• দিল্লিতে তৃণমূল বিধায়ক ঋতব্রতর সঙ্গে ‘হঠাৎ দেখা’ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর, কী কথা হল?
    প্রতিদিন | ২৩ মে ২০২৬
  • ভোটে ভরাডুবির পর থেকেই তৃণমূলের অন্দরে চড়ছে ‘বিদ্রোহে’র সুর। দলের অন্দরে দুর্নীতি, কিছু নেতার বাড়বাড়ন্ত নিয়ে যে সব তৃণমূল বিধায়ক সবচেয়ে বেশি সরব, তাদের মধ্যে অন্যতম ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই ঋতব্রতর সঙ্গে দিল্লিতে আচমকা দেখা হয়ে গেল মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর। ওই সাক্ষাৎ নিয়ে রাজনৈতিক মহলে ইতিমধ্যেই গুঞ্জন শুরু হয়ে গিয়েছে।

    সূত্রের খবর, শুক্রবার দুপুরে বঙ্গভবনে দুপুরের খাবার খেতে গিয়েছিলেন ঋতব্রত। ঘটনাচক্রে সেসময় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বঙ্গভবনেই ছিলেন। বিজেপির সদর দপ্তর থেকে ওই সময়ই বঙ্গভবনে যান মুখ্যমন্ত্রী। তৃণমূল বিধায়ককে দেখে সৌজন্য বিনিময় করেন তিনি। সামান্য সময়ের জন্য দু’জনের কথাও। সূত্রের খবর, মুখ্যমন্ত্রী ঋতব্রতকে ‘বিধায়ক সাহেব’ বলে সম্বোধন করেন। শুভেন্দু অধিকারী তাঁকে বলেন, “আমরা উন্নয়নের স্বার্থে বৈঠক ডাকব। আপনাদেরও ডাকব। আপনারা আসবেন।” তাতে ঋতব্রতও হেসে, ‘দেখব’ বলে প্রত্যুত্তর দেন।

    এ প্রসঙ্গে যোগাযোগ করা হলে ঋতব্রত বলেন, “এটা নিতান্তই আচমকা দেখা হয়ে যাওয়া। আমি দুপুরে সাংসদ হিসাবে প্রাপ্ত বাংলো এবং অন্যান্য কাগজপত্র জমা দিতে দিল্লি এসেছি। দুপুরের খাবার খেতে গিয়েছিলাম বঙ্গভবনে। সেসময় মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা হয়ে যায়। উনি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী। ৪০ সেকেন্ড কথা হয়েছে। এতে যদি কেউ গোপন বৈঠকের তত্ত্ব খুঁজে পায় পেতেই পারে।” উলুবেড়িয়া পূর্বের তৃণমূল বিধায়ক বলেন, “এরপর তো আমি দিল্লিতে এলে বঙ্গভবনেই উঠব। সেসময় অনেকের সঙ্গে দেখা হবে, তখনও কি এসব নিয়ে জল্পনা হবে?”

    আসলে ঋতব্রত দিন দুই আগেই দলের একাধিক সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন। দলের দুর্নীতিগ্রস্ত নেতাদের দায় তিনি নিতে রাজি নন বলে প্রকাশ্যে একপ্রকার বিস্ফোরণ ঘটান। এমনকী, দুর্নীতিগ্রস্তদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করার জন্য দলকে ১৫ দিনের ডেডলাইনও দিয়েছেন তিনি। এই পরিস্থিতিতে আচমকা মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে তাঁর সাক্ষাতে জল্পনা যে ছড়াবে, সেটাই স্বাভাবিক। যদিও তৃণমূল বিধায়কের স্পষ্ট কথা, এতে জল্পনার কোনও কারণ নেই।
  • Link to this news (প্রতিদিন)