• কোন্নগরে চলল বুলডোজ়ার, নিজে দাঁড়িয়ে থেকে অবৈধ টোল গেট ভেঙে গুঁড়িয়ে দিলেন বিধায়ক
    এই সময় | ২২ মে ২০২৬
  • কোন্নগর রেল স্টেশনের আন্ডারপাসেই ছিল টোল গেট। পুরসভা অনুমোদিত একটি সংস্থা এখানে নিয়মিত টাকা তুলত বলে অভিযোগ। সম্প্রতি সমস্ত অবৈধ টোলগেট বন্ধ করে দেওয়ার নির্দেশ জারি করেছিল রাজ্য সরকার। তার পরেই শুক্রবার নিজে দাঁড়িয়ে থেকে বুলডোজ়ার চালিয়ে টোল অফিস ভেঙে দিলেন উত্তরপাড়ার বিধায়ক দীপাঞ্জন চক্রবর্তী। এই ঘটনায় শোরগোল পড়ে গিয়েছে এলাকায়।

    ২০০০ সালে রেল ও রাজ্য সরকারের যৌথ ভাবে তৈরি করেছিল আন্ডারপাসটি। তবে জায়গাটি জেলা পরিষদের। দেখভালের জন্য তা দেওয়া হয়েছিল পুরসভাকে। ২০০৮ থেকে সেখানে টোল আদায়ের জন্য একটি সংস্থাকে বরাত দেয় পুরসভা। তার পর থেকে সেই নিয়ম চলে আসছে। চার চাকা গাড়ির কাছ থেকে টোল বাবদ ১০ টাকা থেকে শুরু করে ৫০ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হতো বলে অভিযোগ।

    উত্তরপাড়ার বিধায়ক নির্বাচিত হয়েই পুরসভার কাছ থেকে টোল আদায়ের অনুমতি সংক্রান্ত কাগজপত্র চেয়ে পাঠান দীপাঞ্জন। কিন্তু পুরসভা কিছু নথিই দেখাতে পারেনি বলে অভিযোগ তাঁর। সঙ্গে সঙ্গে পুলিশকে টোল আদায় বন্ধ করতে বলেন তিনি। এর পরেই এ দিন বুলডোজ়ার নিয়ে নিজেই পৌঁছে চান টোল গেটে। ভেঙে গুঁড়িয়ে দেন অফিস।

    কোন্নগরের এই টোল গেটের কোনও অনুমোদন ছিল না বলে অভিযোগ দীপাঞ্জনের। তিনি বলেন, ‘২০০৮ সালে লিজ দেওয়া হয়েছিল। তার পর থেকে আর অনুমোদনপত্র রিনিউ করা হয়নি।’ কোনও অবৈধ কাজ বরদাস্ত করা হবে না বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি। দীপাঞ্জনের কথায়, ‘উত্তরপাড়ায় এই শুরু হলো। বেআইনি পার্টি অফিস হোক বা বাড়ি, সবার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

    রাজ্য সরকার বেআইনি টোল প্লাজা, টোল গেট বন্ধের নির্দেশ দেওয়ার পরেই জেলা পরিষদের দ্বারস্থ হয়েছিল পুরসভা। কোন্নগর পুরসভার চেয়ারম্যান স্বপন দাসের কথায়, ‘জেলা পরিষদের কাছে আমরা জানতে চেয়েছিলাম, লিখিত কোনও নির্দেশ আছে কি না। কিন্ত এখনও আমরা কোনও নির্দেশ পাইনি।’ টোল আদায়ের একটা বড় অংশ পুরসভা পেত বলে দাবি করেছেন তিনি। স্বপন বলেন, ‘২০২২ সাল পর্যন্ত পুরসভা বছরে ১২ হাজার টাকা করে পেত। গত তিন বছরে সেটাকে ৫০ হাজার করেছি।’

  • Link to this news (এই সময়)