মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর আপ্তসহায়ক চন্দ্রনাথ রথ খুনের তদন্তে ফের বড় অগ্রগতি ঘটল। এবার বিহারের বক্সার কেন্দ্রীয় সংশোধনাগার থেকে এক বন্দিকে দিল্লিতে নিয়ে গিয়ে জেরা শুরু করেছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। ধৃতের নাম সঞ্জয় রাই। সে উত্তরপ্রদেশের দিলদারনগরের জমনিয়া এলাকার বাসিন্দা বলে জানা গিয়েছে। তদন্তকারীদের দাবি, চন্দ্রনাথ রথ হত্যাকাণ্ডে তার গুরুত্বপূর্ণ যোগসূত্র থাকতে পারে।
শুক্রবার আদালতের নির্দেশে দিল্লির সিবিআইয়ের একটি দল বক্সার জেল থেকে সঞ্জয় রাইকে নিজেদের হেফাজতে নেয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কেন্দ্রীয় সংশোধনাগারের সহকারী জেল সুপারিনটেনডেন্ট রাঘবেন্দ্র প্রতাপ সিং। তিনি জানিয়েছেন, এটি কলকাতা পুলিশের বিশেষ বাহিনীর অভিযান নয়, বরং দিল্লির সিবিআইয়ের বিশেষ দল আদালতের অনুমতি নিয়েই অভিযুক্তকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিয়ে গিয়েছে।
জেল কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গিয়েছে, সম্প্রতি রাজপুর থানার পুলিশ সঞ্জয় রাইকে গ্রেপ্তার করেছিল। উত্তরপ্রদেশ ও বিহার সীমান্তের শায়ের ঘাট এলাকা থেকে তাকে ধরা হয়। প্রথমে মদ্যপানের অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল বলে জানা যায়। পরে আদালতের নির্দেশে তাকে জেলে পাঠানো হয়।
তদন্তকারী সূত্রের দাবি, সঞ্জয় রাই পরিকল্পিতভাবেই নিজেকে ছোটখাটো অপরাধে গ্রেপ্তার করিয়ে পুলিশের নজর অন্যদিকে ঘোরানোর চেষ্টা করেছিল। সেই কারণেই মদ্যপানের অভিযোগে ইচ্ছাকৃতভাবে ধরা দিয়েছিল বলে সন্দেহ তদন্তকারীদের।
এই খুনের ঘটনায় ইতিমধ্যেই একাধিক গ্রেপ্তারি হয়েছে। এর আগে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের বিশেষ বাহিনী বিহারের বক্সার থেকে ভিকি মৌর্য ও ময়ঙ্ক মিশ্রকে গ্রেপ্তার করে। পাশাপাশি উত্তরপ্রদেশের বাসিন্দা ‘অটল’ নামের এক ব্যক্তিকেও আটক করা হয়েছিল। তাঁদের কলকাতায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।
উল্লেখ্য, গত ৪ মে রাজ্য বিধানসভার ফল প্রকাশের দু’দিন পর, ৬ মে রাতে মধ্যমগ্রামে বাড়ি ফেরার সময় দুষ্কৃতীদের গুলিতে নিহত হন চন্দ্রনাথ রথ। পুলিশ সূত্রে খবর, তাঁর গাড়ি লক্ষ্য করে আগে থেকে ওত পেতে ছিল হামলাকারীরা। গাড়ি ও মোটরবাইক দিয়ে রাস্তা আটকে খুব কাছ থেকে গুলি চালানো হয়।
চন্দ্রনাথের বুকে, পিঠে এবং মাথায় গুলি লাগে। হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। একই ঘটনায় গুরুতর আহত হন তাঁর গাড়ির চালক বুদ্ধদেব বেরা। তাঁর শরীরের একাধিক জায়গায় গুলি লাগে। পরে তাঁকে বাইপাস সংলগ্ন একটি বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়।
খুনের ধরন দেখে তদন্তকারীদের অনুমান, ঠান্ডা মাথায় দীর্ঘ পরিকল্পনা করেই এই হামলা চালানো হয়েছিল। এই ঘটনার পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী তৃণমূলের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছিলেন। যদিও তৃণমূল সেই অভিযোগ অস্বীকার করেছে। রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি হওয়া এই হত্যাকাণ্ডে ইতিমধ্যেই তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল।