তৃণমূল সরকারের আমলে সরকারি জমিতে হওয়ার কথা ছিল সরকারি বিল্ডিং। বেসরকারি এক সংস্থার সঙ্গে ৫০০ কোটি টাকার চুক্তিও হয়েছিল! কিন্তু কোনও কাজই সম্পূর্ণ হয়নি। জলের দরে পুরসভার ১৩ তলা পর্যন্ত বানানো বাড়িটি বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে! এমনই মারাত্মক অভিযোগ উঠেছে তৃণমূলের বিরুদ্ধে। এবার সেই অভিযোগ তুলল হাওড়া জেলা বিজেপি। বিগত সরকারের আমলে হাওড়ায় একাধিক সরকারি কাজ, প্রকল্পে দুর্নীতি হয়েছে বলে অভিযোগ বিজেপির।
হাওড়া পুরসভার পিছনে পুরসভার জমিতে হবে ২২ তলা বিল্ডিং। সেই বিল্ডিংয়ের বিভিন্ন তলায় থাকবে পুরসভার একাধিক দপ্তর, তেমন ছাদে হেলিপ্যাড। এছাড়াও কিছু বেসরকারি সংস্থার অফিসও থাকবে। ২০১৩ সাল থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত চলা তৃণমূল পরিচালিত বিগত হাওড়া পুরসভার পুরবোর্ড একটি বেসরকারি সংস্থার সঙ্গে ওই বিল্ডিং বানানোর জন্য এমনই একটি ৫০০ কোটি টাকার চুক্তি করেছিল। কিন্তু ওই বিল্ডিংয়ে পুরসভার দপ্তর করা কিংবা হেলিপ্যাড বানানো কিছুই হয়নি! জলের দরে হাওড়া পুরসভা ১৩তলা পর্যন্ত হওয়া বিল্ডিংটি বিক্রি করে দিয়েছে বলে অভিযোগ। এবার এমন অভিযোগ তুললে হাওড়া জেলা বিজেপি নেতৃত্ব।
হাওড়া জেলা বিজেপি নেতৃত্বের অভিযোগ, ২০১৭ সালে হওয়া এই চুক্তি অনুযায়ী কিছুই হয়নি। উল্টে পুরসভার এক বিঘা ১০ কাঠা ২ ছটাক জমিতে তৈরি হওয়া বিল্ডিং নিয়ে যে বেসরকারি সংস্থার সঙ্গে চুক্তি করেছিল, সেই সংস্থা একটি ট্রেড সেন্টার বানিয়ে নিয়েছে এখানে। হাওড়া পুরসভা জলের দরে ওই জমি ও বিল্ডিং বিক্রি করে দিয়েছে ওই বেসরকারি সংস্থাকে। এ নিয়ে হাওড়ার পুর প্রশাসক তথা জেলাশাসককে এই অভিযোগ জানিয়েছে বিজেপি। পাশাপাশি তারা দাবি করেছে, ওই জমি ও বিল্ডিং যত দ্রুত সম্ভব রাজ্য সরকার যেন হাতে নিয়ে পুরসভার কাজে ব্যবহার করে।
এই প্রসঙ্গে হাওড়া জেলার বিজেপির প্রাক্তন সভাপতি তথা দলের রাজ্য কমিটির সদস্য দেবাঞ্জল চট্টোপাধ্যায় বলেন, ‘‘হাওড়া পুরসভার তৃণমূলের বোর্ডের সঙ্গে ওই বেসরকারি সংস্থার চুক্তি হয়েছিলে ২২তলা বাণিজ্যিক বিল্ডিং হবে। এই বিল্ডিংয়ের মধ্যে ৬ থেকে ৯ তলা ও বিল্ডিংয়ের ১৯ থেকে ২২ তলায় পুরসভার কয়েকটি বিভাগ থাকবে। বাকি তলাগুলিতে কিছু বেসরকারি সংস্থার অফিস হবে। কিন্তু শেষপর্যন্ত বিল্ডিংটি ১৩তলা হয়। সেসব না করে পুরসভা পুরো বিল্ডিংটিই যে বেসরকারি সংস্থার সঙ্গে চুক্তি করেছিল, সেই সংস্থাকে জলের দরে বা অত্যন্ত কম মূল্যে বিক্রি করে দেয়। আর ওই সংস্থা বিল্ডিংটিকে একটি ট্রেড সেন্টার বানিয়ে নেয়। আমরা এই ঘটনার তদন্ত করার পাশাপাশি জেলাশাসকের কাছে আবেদন করেছি রাজ্য সরকার পুরসভার ওই জমি ও বিল্ডিং নিজেদের হাতে নিয়ে পুরসভার কাজে ব্যবহার করুক।’’
বিজেপির তোলা এই অভিযোগ, জেলা প্রশাসনের তরফে বিষয়টি খতিয়ে দেখার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। প্রসঙ্গত, এ বছরই ফেব্রুয়ারি মাসে পুরসভার জমিতে হওয়া এই ট্রেড সেন্টারের ১৩ তলার ছাদে যখন কাজ হচ্ছিল, তখন সেই ছাদ থেকে আচমকা একটি লোহার পাইপ পড়ে বিল্ডিংয়ের নীচে দাঁড়িয়ে থাকা মঙ্গলাহাটের দুই ব্যবসায়ীর মৃত্যু হয়েছিলো। এই ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছিল হাওড়ায়। তদন্তে নেমে পুলিশ নির্মাণকারীদের গ্রেপ্তারও করেছিল। তৃণমূলের তরফে এই বিষয়ে কোনও মন্তব্য করা হয়নি।