• চোখে অন্ধকার নিয়েও বেলদা স্টেশন কাঁপাচ্ছেন এই সুরের জাদুকর, হার মানছে ট্রেনের হর্নও
    News18 বাংলা | ২২ মে ২০২৬
  • : চোখে আলো নেই, তবে অন্তরে রয়েছে এক অদ্ভুত সুরের জগৎ। সেই সুরেই যেন কথা বলে ওঠে তাঁর গোটা জীবনের। কখনও বেলদা বাসস্ট্যান্ড, কখনও রেলস্টেশন বা রাস্তার ধারে বসে আপন মনে বাঁশি বাজান তিনি। সহায় সম্বল বলতে একটি লাঠি, একটি বাঁশের বাঁশি আর একটি ছোট ব্যাগ—এই নিয়েই তাঁর বেঁচে থাকার নিরলস লড়াই। প্রতিদিন বাঁশির এই সুর যেন জীবনের প্রতিটি ছন্দকে তুলে ধরে। জীবন যুদ্ধ, অভাব, সংসার আর ব্যক্তিগত জীবনের সমস্ত না-পাওয়াকে তিনি বেঁধেছেন এই বাঁশির মোহময় সুরে।

    হঠাৎ স্টেশনের এক প্রান্ত থেকে ভেসে আসে মোলায়েম বাঁশির আওয়াজ। ব্যস্ত যাত্রীদের ভিড়ের মাঝেই সিঁড়ির এক কোণে বসে নানা জনপ্রিয় গানের সুর তোলেন এই বৃদ্ধ। সামনে রাখা একটি বাটিতে পথচলতি মানুষ দু’এক টাকা দিয়ে যান। কে এল, কে গেল, কে কত দিল—সেসবের কোনও ভ্রূক্ষেপ নেই তাঁর। আপন খেয়ালেই মেতে থাকেন তিনি। এই বাঁশির সুরই তাঁর রোজগারের একমাত্র পথ, আর সেই রোজগারেই চলে পুরো পরিবার। ব্যস্ততা আর জুতোর শব্দ, ট্রেনের হর্নকেও ছাপিয়ে যায় তার বাঁশির সুর।

    এই বৃদ্ধের নাম ভানু প্রতাপ সিং। আদি বাড়ি প্রতিবেশী রাজ্য ওড়িশার বালেশ্বর জেলায়। জন্ম থেকেই তাঁর দুচোখ দৃষ্টিহীন। বর্তমানে তাঁর বয়স ৬৭ বছর। জানা যায়, ছোটবেলায় এক দৃষ্টিহীন গুরুর কাছ থেকেই বাঁশি বাজানোর তালিম নিয়েছিলেন তিনি। ধীরে ধীরে সেই বাঁশিকেই জীবনের একমাত্র অবলম্বন করে তোলেন। তাঁর নিজস্ব সংসার রয়েছে, স্ত্রী ও সন্তানও আছে। আর এই বাঁশি বাজিয়েই মাথা উঁচু করে নিজের রোজগার নিজেই করেন ভানু প্রতাপ।

    পরিবারের সদস্যরাই প্রতিদিন তাঁকে কখনও রাস্তার ধারে বা স্টেশনে বসিয়ে দিয়ে যান। এরপর সারাদিন ধরে চলে তাঁর বাঁশি বাজান। বয়সের ভার চোখে-মুখে স্পষ্ট হলেও শরীরে তেমন কোনও বড় রোগভোগ নেই। বুক ভরে দীর্ঘ শ্বাস নিয়ে একের পর এক অনবদ্য সুর তুলতেই থাকেন তিনি। একটি মাত্র বাঁশি আর একটি লাঠি—এই সামান্য সম্বল নিয়েই জীবনের এতগুলো বছর কাটিয়ে দিয়েছেন ভানু প্রতাপ। এক কোণে বসে থাকা এই বৃদ্ধের বাঁশির সুর ও প্রতিভা আজও থমকে দেয় ব্যস্ত মানুষকে। তাঁর এই সুরে যেন লুকিয়ে আছে এক নীরব সংগ্রাম, আত্মমর্যাদা আর বেঁচে থাকার অদম্য লড়াই।
  • Link to this news (News18 বাংলা)