পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার উন্নয়নমূলক কাজের পর্যালোচনা সভায় হাজির বিরোধী তৃণমূল কংগ্রেসের বিধায়করাও। ওই সভা ডেকেছিলেন রাজ্যের পঞ্চায়েত ও গ্রামন্নয়ন দপ্তরের মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। শুক্রবারের বৈঠকে ডাকা হয়েছিল জেলার তৃণমূল কংগ্রেসের দুই বিধায়ককেও। সবাইকে নিয়েই উন্নয়নের পরিকল্পনা করা হচ্ছে বলেও জানিয়েছেন দিলীপ ঘোষ।
উন্নয়নমূলক কাজে কোনও রাজনৈতিক রং দেখা হবে না। সেই বার্তা আগেই দিয়েছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বিরোধী দলের বিধায়কদেরকেও সমান গুরুত্ব এবং সম্মান দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন তিনি। এই নীতি মেনেই কাজ করলেন রাজ্যের পঞ্চায়েত মন্ত্রী।
পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার ১৫টি বিধানসভার মধ্যে দু'টি বিধানসভায় জয়লাভ করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। কেশপুরে জিতেছেন শিউলি সাহা এবং খড়্গপুর গ্রামীণ আসনে জিতেছেন দীনেন রায়।
তৃণমূল কংগ্রেসের আমলে উন্নয়নমূলক পর্যালোচনা বৈঠকে ডাকা হতো না বিরোধী দলের বিধায়ক, সাংসদ বা প্রতিনিধিদের। সাংসদ থাকা দিলীপ ঘোষকে একটি বৈঠকে ডাকা হলেও, ওই বৈঠক শুরুর ঠিক আগেই তা বাতিল করে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু শুক্রবারের প্রশাসনিক বৈঠকে হাজির ছিলেন তৃণমূল কংগ্রেসের ওই দুই বিধায়কও।
কেন ডাকা হয়েছে ওই দু'জনকে তা জানিয়েছেন পঞ্চায়েত মন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘আগের সরকার কেবল একটি পার্টির বিধায়কদের নিয়ে মিটিং করত। আমরা নির্বাচিত সমস্ত বিধায়কদের ডেকেছি। তৃণমূল কংগ্রেসের দু'জন বিধায়ক পশ্চিম মেদিনীপুরে আছেন। তাঁরাও এসেছিলেন বৈঠকে। একটি সুস্থ পরিবেশে সবাই নিয়ে উন্নয়নের চিন্তা আমাদের সরকারের আছে।’ প্রশাসনিক বৈঠকে তৃণমূলের বিধায়কদের উপস্থিতি নিয়ে দিলীপ ঘোষ বলেন ‘আমরা কারোর সঙ্গে বিমাতৃসুলভ আচরণ করিনা। প্রত্যেকেই এলাকার সমস্যার কথা তুলে ধরেছেন। অন্য বিধায়কদের মটো তৃণমূলের বিধায়করাও বলার সুযোগ পেয়েছেন। তাঁরা তাঁদের এলাকার সমস্যার কথা বলেছেন। এলাকার মানুষ তাঁদের জিতিয়েছেন। মানুষের জন্য কাজ করতে হবে তাঁদেরকেও।’
জেলাশাসক দপ্তরে আয়োজিত ওই বৈঠকে উন্নয়নের কাজ কোথায় কতদূর এগিয়েছে, কোথায় কেন কাজ আটকে রয়েছে তা নিয়েও আলোচনা হয়। বিধায়করাও নিজেদের এলাকার বিভিন্ন সমস্যার কথা তুলে ধরেছেন।
শিউলি সাহা জানিয়ছেন, কেশপুরের ধলহারা গ্রাম পঞ্চায়েতে এবং ক্ষুদিরাম বসুর জন্মস্থান মোহবনিতে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে গড়ে তোলার প্রস্তাব দিয়েছেন তিনি। তবে দীনেন রায়কে মিটিংয়ে বলার সুযোগ দিলেও তিনি কিছু বলেননি বলেও জানা গিয়েছে।
বিধানসভা নির্বাচনের পরে এলাকা ছেড়ে পালিয়েছে অনেক পঞ্চায়েত প্রধান এবং সদস্য। ফলে সেখানে গিয়েছে উন্নয়নের কাজ। কী ভাবে এই সমস্যার সমাধান করা যায় তা নিয়েও আলোচনা হয়েছে ওই বৈঠকে।