• আয়ের ঊর্ধ্বসীমা না মেনে বেআইনিভাবে সুবিধা ভোগ, বাতিল ৭ লক্ষের বেশি রেশন কার্ড
    প্রতিদিন | ২৩ মে ২০২৬
  • আম আদমি পার্টিকে সরিয়ে মসনদ দখল করার পরই দিল্লিতে রোহিঙ্গাদের খোঁজে চিরুনিতল্লাশি শুরু করেছিল বিজেপি সরকার। তারপর বেশ কিছু বসতি উচ্ছেদ, পুশব্যাকের মতো ঘটনা ঘটেছে। এবার রাজধানী জুড়ে রেশন ব্যবস্থার শুদ্ধিকরণ শুরু করেছে রেখা গুপ্তর সরকার। আর সেই প্রক্রিয়ার শুরুতেই বাদ পড়ল ৭ লক্ষের বেশি রেশন কার্ড।

    আসলে দিল্লিতে ১৩ বছর ধরে নতুন করে রেশন কার্ড দেওয়া বন্ধ ছিল। সেই প্রক্রিয়া নতুন করে শুরু করছে বিজেপি সরকার। তবে নতুন করে রেশন কার্ড ইস্যু শুরুর আগে পুরনো কার্ডগুলির অডিট করানো হয়েছে। সেই অডিটেই বাতিল হয়েছে ৭.৭২ লক্ষ অবৈধ রেশন কার্ড। মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্ত জানিয়েছেন, অডিট করার পর সরকার ৬ লক্ষ ৪৬ হাজার ১২৩টি এমন নাম পেয়েছে যাঁদের আয় সরকার নির্ধারিত সীমার উপরে। আরও প্রায় ৯৫ হাজার গ্রাহক ১ বছরের বেশি সময় রেশন নেননি। ৬ হাজারের বেশি মৃত ব্যক্তির রেশন কার্ডও সক্রিয় ছিল। সেই সব রেশন কার্ড বাতিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দিল্লি সরকার।

    আসলে রেশন পরিষেবার ক্ষেত্রে আয়ের সীমা রয়েছে। সেই ঊর্ধ্বসীমার উপরে যাঁদের আয় তারা রেশনের সব পরিষেবা পান না। আয়ের ভিত্তিতেই কী পরিমাণ খাদ্যশস্য পাবেন সেটা ঠিক হয়। দিল্লিতে অডিট করে দেখা গিয়েছে ওই ৬ লক্ষ ৪৬ হাজারের বেশি গ্রাহক বেআইনিভাবে আয়ের ঊর্ধ্বসীমা টপকে সুবিধা নিয়েছেন। তাই তাঁদের কার্ড বাতিল করা হয়েছে। একই সঙ্গে তিনি রেশন পরিষেবা পাওয়ার ক্ষেত্রে আয়ের সীমাও বাড়িয়েছেন। এতদিন দিল্লিতে রেশন পাওয়ার ক্ষেত্রে আয়ের ঊর্ধ্বসীমা ছিল ১.২ লক্ষ টাকা। অর্থাৎ কোনও পরিবারের আয় যদি বছরে ১.২ লক্ষ টাকা হয়, তবে তারা রেশন পাবেন। তবে গরিব মানুষদের সুবিধার জন্য এবার রাজ্য সরকার আয়ের ঊর্ধ্বসীমা বাড়িয়ে আড়াই লক্ষ টাকা করেছে।

    রেখা গুপ্ত জানিয়েছেন, এই যে সাড়ে সাত লক্ষের বেশি রেশন কার্ডের জায়গা ফাঁকা হল, সেগুলি পূরণ করা হবে। তাই ১৩ বছর পর নতুন করে রেশন পাওয়ার জন্য আবেদন করতে পারেন নতুন গ্রাহকরা। তবে গোটা প্রক্রিয়াই যে শুদ্ধিকরণের উদ্দেশে সেটাও স্পষ্ট করে দিয়েছেন তিনি।
  • Link to this news (প্রতিদিন)