, অন্যদিকে তেতুলিয়া স্লুইস গেট দিয়ে ইছামতীর অতিরিক্ত জল প্রবাহিত হয়। অতিরিক্ত জলের চাপ তৈরি হলেই সেই জল স্লুইস গেট পেরিয়ে বিলবল্লির বিস্তীর্ণ কৃষিজমিতে ঢুকে পড়ে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন বাঁকড়া, কৈজুড়ি ও বালতি গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার কৃষকরা।
স্থানীয়দের দাবি, প্রতিবছরই কয়েক হাজার বিঘা জমির ফসল জলের তলায় চলে যায়। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। চৈত্র-বৈশাখ মাসে যেখানে খরার কারণে জমির মাটি ফেটে যাওয়ার কথা, সেখানে এখন হাঁটু সমান জল দাঁড়িয়ে রয়েছে চাষের জমিতে। ধান, পাট ও তিলের খেতে জল জমে নষ্ট হচ্ছে ফসল। কৃষকদের বক্তব্য, বহু বছর ধরে এই সমস্যা চললেও স্থায়ী সমাধানের কোনও উদ্যোগ চোখে পড়েনি। জলনিকাশি ব্যবস্থার উন্নয়ন, স্লুইস গেট সংস্কার এবং সোনাই নদীর যথাযথ সংস্কারের দাবি তুলেছেন স্থানীয়রা। তাঁদের অভিযোগ, সমস্যার স্থায়ী সমাধান না হওয়ায় প্রতিবছরই বিপুল আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হচ্ছে কৃষকদের।