• ‘তিন থেকে সাতাত্তর হতে আমাদের সময় লাগে না,’ কলকাতা পুরসভায় দাঁড়িয়ে হুঁশিয়ারি সজল ঘোষের
    News18 বাংলা | ২২ মে ২০২৬
  • গত বৃহস্পতিবারই বাতিল করা হয়েছিল অধিবেশন৷ তারপর আজ, শুক্রবার সকালে পুরসভায় আসতে শুরু করেন তৃণমূলের কাউন্সিলররা৷ এসেছিলেন চেয়ারপার্সন মালা রায়, মেয়র ফিরহাদ হাকিমও৷ কিন্তু, অধিবেশন কক্ষে তালা দেওয়া থাকায় কাউন্সিলর্স স্টাফ রুমেই অধিবেশন সারেন তাঁরা৷ যা কলকাতা পুরসভার ইতিহাসে বেনজির ঘটনা৷ এই ‘অধিবেশনের’ খবর পেয়েই বিকেলের দিকে কলকাতা পুরসভায় আসেন বিজেপি কাউন্সিলর তথা বিধায়ক সজল ঘোষ৷ ছিলেন আরও দুই বিজেপি কাউন্সিলর এবং এক কংগ্রেস থেকে বিজেপিতে যোগ দেওয়া কাউন্সিলর৷ কাউন্সিলর্স স্টাফ রুমে নিজেদের মধ্যে বৈঠক সেরে সাংবাদিক বৈঠক করেন সজল ঘোষেরা৷ সেখানেই তৃণমূলের উদ্দেশে সজল ঘোষের স্পষ্ট বার্তা, ‘‘তিন থেকে সাতাত্তর হতে আমাদের সময় লাগে না।’’

    এদিন সজল ঘোষ বলেন, ‘‘আজকের এই অধিবেশন বেআইনি। কী করে মেয়র চেয়ারপার্সন এটা করতে পারেন৷ তিন থেকে সাতাত্তর হতে আমাদের সময় লাগে না। হাউস ক্যান্সেল হওয়াটা এখানে একটা রেগুলার বিষয় হয়ে গেছে। এই পাঁচ বছরে দশবার হাউস ক্যান্সেল হয়েছে। কোনও কারণ না দেখিয়েই হয়েছে। আমি ভেবেছি সেরকম স্বাভাবিক। আজকে হঠাৎ টিভির মাধ্যমে জানতে পারি এখানে একটা মকারি চলছে। কিছু রীতিনীতি আছে…. হাউজ বিলংস টু অপজিশন যারা বিধানসভায় দাঁড়িয়ে বলছেন তারা পুরসভায় সেই বিরোধীরা কোনও খবরই পেল না।’’

    সজল ঘোষ বলছেন, ‘‘এটা পার্টি অফিস নয়। কাউন্সিলরদের প্রশ্ন নিয়ে আলোচনা হল না। বেআইনি কাজ যে কাউন্সিলররা করেছেন এবং সেই জননেতা মাননীয় চেয়ারপার্সন ও মাননীয় মেয়র সেই অনৈতিক কাজের নেতৃত্ব দিয়েছেন। কমিশনারের কাছে যাবে এবং আবেদন করব, এই বেআইনি কাজের জন্য ব্যবস্থা নেয়া হোক। তাতে যদি এই পুরো বোর্ড ভেঙে দেওয়া হয়, তাতে আমাদের কোনও আপত্তি নেই।’’

    তিনি জানান, ‘‘কমিশনার নিজেই চালান  অ্যাডমিনিস্ট্রেটর দিয়ে চলুক। কমিশনারকে ব্যবস্থা নিতে হবে। এর একটা বিহিত হওয়া দরকার। এটা মেয়রের জলসাঘর হতে দেব না। আমরা যদি নো কনফিডেন্স আনি আমি ওরা বাঁচাতে পারবেন তো! আমার কাছে ওদেরই দশজনের কল রেকর্ড আছে বাঁচাতে পারবেন তো। তিনটে সাতাত্তর করতে কত সময় লাগবে??? একটু দরজা খোলা রাখলে জায়গা দিতে পারব না এই ক্লাব রুমে। দরজাটা এক মিনিটের জন্য খুলব!! তাহলে দরজা বন্ধ করা যাবে না মেয়রের ঘর পর্যন্ত লাইন পড়ে যাবে।’’

    বিজেপি কাউন্সিলরের কটাক্ষ, ‘‘আজকে যা হয়েছে ক্লাবের মতন হয়েছে। মালা রায়ের সুইচড অফ প্রসঙ্গে সজল বললেন এবার ওঁর সুইচড অফ হয়ে যাবে। যদি স্যুইচড অফ থাকে তাহলেও একটা ডেকোরাম আছে। আমরা ক্রীতদাস নয়, সকালে ডাকলে বিকেলে চলে আসব। মিনিটস থাকবে। আমরা যেন বলার সুযোগ না পাই যে মেয়র বা মেয়রের আপ্ত সহায়কটা ফাইল চোর আমরা খবর পাচ্ছি যে ফাইল বাধা হচ্ছে। আমি পুরো নগরের মন্ত্রী এবং কমিশনারের কাছে জানাব। কেন্দ্রীয় বাহিনী নয়, রাজ্য পুলিশ এখন আমাদের ভালো কাজ করছে।’’
  • Link to this news (News18 বাংলা)