• খরচ হ্রাসে ৬ ব্যবস্থা, ওয়ার্ক ফ্রম হোম চালু শিক্ষা দপ্তরে
    এই সময় | ২৩ মে ২০২৬
  • এই সময়: পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সংযম বার্তার পথ ধরেই পশ্চিমবঙ্গের বিজেপি সরকার খরচ কাটছাঁটের পরামর্শ দিয়েছিল রাজ্যের বিভিন্ন দপ্তরকে। প্রতিটি দপ্তরকে এর জন্য প্রস্তাব পাঠানোরও নির্দেশ দিয়েছিলেন রাজ্যের মুখ্যসচিব মনোজ আগরওয়াল। সেই নির্দেশ কার্যকর করে রাজ্যের শিক্ষা দপ্তরের সিনিয়র অফিসারদের ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’ চালু হয়ে যাচ্ছে। বৃহস্পতিবার বিকাশ ভবনের তরফে জারি করা নির্দেশ অনুযায়ী, খরচ কমানোর জন্য ছ’দফা ব্যবস্থা চালু করা হচ্ছে। রাজ্য সরকারের অন্যান্য দপ্তরও তাদের মতো করে খরচ কাটছাঁটের রূপরেখা তৈরি করছে বলে খবর।

    শিক্ষা দপ্তরের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী— নতুন কোনও নির্দেশ না–আসা পর্যন্ত সব মিটিং ভিডিয়ো কনফারেন্সের মাধ্যমেই করতে হবে। কোনও নথির বাড়তি ফটোকপি বা প্রিন্ট নেওয়া যাবে না। প্রতিটি ফাইল ই–অফিসের মাধ্যমে প্রসেস করতে হবে। অতি প্রয়োজনীয় নয়, এমন সব পরিবহণ কার পুলের মাধ্যমে করতে হবে। এর জন্য বিভাগের ডেপুটি সেক্রেটারিকে কার পুলের রস্টার তৈরি করতে বলা হয়েছে। শিক্ষা দপ্তরের সেক্রেটারিয়েট এবং ডিরেক্টরেট অফিসগুলিতে লিফট ও আলো–পাখার ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করতে বলা হয়েছে। সন্ধে ৭টার পরে অতি প্রয়োজনীয় নয়, এমন বিদ্যুতের ব্যবহার সব অফিসে বন্ধ করার নির্দেশও দিয়েছে বিকাশ ভবন। পাশাপাশি ওয়ার্ক ফ্রম হোম চালু করতে রস্টারও তৈরি করা হচ্ছে।

    যুদ্ধ আবহে জ্বালানির ভাঁড়ারে টানের প্রেক্ষিতে সংযমের প্রস্তাব প্রথম এসেছিল প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর কাছ থেকে। জ্বালানির খরচ কমানো, কার পুলের ব্যবহার বাড়ানো, যত দূর সম্ভব ওয়ার্ক ফ্রম হোম চালু করার মতো পদক্ষেপের বার্তা দিয়েছিলেন নমো। এমনকী, বেসরকারি সংস্থাগুলিকেও এক্ষেত্রে উৎসাহিত করার কথা বলা হয়েছিল। সেই আবেদনে সাড়া দিয়ে দিল্লি সরকার তাদের কর্মীদের জন্য সপ্তাহে দু’দিন ওয়ার্ক ফ্রম হোম চালু করেছে। রাজধানীর বেসরকারি সংস্থাগুলিকেও সপ্তাহে দু’দিন বাড়ি থেকে কাজ করার জন্য আবেদন করা হয়েছে। সেই পথে হাঁটতে শুরু করল শিক্ষা দপ্তর।

    তাদের নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, স্কুলশিক্ষা কমিশনার-সহ স্কুল শিক্ষা দপ্তরের একাধিক উচ্চ পদস্থ আধিকারিক বাড়ি থেকে কাজ করবেন পর্যায়ক্রমিক ভাবে। এর আসল কারণ গাড়ির ব্যবহার কমানো। তাই, কবে কোন আধিকারিক কার্যালয়ে আসবেন এবং কখন কোন গাড়ি বেরোবে, তার সুনির্দিষ্ট তালিকাও তৈরি করা হয়েছে। অফিসারদের দপ্তরে আনার জন্য ব্যক্তিগত গাড়ির ব্যবহার হয়। তাঁরা না এলে জ্বালানি ও তার খরচ বাঁচানো যাবে।

    যদিও এখনই সর্বস্তরের কর্মীদের জন্য বাড়ি থেকে কাজের নির্দেশ দেওয়া হয়নি। কারণ, সাধারণের কাজকর্ম যাতে ব্যাহত না হয়, সে দিকে নজর রাখতে হচ্ছে। আপাতত উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের জন্যই এই নিয়ম জারি করা হয়েছে। তাঁরা সব রকম ভাবেই বাড়ি থেকে কাজ করতে পারবেন। তবে প্রয়োজন হলে তাঁদের যে অফিসে ডেকে নেওয়া হতে পারে, তা–ও নির্দেশিকায় বলা হয়েছে।

  • Link to this news (এই সময়)