প্রথমে ধরা পড়ে হেপাটাইটিস বি। সেই রোগ নিয়ে দীর্ঘদিন কাটানোর পর ধরা পড়ে এইচআইভি সংক্রমণ। এখানেই শেষ নয়। কালক্রমে শরীর এতটাই ভেঙে পড়তে থাকে দেখা যায় যকৃত একেবারেই শেষ পর্যায়ে পৌঁছে গিয়েছে। অবশেষে ধরা পড়ে লিভার ক্যানসারও। কিন্তু এহেন পরিস্থিতিতেও মৃত্যুকে নকআউট করে জীবনে ফিরলেন এক ৪২ বছরের যুবতী। সম্পূর্ণ যকৃত প্রতিস্থাপনের মাধ্যমেই সুস্থ হয়ে উঠলেন তিনি। প্রমাণ করে দিলেন ‘রাখে হরি মারে কে’।
পশ্চিম আফ্রিকার লাইবেরিয়ার বাসিন্দা ওই যুবতী ভারতে এসেছিলেন চিকিৎসার জন্য। জানা যায়, প্রবল জন্ডিসে ভুগছেন তিনি। যকৃতময় অস্বাভাবিক তরল। বাঁধিয়ে বসেছেন হেপাটেসেলুলার কার্সিনোমা। এটা হল একধরনের লিভার ক্যানসার। এতে যকৃতে অসংখ্য টিউমার তৈরি হয়ে যায়। গুরুগ্রামের পরশ হেলথে চিকিৎসা শুরু করার সময় চিকিৎসকরা অবাক হয়ে লক্ষ করেন একই সঙ্গে এইচআইভি, লিভার ফেলিওর, লিভার ক্যানসারে আক্রান্ত তিনি। এই পরিস্থিতিতে যকৃত প্রতিস্থাপন করা ছাড়া আর কোনও উপায় ছিল না তাঁদের।
অথচ এই প্রতিস্থাপন সহজ ছিল না। যাঁকে দাতা হিসেবে ওই যুবতী নিয়ে এসেছিলেন, তিনিও হেপাটাইটিস বি আক্রান্ত হওয়ায় তাঁর যকৃত নেওয়া যায়নি। পাশাপাশি টিউমার যাতে আরও বেড়ে না যায়, সেটাও খতিয়ে দেখা হচ্ছিল। এআইচআইভি ও হেপাটাইটিস বি সংক্রমণের হার কমিয়ে তাকে আপাত নিষ্ক্রিয় করে দিতে পারলে তবেই শল্য চিকিৎসা সম্ভব ছিল। শেষ পর্যন্ত ওই মহিলার ৫০ বছর বয়সি দাদা এগিয়ে আসেন। দেখা যায় তাঁর যকৃত থেকে প্রতিস্থাপন করা সম্ভব।
এরপর আর সমস্যা হয়নি। এবং রোগীও দ্রুত সুস্থ হয়ে ওঠেন। যদিও প্রথমে পাঁচদিন আইসিইউে রাখা হয় তাঁকে। এবং দুই সপ্তাহের মধ্যে ছেড়েও দেওয়া হয়। পরবর্তী তিনমাস ফলো আপের জন্য তাঁকে থাকতে হয়েছিল এদেশেই। এরপর তিনি লাইবেরিয়া ফিরে যান।