• ‘বাঁচাও, ওরা খুব মারছে’, কাঁদতে কাঁদতে দিদিকে ফোন, ৭ মিনিট পরেই ছাদ থেকে পড়ে মৃত্যু তরুণীর
    এই সময় | ২২ মে ২০২৬
  • ‘দিদি বাঁচাও, ওরা আমাকে মেরে ফেলবে।’ ফোনের ওপারে কাঁদতে কাঁদতে এটুকুই বলতে পেরেছিলেন বীণা কুমারী (২৮)। তার পরেই তিন তলার ছাদ থেকে পড়ে মৃত্যু হয় তাঁর। দিল্লির ইন্দ্রপুরীর সোমবারের এই ঘটনায় ব্যাপক শোরগোল পড়ে গিয়েছে। বীণার পরিবারের লোকজনের অভিযোগ, এটা কোনও দুর্ঘটনা নয়, তাঁদের মেয়েকে খুন করা হয়েছে। সরাসরি বীণার শ্বশুরবাড়ির লোকজনের দিকে আঙুল তুলেছেন তাঁরা। আরও অভিযোগ, পণের জন্যই এই করুণ পরিণতি।

    বীণার বাড়ি উত্তরপ্রদেশে। বছর তিনেক আগে রাজু সিংহের সঙ্গে বিয়ে হয় তাঁর। মাস ছয়েক আগে এক তাঁদের এক সন্তান হয়। তবে বিয়ের পর থেকেই অশান্তি শুরু হয়েছিল বলে অভিযোগ বীণার পরিবারের। তাঁদের অভিযোগ, স্বামী রাজু এবং দেওর রাজকুমার তাঁকে প্রায়ই কটাক্ষ করতেন। বীণার ভাইয়ের কথায়, ‘রাজু বলত, তোমার চেয়ে অনেক ভালো বউ আনতে পারতাম।’ আর দেওর বিয়ের সময়ে যৌতুকের জিনিসপত্র নিয়ে খোঁটা দিতেন বলে অভিযোগ। তাঁর কথায়, ‘রাজকুমার বলত, তোমার বাবা ৩৬ ইঞ্চির টিভি দিয়েছে। আর আমার স্ত্রীর বাপের বাড়ি থেকে ৪৬ ইঞ্চি টিভির সঙ্গে একটা মোটরবাইকও দিয়েছে।’

    বীণাকে মারধরও করা হতো বলে অভিযোগ। একবার রাজু এত জোরে চড় মেরেছিলেন, বীণার কানের পর্দা ফেটে যায় বলে অভিযোগ। তাঁদের দাবি, একটা বুলেট বাইকের জন্যও ঝোলাঝুলি করতেন রাজু। এই নিয়ে পুলিশে অভিযোগ দায়ের করার কথাও ভেবেছিলেন বীণার পরিবারের সদস্যরা। কিন্তু বীণাই রাজি হতেন না। তাঁর আশঙ্কা ছিল, তা হলে সংসার ভেঙে যাবে। কিন্তু গত সোমবার কাঁদতে কাঁদতে দিদি রীনাকে ফোন করেছিলেন বীণা। কোনও রকমে বলেন, ‘দিদি আমাকে বাঁচাও, ওরা খুব মারছে। আমি আর বাঁচব না। ওরা আমায় মেরে ফেলবে।’ নিজের ছ’মাসের সন্তানকেও দেখাশোনারর কথাও ফোনেই বলেছিলেন তিনি।

    এর পরেই ফোন কেটে যায়। রীনার দিদি তার পর একাধিক বার ফোন করেন। কিন্তু আর কেউ ফোন ধরেনি। ঠিক সাত মিনিট পরে রীনাকে ফোন করেন বীণার দেওর। সরাসরি বলেন, ‘বৌদি ছাদ থেকে পড়ে গিয়েছে।’ বীণাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও বাঁচানো যায়নি। পরে দীনদয়াল উপাধ্যায় হাসপাতালে তাঁর ময়নাতদন্ত হয়।

    শ্বশুরবাড়ির বিরুদ্ধে ইন্দ্রপুরী থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে বীণার পরিবারের পক্ষ থেকে। পশ্চিম দিল্লির ডেপুটি পুলিশ কমিশনার শরদ ভাস্কর বলেন, ‘এক মহিলা ছাদ থেকে পড়ে গিয়েছেন জানিয়ে রাতে পুলিশের কন্ট্রোল রুমে ফোন এসেছিল। হাসপাতালে নিয়ে গেলে তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক।’ এটা সত্যিই দুর্ঘটনা নাকি পরিকল্পিত খুন, খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

  • Link to this news (এই সময়)