দেশের নিরাপত্তায় কর্তব্যরত অবস্থায় মৃত্যু, শেষ বিদায়ে আবেগে ভাসল সিমলাপাল
News18 বাংলা | ২২ মে ২০২৬
সিমলাপালের মাটি হারাল তার এক গর্বিত সন্তানকে। দেশমাতৃকার সেবায় নিয়োজিত থেকে সিআরপিএফ-এর ১৬৫ ব্যাটালিয়নের জওয়ান শুভাশীষ দে রায়পুর, ছত্তিশগড়ে কর্মরত অবস্থায় দেশের নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করছিলেন। কয়েকদিন আগে হঠাৎ করেই অসুস্থতা অনুভব করলে তাঁকে তড়িঘড়ি জগদলপুর সরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। মঙ্গলবার মৃত্যু হয় বীর সন্তানের। আচমকাই তাঁর মৃত্যুর খবরে শোকের ছায়া নেমে আসে গোটা এলাকাজুড়ে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় তাঁর নিথর দেহ পৌঁছায় সিমলাপালের বাড়িতে, আর সেই মুহূর্তেই আবেগে ভেঙে পড়েন পরিবার ও এলাকাবাসী।
বীর জওয়ানের মরদেহ বাড়িতে পৌঁছতেই শেষবারের মত তাঁকে শ্রদ্ধা জানাতে মানুষের ঢল নামে। পরিবারের সদস্য, আত্মীয়-পরিজন, প্রতিবেশী থেকে শুরু করে বহু শুভানুধ্যায়ী ভিড় জমান শুভাশীষ দে’কে শেষবার দেখার জন্য। ভারত মায়ের এই বীর সন্তানকে শেষ বিদায় জানাতে গোটা এলাকা যেন একসঙ্গে শোকাহত হয়ে পড়ে। অনেকের চোখে জল, মুখে একটাই কথা— “দেশের জন্য কাজ করতে গিয়ে হারালাম আমাদের গর্বকে।”
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় অসংখ্য এলাকাবাসী ও শুভানুধ্যায়ীরা শোভাযাত্রার মাধ্যমে শুভাশীষ দে’র মরদেহ বাড়িতে নিয়ে আসেন। জাতীয় পতাকা ও ফুল হাতে বহু মানুষ এই শেষযাত্রায় সামিল হন। “ভারত মাতা কি জয়” ধ্বনি ও শ্রদ্ধা নিবেদনের মধ্য দিয়ে শেষবারের মত বীর সন্তানকে সম্মান জানান হয়। গোটা এলাকায় সৃষ্টি হয় এক আবেগঘন পরিবেশ।
স্থানীয়দের কথায়, শুভাশীষ ছিলেন অত্যন্ত ভদ্র, মিশুকে ও দায়িত্ববান মানুষ। ছোটবেলা থেকে এলাকার মানুষের কাছে তিনি ছিলেন অত্যন্ত প্রিয় মুখ। তাই তাঁর অকাল প্রয়াণ শুধু একটি পরিবারের নয়, গোটা সিমলাপালের অপূরণীয় ক্ষতি। শেষবারের মতো তাঁকে শ্রদ্ধা জানাতে মানুষের ঢলই যেন প্রমাণ করল— শুভাশীষ দে শুধু একজন জওয়ান ছিলেন না, ছিলেন এলাকার অহংকার, সিমলাপালের গর্বিত সন্তান। জঙ্গলমহলে এর আগেও শহীদ হয়ে কঠিন বন্দি হয়ে দেহ বাড়ি ফিরেছে একাধিক বীর সন্তানের।তবে তার পরেও দেশের জন্য আত্মবলিদানে পিছপা নয় রাজ্যের এই প্রত্যন্ত জঙ্গলমহলের তরুনরা।