• দুর্নীতির অভিযোগে জেলায় জেলায় অব্যাহত তৃণমূল নেতাদের গ্রেপ্তারি
    এই সময় | ২৩ মে ২০২৬
  • কোথাও দুর্নীতি এবং তোলাবাজির অভিযোগ। আবার কোথাও ভোট পরবর্তী হিংসার অভিযোগ। এই অভিযোগে রাজ্য জুড়ে অব্যাহত তৃণমূল কংগ্রেস নেতাদের গ্রেপ্তারি।

    বৃহস্পতিবার গ্রেপ্তার হয়েছেন একাধিক তৃণমূল কংগ্রেস নেতা। ধৃতদের মধ্যে আছেন তৃণমূল কংগ্রেসের ব্লক সভাপতি, পঞ্চায়েত সমিতির পূর্ত কর্মাধ্যক্ষ এবং কাউন্সিলাররা। একই জিনিস দেখা গিয়েছে শুক্রবারও।

    শুক্রবার গ্রেপ্তার করা হয়েছে বীরভূম জেলার ময়ূরেশ্বর ২ পঞ্চায়েত সমিতির সহ-সভাপতি জটিল মণ্ডলকে। তৃণমূল কংগ্রেসের বীরভূম জেলা কমিটির সদস্য তিনি। ষাটপলসার বাড়ি থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করেছে ময়ূরেশ্বর থানার পুলিশ। পুলিশ সূত্রে খবর, ২০২১ সালে ভোট পরবর্তী হিংসায় নাম ছিল জটিল মণ্ডলের।

    ২০২১-এর ভোট পরবর্তী হিংসা মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে উত্তর ২৪ পরগনা জেলার গাইঘাটার ইছাপুর ১ পঞ্চায়েতের উপ-প্রধান কার্তিক ঘোষ-কেও। বিজেপির কর্মী এবং সমর্থকদের হুমকি এবং মারধর ও শ্লীলতাহানির অভিযোগ উঠেছিল তাঁর বিরুদ্ধে। ইছাপুরের আমকোলার বাসিন্দা প্রকাশ ঘোষের স্ত্রীর অভিযোগের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার রাতে কার্তিক ঘোষ-কে গ্রেপ্তার করে গাইঘাটা থানার পুলিশ। আগেই তাঁকে গ্রেপ্তার করা উচিত ছিল বলে দাবি করেছেন এলাকার বিজেপি নেতা দেবব্রত ঘোষ। শুক্রবার তাঁকে বনগাঁ মহকুমা আদালতে তোলা হয়। বিদ্যালয়ের শিক্ষক প্রকাশ ঘোষকে মার খাওয়া সত্ত্বেও ২০ দিনের জন্য জেলে যেতে হয়েছিল। তাঁর পরিবারের অভিযোগ, বিজেপি করার অপরাধেই কার্তিক ঘোষ মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়ে দেন প্রকাশকে। যদিও কার্তিক ঘোষ এই ঘটনাকে পারিবারিক গন্ডগোল বলে উল্লেখ করেছেন।

    অন্য দিকে, ভয় দেখিয়ে এক ঠিকাদারের কাছ থেকে তোলা আদায়ের অভিযোগে তৃণমূলের এক নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে মুর্শিদাবাদ থানার পুলিশ। ধৃতের নাম সাজু মণ্ডল। তিনি ডাঙ্গাপাড়া অঞ্চল তৃণমূলের প্রাক্তন সভাপতি। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বৃহস্পতিবার গভীর রাতে মুর্শিদাবাদ থানার ডাঙ্গাপাড়া পঞ্চায়েতের হুলাসপুর গ্রামের বাড়ি থেকে সাজুকে গ্রেপ্তার করা হয়। শুক্রবার তাঁকে লালবাগ এসিজেএম আদালতে পাঠানো হলে বিচারক পাঁচ দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন। লালবাগের তৃণমূল নেত্রী শাওনী সিংহ রায় বলেন, ‘তোলা আদায়ের ঘটনা দল সমর্থন করে না। এখন কেউ যদি ওই ধরণের ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকে, তাহলে আইন আইনের মতো চলবে।’

    আর এক দিকে তোলা এবং কাটমানি আদায়ের অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা পরিষদের এক কর্মাধ্যক্ষকেও। সরকারি নির্মাণকাজ পাইয়ে দেওয়ার নামে ঠিকদারদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা আদায় করা হতো বলে অভিযোগ। এই অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা পরিষদের কর্মাধ্যক্ষ কৌশিক মাহাত-সহ তিন জনকে। শুক্রবার তাঁদের তোলা হয়েছিল আদালতে। ধৃতদের ১০ দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে বালুরঘাট জেলা আদালত।

    এদিনই গ্রেপ্তার করা হয়েছে কালনা এবং বিধাননগরের দুই তৃণমূল কাউন্সিলারকেও।

  • Link to this news (এই সময়)