• নাম বদলে দিলে কেন্দ্রের টাকা আসবে কী করে! শুভেন্দুর তোপে আগের সরকার
    এই সময় | ২৩ মে ২০২৬
  • এই সময়, নয়াদিল্লি: কেন্দ্রের নরেন্দ্র মোদী সরকারের বিরুদ্ধে রাজ্যের তৃণমূল যে ‘বঞ্চনা’র অভিযোগ তুলত, তার জন্য রাজ্যের পূর্বতন সরকারকেই নিশানা করলেন শুভেন্দু অধিকারী। মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পরে প্রথম দিল্লি সফরে গিয়ে বঙ্গভবনের সামনে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী। বিভিন্ন বিষয় নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাব দেওয়ার সময়ে সরাসরি কারও নাম না–করে তিনি বলেন, ‘শুধু ভাষণ দিলে হবে না, কাজ করতে হবে সাধারণ মানুষের জন্য৷ প্রধানমন্ত্রী অন্ন সুরক্ষাকে খাদ্যসাথী নাম দিয়ে আপনি কেন্দ্রীয় টাকা চান কী করে? আপনি নীল–সাদা রং পরিবর্তন করবেন না! প্রধানমন্ত্রী গ্রাম সড়ক যোজনাকে বাংলার গ্রাম সড়ক লিখলে টাকা দেবে কেন? বিশ্বকর্মা যোজনা, উজালা থ্রি আপনি কেন আটকে রেখেছিলেন? এই কারণেই বাংলার মানুষ সরকার পরিবর্তন করেছে৷’ কারও নাম না–করলেও শুভেন্দুর ইঙ্গিত প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দিকেই বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।আরও একগুচ্ছ ইস্যুতেও আগের তৃণমূল সরকারকে নিশানা করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর অভিযোগ, ‘সারা দেশে বিএনএস চালু হয়েছে, বাংলায় তা লাগু করা হয়নি আগে৷ বাংলায় জনগণনার কাজও শুরু করা হয়নি৷ এই জনগণনা রাষ্ট্রের কাজ, সেটাও আটকে রাখা হয়েছিল৷ বিএসএফকে জমি হস্তান্তর করা হয়নি৷ এই কাজগুলি আমরা প্রথমেই করেছি৷’

    এ বারের দিল্লি সফরে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর পাশাপাশি অমিত শাহ, রাজনাথ সিংয়ের মতো কেন্দ্রীয় মন্ত্রীদের পাশাপাশি বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি সভাপতি নীতিন নবীন এবং বাংলার দায়িত্বপ্রাপ্ত শীর্ষ নেতা সুনীল বনসলদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন তিনি। রাজ্য মন্ত্রিসভার সম্প্রসারণ প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, ‘দ্রুত করা হবে এই সম্প্রসারণ৷ রাজভবনে একটি তালিকা পাঠানো হবে৷ তারপরে রাজভবন থেকে শপথ গ্রহণের জন্য মনোনীত মন্ত্রীদের কাছে ফোন যাবে৷ রাজভবনে মন্ত্রীদের শপথগ্রহণ সরাসরি সম্প্রচার করা হবে৷ জনগণ তা দেখতে পাবেন৷ এটাই প্র্যাকটিস৷’ রাজ্য মন্ত্রিসভার সম্প্রসারণ নিয়ে দিল্লিতে বিজেপির শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে তাঁর আলোচনা হয়েছে আভাস দিলেও এ নিয়ে বিস্তারিত জানাননি মুখ্যমন্ত্রী৷

    এ দিনও অনুপ্রবেশ ইস্যুতে কড়া অবস্থানের কথা বলেন তিনি। শুভেন্দুর কথায়, ‘কেন্দ্রীয় সরকারের ঘোষিত অবস্থান মেনেই অনুপ্রবেশকারীদের প্রসঙ্গে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের নীতি হলো ডিটেক্ট, ডিলিট এবং ডিপোর্ট৷ এই তিনটি শব্দের বাইরে কোনও শব্দ নেই৷ ২০২৫–এর ১৪ মে কেন্দ্রীয় সরকার একটি আইন প্রণয়ন করেছে, দেশের সব রাজ্য তা গ্রহণ করেছে৷ শুধু পশ্চিমবঙ্গ সরকার তা মানেনি৷ আপনারাই বলুন, অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের ধরে জেলে পাঠানো উচিত, নাকি বিএসএফ-কে দিয়ে সীমান্তের ওপারে পাঠানো উচিত? জেলে (অনুপ্রবেশকারীদের) নিয়ে যাওয়া মানে খাবার দিতে হবে, কাপড় দিতে হবে, ওষুধ দিতে হবে৷ সাবান, তেলও দিতে হবে৷ সঙ্গে টুথপেস্ট, টুথব্রাশও দিতে হবে৷ কেন ভারত সরকারের রাজকোষের টাকা অনুপ্রবেশকারীদের জন্য ব্যবহার করা হবে? দেশের সব প্রদেশে আগেই অনুপ্রবেশকারীদের ডিপোর্ট করার রুল চালু হয়েছে৷ আমাদের রাজ্যেও তাই করা হবে৷ আমরা অনুপ্রবেশকারীদের জামাই আদর করব না৷’ তবে বাংলায় ডিটেনশন সেন্টার তৈরি নিয়ে বিরোধীরা যে অভিযোগ তুলেছে, তা ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দেন মুখ্যমন্ত্রী।

  • Link to this news (এই সময়)