• গাছ বাঁচাতে গিয়ে চলে গেল নিজের প্রাণটাই, পুকুরে হাত দিতেই করুণ পরিণতি কৃষকের
    News18 বাংলা | ২২ মে ২০২৬
  • দক্ষিণবঙ্গ জুড়ে তীব্র গরম। এই গরমে নাজেহাল সাধারণ মানুষ। রেহাই পায়নি গাছপালা ও চাষের ফসল। তীব্র গরমে চাষের ফসলকে বাঁচিয়ে রাখতে আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন কৃষকরা। আর সেই চেষ্টাতেই এক কৃষকের প্রাণ গেল মহিষাদল। তীব্র গরমের হাত থেকে পান চাষকে বাঁচিয়ে রাখতে পানের বরোজে জলসেচ করতে গিয়ে ওই কৃষক প্রাণ গিয়েছে। জানা যায়, বিদ্যুৎ চালিত পাম্প দিয়ে পানের বরোজে জল দিচ্ছিলেন তিনি। আর সেটাই কাল হয়ে দাঁড়াল। মারা গেলেন ওই কৃষক।

    টুলু পাম্প দিয়ে পান বরোজে জল দিতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ঠে মারা গেলেন এই কৃষক। ঘটনাটি ঘটেছে মহিষাদল থানার অন্তর্গত বাড় অমৃতবেড়িয়া গ্রামে সামন্ত পল্লীতে। মধ্যবয়সী মৃত ব্যক্তির নাম শশাঙ্ক সামন্ত,  ডাক নাম বুদ্ধ। বয়স হয়েছিল প্রায় ৫৮ বছর। এদিন সকালে শশাঙ্ক সামন্ত তাঁর স্ত্রী দু’জনে মিলে পান বরোজে টুলু পাম্প নিয়ে জল দিতে গিয়েছিলেন।

    জানা যায়, বাড়ি থেকে কিছুটা দূরে পান বরোজ রয়েছে। বাড়ির ইলেকট্রিক মিটার থেকে লাইন টেনে নিয়ে যায় পান বরোজ পর্যন্ত। পান বরোজের পাশে একটি পুকুরে লোহার রড দিয়ে আর্থিং করা ছিল। টুলু পাম্পে জল উঠছে না কেন, পুকুরে দেখতে নামেন শশাঙ্ক সামন্ত। প্রথমেই দেখেন আর্থিং তার ঠিকমত করা হয়েছে কিনা!  আর দেখতে গিয়েই পুকুরের জলে লোহার রড ধরে ফেলেন তিনি। তারপর পুকুরের জলে আর্থিং করা তারে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা দিয়েছেন তিনি। মৃতদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য তাম্রলিপ্ত মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

    এই ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। শশাঙ্ক সামন্ততের বাড়ির লোকেরা জানিয়েছেন, “পুকুরে জলে আর্থিং রড জড়িয়ে যায়। পাম্পের সুইচ অন থাকায় বিদ্যুৎপৃষ্ট হন। ঘটনাস্থলেই মারা যান তিনি। দেহ উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসকরা।” প্রসঙ্গত পান বরোজ সহ অন্যান্য ফসলের জমিতে জল সেচের সময় বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্ন সময়ে বিদ্যুৎপৃষ্ট হওয়ার খবর উঠে আসে। এমনকি বিদ্যুৎপৃষ্ট হয়ে কৃষক মৃত্যুর খবর উঠে আসে। বিদ্যুৎ দফতর এ নিয়ে সচেতনামূলক প্রচার চালালেও মানুষের মধ্যে সচেতনতার অভাব রয়ে গিয়েছে বলে অভিমত বিদ্যুৎ দফতরের। তারই ফলস্বরূপ এদিনের এই ঘটনা।
  • Link to this news (News18 বাংলা)