• এবার গারুলিয়া পুরসভার ১১ তৃণমূল কাউন্সিলরের ইস্তফা, শিল্পাঞ্চলের পরিষেবা নিয়ে কী বললেন অর্জুন?
    প্রতিদিন | ২৩ মে ২০২৬
  • কাঁচরাপাড়া, হালিশহর, ভাটপাড়ার পর এবার গারুলিয়া। বারাকপুর শিল্পাঞ্চলে তৃণমূল পরিচালিত পুরসভাগুলিতে গণ ইস্তফার স্রোত আরও জোরালো হল শুক্রবার। এদিন গারুলিয়া পুরসভার ২১ জন কাউন্সিলরের মধ্যে ১১ জন একযোগে ইস্তফা দেন। ইস্তফাদাতাদের মধ্যে রয়েছেন ভাইস চেয়ারম্যান-সহ একাধিক চেয়ারম্যান ইন কাউন্সিল সদস্য। একই সঙ্গে নৈহাটি পুরসভাতেও সাংসদ পার্থ ভৌমিকের ভাই শেখর ভৌমিক-সহ তিন কাউন্সিলরের পদত্যাগের খবর সামনে এসেছে। ফলে শিল্পাঞ্চল জুড়ে তৃণমূলের পুর প্রশাসনে চাপ আরও বেড়েছে। এইসব পুরসভাগুলিতে কি এবার প্রশাসক বসানো হবে? নাকি পুরভোট হবে? সেই প্রশ্ন উঠেছে।

    সূত্রের খবর, গারুলিয়া পুরসভার চেয়ারম্যান-সহ আরও ছ’জন কাউন্সিলর আগামী সোমবার ইস্তফা দিতে পারেন। সেক্ষেত্রে পুরসভার ক্ষমতার সমীকরণ পুরোপুরি বদলে যেতে পারে বলেই রাজনৈতিক মহলের আশঙ্কা। বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর থেকেই শিল্পাঞ্চলের একাধিক পুরসভায় অস্বস্তি বাড়ছিল। দলীয় গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব, প্রশাসনিক অচলাবস্থা এবং নাগরিক পরিষেবা নিয়ে ক্ষোভ ক্রমশ প্রকাশ্যে আসতে শুরু করে। তারই মধ্যে গত মঙ্গলবার কাঁচরাপাড়া পুরসভায় ১৪ জন, বুধবার হালিশহর পুরসভায় ১৬ জন এবং বৃহস্পতিবার ভাটপাড়া পুরসভায় চেয়ারম্যান-সহ ৩০ জন কাউন্সিলরের গণইস্তফা রাজনৈতিক মহলে বড় ধাক্কা দেয়। তার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই গারুলিয়ায় নতুন করে ভাঙনের ছবি সামনে এল। 

    বিজেপি বিধায়ক অর্জুন সিং বলেন, “প্রথমে কাঁচরাপাড়া, তারপর হালিশহর, ভাটপাড়া, এবার গারুলিয়া—একের পর এক পুরসভায় কাউন্সিলররা কোনও চাপ ছাড়াই পদত্যাগ করছেন। একটা ক্রাইসিস তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে সরকার অবিলম্বে অ্যাডমিনিস্ট্রেটর বসাক। বিধায়ক হিসেবে আমরা সেই সুপারিশই করব।” ভাটপাড়া পুরসভার বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে অর্জুন সিংয়ের বক্তব্য, “বিধায়ক পবন সিং এবং রাজেশ কুমার দায়িত্ব নিয়ে এলাকার মানুষের পরিষেবা স্বাভাবিক রাখার বিষয়টি দেখবেন।”

    এদিকে, ইস্তফা প্রসঙ্গে নৈহাটি পুরসভার বিদায়ী চেয়ারম্যান ইন কাউন্সিল পার্থ প্রতিম দাশগুপ্ত বলেন, “আমাকে বিজেপির তরফে কেউ চাপ দেয়নি। আমি স্বেচ্ছায় ইস্তফা দিয়েছি। কারণ পুরসভা অচল, চেয়ারম্যান আসছেন না। এছাড়াও মানুষ আমাদের থেকে মুখ ফিরিয়েছে। তাই আমার মনে হয়েছে ইস্তফা দেওয়া উচিত।” তাঁর এই মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে। শিল্পাঞ্চল জুড়ে ধারাবাহিক এই গণইস্তফার ঘটনায় তৃণমূলের সাংগঠনিক ভিত ও পুর প্রশাসনের স্থায়িত্ব নিয়েও প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
  • Link to this news (প্রতিদিন)