অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের জনপ্রিয়তায় ঠাসা ভিড়! সুবিধা পেতে করাতেই হবে এই কাজ? বাঁকুড়ায় ২০ কিমি লম্বা লাইন
News18 বাংলা | ২২ মে ২০২৬
: অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের জনপ্রিয়তা তুঙ্গে! বাঁকুড়া শহরের হেড পোস্ট অফিসের বাইরে ভোর পাঁচটা থেকে লাইন দেখলে চোখ কপালে উঠতে বাধ্য। প্রচুর মানুষের ভিড় এবং প্রায় ১০০ মিটার লম্বা এই লাইন নজর কাড়ছে মাচানতলার মূল রাস্তা ধরে যাতায়াতকারী সাধারণ মানুষের। দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ এসেছেন ডিবিটি লিঙ্ক করাতে। কেউ এসেছেন ২০ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে ছাতনা থেকে, আবার কেউ এসেছেন গঙ্গাজলঘাটি থেকে। কেউ এই নিয়ে তিনদিন লাইন দিচ্ছেন আবার কেউ ভোর পাঁচটা থেকে দাঁড়িয়ে।
চোখে কাল চশমা পরে আইসক্রিম খেতে খেতে ৮০ বছরের বৃদ্ধা বললেন, “আমার এলাকায় হলে ভাল হত! সকাল থেকে লাইন দিয়েছি।” আবার গঙ্গাজলঘাটি থেকে আসা এক গৃহবধূ বলেন, “এই নিয়ে তিন দিন এলাম। প্রচুর মানুষের ভিড়। লাইনে দাঁড়াতে অসুবিধা নেই কিন্তু একটা যদি নোটিশ করে দেয় যে কতজনের হবে তাহলে সেরকম বুঝে আগেভাগে বাড়ি চলে যেতে পারব।” অপরদিকে ছাতনা থেকে নিজের বউ এবং বৌমাকে নিয়ে আসা গনেশ দেওঘরিয়া বলেন, “লাইন দিচ্ছি! ভোরবেলা থেকে দিয়েছি। আমার স্ত্রী এবং বৌমা আছে। এই প্রসেস যদি নিজের এলাকায় যদি আরও একটু স্বতঃস্ফূর্তভাবে হত খুব ভাল হত, আমরা তো অতটা বুঝিনা।”
প্রচন্ড দাবদহতার মধ্যেই হাতপাখা নিয়ে লাইনে দেখা গেল একাধিক মহিলাকে। কারও কোলে রয়েছে শিশু, আবার কেউ এসেছেন পুত্র কিংবা স্বামীর সঙ্গে। সব মিলিয়ে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের জনপ্রিয়তা এখন শুধুমাত্রই কাগজে-কলমে নয় বরঞ্চ লক্ষ্য করা যাচ্ছে বাঁকুড়া শহরের বুকে।
সব মিলিয়ে, প্রবল গরম ও দীর্ঘ অপেক্ষার মধ্যেও অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের সুবিধা পেতে সাধারণ মানুষের এই ভিড় যেন এক অন্য বাস্তবতার ছবি তুলে ধরছে বাঁকুড়া শহরে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়েও মানুষের মুখে বিরক্তির চেয়ে বেশি শোনা যাচ্ছে প্রত্যাশার সুর। তবে সাধারণ মানুষের দাবি, ডিবিটি লিঙ্ক করানোর এই প্রক্রিয়া যদি ব্লক বা স্থানীয় স্তরে আরও বড় পরিসরে করা যায় এবং প্রতিদিন কতজনের কাজ হবে তা নিয়ে আগাম নোটিশ দেওয়া হয়, তাহলে হয়রানি অনেকটাই কমবে। তবুও শত কষ্টের মাঝেও অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের সুবিধা পাওয়ার আশায় সকাল থেকেই হেড পোস্ট অফিস চত্বরে উপচে পড়ছে মানুষের ভিড়।