• উত্তরবঙ্গে এবার ‘অসম মডেল’! মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর টিপসের পরই নয়া পরিকল্পনা, চা শিল্পে জোয়ারের অপেক্ষা
    News18 বাংলা | ২২ মে ২০২৬
  • : বিশ্ব চা দিবস উপলক্ষে শিলিগুড়ির মাল্লাগুড়ি টি অকশন সেন্টারে নতুন অফিস ভবনের উদ্বোধনকে ঘিরে উৎসবের আবহ তৈরি হয়। দার্জিলিংয়ের সাংসদ রাজু বিস্তা আনুষ্ঠানিকভাবে শিলিগুড়িটি অকশন কমিটির নতুন আধুনিক অফিস ভবনের উদ্বোধন করেন। টি অকশন সেন্টারের নিচতলায় তৈরি এই ঝাঁ চকচকে অফিস ভবনকে কেন্দ্র করে চা শিল্পের সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন মহলে উৎসাহ দেখা যায়। একইসঙ্গে এদিন টি অকশন কমিটির ৫০ বছর পূর্তি অনুষ্ঠানও পালন করা হয়।

    অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন শিলিগুড়ি টি অকশন কমিটির চেয়ারম্যান অরুণ কুমার পেরিওয়াল, ভাইস চেয়ারম্যান শ্রীবর্ধন কল্যাণী, কমিটির অন্যান্য পদাধিকারী, চা শিল্পপতিদের সংগঠনের প্রতিনিধি এবং চা শিল্পের সঙ্গে যুক্ত বহু বিশিষ্ট ব্যক্তি। বিশ্ব চা দিবস উপলক্ষে উত্তরবঙ্গ ও দার্জিলিংয়ের চা শিল্পের ভবিষ্যৎ নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়।

    এদিনের আলোচনার মূল বিষয় ছিল উত্তরবঙ্গের চা শিল্পকে আরও শক্তিশালী করে তোলা এবং বিশ্ববাজারে দার্জিলিং চায়ের অবস্থানকে আরও মজবুত করা। সম্প্রতি উত্তরবঙ্গ সফরে এসে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী প্রশাসনিক বৈঠকে ‘অসম মডেল’ অনুসরণের কথা বলেছিলেন। সেই অনুযায়ী একটি প্রতিনিধি দলকে অসম পাঠিয়ে সেখানে উৎপাদন ব্যবস্থা, গুণগত মান উন্নয়ন এবং আর্থিক কাঠামো পর্যবেক্ষণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। পরে সেই মডেল অনুযায়ী উত্তরবঙ্গের চা শিল্পে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনার ভাবনাও রয়েছে।

    রাজু বিস্তা বলেন, অসমে যেভাবে চা শিল্প পরিচালিত হচ্ছে তা অনেক বেশি উন্নত। অসম সরকারের বিভিন্ন প্রকল্প বাংলায় কার্যকর করার চেষ্টাও করা হবে। পাশাপাশি নেপালের চা অনেক সময় দার্জিলিং চা নামে বিক্রি হওয়ায় জিআই ট্যাগপ্রাপ্ত দার্জিলিং চায়ের ক্ষতি হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। এ বিষয়ে ভবিষ্যতে কড়া নজরদারির আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

    অন্যদিকে অরুণ কুমার পেরিওয়াল জানান, আগামী ছয় মাসের মধ্যে চা শিল্পের একাধিক সমস্যার সমাধানের আশ্বাস মিলেছে। বন্ধ চা বাগান, আর্থিক সংকট এবং দালালচক্রের সমস্যা কাটিয়ে ভবিষ্যতে উত্তরবঙ্গের চা শিল্পে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলবে বলেই আশাবাদী সংশ্লিষ্ট মহল।

    চা শ্রমিক থেকে শুরু করে বাগান মালিক— সকলেরই এখন নজর ভবিষ্যতের দিকে। অসম মডেলের সফল বাস্তবায়ন হলে উত্তরবঙ্গ তথা দার্জিলিংয়ের চা শিল্পে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল। বিশ্ব চা দিবসের মঞ্চ থেকেই তাই উঠে এলো উন্নয়ন, আধুনিকীকরণ এবং বিশ্ববাজারে উত্তরবঙ্গের চাকে আরও শক্ত অবস্থানে নিয়ে যাওয়ার নতুন বার্তা।
  • Link to this news (News18 বাংলা)